প্রথম স্ত্রী ও শ্বশুর-শাশুড়িকে ফাঁসাতে বাবাকে হত্যা : ছেলের যাবজ্জীবন

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ প্রথম স্ত্রী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে ফাঁসাতে বাবাকে হত্যার দায়ে পলাশ হাওলাদার নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদ- দিয়েছেন আদালত। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বরিশালের মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. সোহেল আহমেদ এ রায় দেন। দ-প্রাপ্ত পলাশ হাওলাদার বরিশালের উজিরপুর উপজেলার পরমানন্দসাহা গ্রামের মৃত আলী আকবরের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় পলাশ পলাতক ছিলেন। মামলার বিবরণে বেঞ্চ সহকারী তুহিন মোল্লা জানান, প্রথম স্ত্রীকে বিয়ের এক বছর পর দ্বিতীয় বিয়ে করেন পলাশ। পরে দ্বিতীয় স্ত্রীকে ঘরে আনতে চাইলে বাবা আলী আকবর এতে বাধা দেন এবং প্রথম স্ত্রীকে সংসারে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান। এ নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এদিকে প্রথম স্ত্রীকে ভরণপোষণ না দেওয়ায় পলাশের বিরুদ্ধে মামলা করেন তিনি। ওই মামলায় পলাশ ১৭ দিন কারাগারে ছিলেন। জামিনে বের হয়ে প্রথম স্ত্রী, তার বাবা ও মাকে ফাঁসাতে পরিকল্পনা করেন পলাশ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০১০ সালের ২ মে রাতে কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে ঘর থেকে বাবা আলী আকবরকে ডেকে বের করেন তিনি। পরদিন বাড়ির পাশের ধানক্ষেত থেকে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় আলী আকবরকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় জখমের চিহ্ন ছিল। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কিছুক্ষণ পর মারা যান তিনি। এ ঘটনায় নিহতের বড়ো ছেলে শহিদ হাওলাদার বাদী হয়ে ভাই পলাশকে আসামি করে মামলা করেন। পুলিশ পলাশকে গ্রেপ্তার করে। পরে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন তিনি। ২০১১ সালের ২৫ মার্চ পলাশসহ তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় তৎকালীন উজিরপুর থানার ওসি সুকুমার রায়। মামলার বিচারকালে ১৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে বুধবার এ রায় ঘোষণা করেন আদালত। রায়ে অন্য দুই আসামি, একই গ্রামের ফারুক হাওলাদারের ছেলে কাওসার হাওলাদার ও করম আলী হাওলাদারের ছেলে মিজান হাওলাদারকে খালাস দেওয়া হয়েছে। পলাশ হাওলাদারকে যাবজ্জীবন কারাদ-ের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের কারাদ- ভোগ করতে হবে।



