জাতীয় সংবাদ

গুমোট ঢামেকে স্বস্তির ঠিকানা সবুজ বাগান

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ আসন সংখ্যার দ্বিগুণেরও বেশি রোগী ভর্তি থাকেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে। ঢাকা শহরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন এই হাসপাতালে। ওয়ার্ড থেকে শুরু করে সিঁড়ির ফাঁকা জায়গা-হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে রোগীদের চিকিৎসা নিতে দেখা যায়। প্রতিদিনই এই হাসপাতালে যেমন রোগীর মৃত্যুর সংবাদ আসে, তেমনি গুরুতর অসুস্থ রোগীরা সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার সময় স্বজনদের চোখে দেখা যায় আনন্দাশ্রু। হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক পাখা থাকলেও প্রচ- গরম ও অতিরিক্ত রোগীর চাপে ভেতরে এক ধরনের গুমোট পরিবেশ বিরাজ করে। ফলে হাসপাতালের ভেতরে রোগীর সেবা করতে করতে ক্লান্ত স্বজনদের পাশাপাশি অনেক রোগীও একটু প্রশান্তির জন্য হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকের বাগানে সবুজে ঘেরা নানা ফুলের মাঝে কিছুক্ষণ বসে সময় কাটান। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই প্রশাসনিক ব্লক চত্বরের এই বাগান হাসপাতালের সৌন্দর্য বাড়িয়ে আসছে। বাগানটির চারপাশে রয়েছে অতি পুরোনো বড় বড় আমগাছসহ বিভিন্ন ফলদ বৃক্ষ। সবুজে ঘেরা এই বাগানে রয়েছে নানা ধরনের ফুল ও পাতাবাহার গাছ। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর হাসপাতালের রোগী ও স্বজনদের অনেককেই এই বাগানের আশপাশে বসে থাকতে দেখা যায়। প্রচ- গরম ও হাসপাতালের ব্যস্ত পরিবেশ থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে কেউ বেঞ্চে বসেন, আবার কেউ হাঁটাহাঁটি করেন। সন্ধ্যার পর দুই বছরের শিশু সন্তান নিহালকে নিয়ে বাগানে খুনসুটি করতে দেখা যায় মাজিদুলকে। তিনি বলেন, হাসপাতালের নতুন ভবনে তার বোন ভর্তি রয়েছেন। প্রচ- গরমের কারণে ভেতরে থাকা খুব অস্থির লাগে। এই বাগানের কথা জানতে পেরে সন্ধ্যায় সন্তানকে এখানে নিয়ে আসেন তিনি। মাজিদুল বলেন, ‘দারুণ জায়গা। জায়গাটা আসলেই খুব সুন্দর। নানা রকম ফুল ও সবুজে ঘেরা।’ এর মধ্যেই দেখা যায়, আরেক ব্যক্তি একটি শিশুর হাত ধরে বাগানের মাঝ দিয়ে হাঁটছেন। দেখে বোঝা যায়, বাবা তার সন্তানকে নিয়ে হাঁটছেন। দুই শিশুর বয়সই আনুমানিক দেড় থেকে দুই বছর। হাসপাতালের আরও অনেক রোগী ও স্বজনকে বাগানের বেঞ্চে বসে কিছুটা প্রশান্তি নেওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও নিয়ম মেনে রোগী ও স্বজনদের ক্লান্তি দূর করতে বাগানটি উন্মুক্ত রেখেছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সরকারি মালির মাধ্যমে নিয়মিতভাবে বাগানটির দেখভাল করা হয়। হাসপাতালের রোগী ও স্বজনেরা প্রচ- গরমের মধ্যে এখানে রাত পর্যন্ত বসে থাকেন। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা তাদের নিরাপত্তা দিয়ে থাকেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের চিন্তাভাবনা আছে, বাগানটি আরও সুন্দর করা হবে। চারপাশে বসার জন্য বেঞ্চ তৈরি করাসহ নানা ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই বাগানটি এর শোভা বাড়িয়ে আসছে। অনেক পুরোনো ফলদ বৃক্ষের পাশাপাশি গোলাপ, জবা, বেলি, কাঠগোলাপসহ প্রায় ৫০ ধরনের ফুলের গাছ রয়েছে এ বাগানে। অল্প পরিসরে হলেও এখানে একটি ভেষজ বাগান রয়েছে। রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ঔষধি গাছও। হাসপাতালের ব্যস্ততা, রোগীর চাপ ও গুমোট পরিবেশের মধ্যে প্রশাসনিক ব্লকের এই সবুজ বাগান যেন রোগী ও স্বজনদের জন্য সাময়িক স্বস্তির এক জায়গা। চিকিৎসার পাশাপাশি কিছুটা মানসিক প্রশান্তি পেতে প্রতিদিনই অনেকে এখানে এসে সময় কাটান।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button