কেন অভিজিৎ দীপকদের আটক করতে নারী পুলিশ পাঠাল মোদি সরকার?

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ ভারতের দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (আইজিআই) এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট অবতরণের পরই নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিমানটিতে ছিলেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। যন্তর মন্তরে দলের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিতে দিল্লিতে পৌঁছেছিলেন তারা। কিন্তু বিমান অবতরণের কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটির ভেতরে ঢুকে তিন নেতাকে আটক করে পুলিশ। তবে এ ঘটনায় সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে দিল্লি পুলিশের একটি পদক্ষেপ। তিন নেতাকে আটক করতে পুরুষ পুলিশের বদলে নারী পুলিশ সদস্যদের পাঠানো হয়। কেন এই কৌশল, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়। তবে পুলিশের আশঙ্কা থাকতে পারে, পুরুষ পুলিশ সদস্যরা অভিযান চালালে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বিমানের ভেতরে আসনগুলোর মাঝখানের পথ সরু, চলাফেরার জায়গাও সীমিত। সেখানে সামান্য ধাক্কাধাক্কি বা হাতাহাতি থেকেও বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতি এড়াতেই নারী পুলিশ সদস্যদের ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কয়েক দফা উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হলেও শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের গোলমাল ছাড়াই দীপকে ও তার দুই সহকর্মীকে আটক করা হয়। ২০ জুলাইয়ের ঘটনার স্মৃতি তখনও টাটকা। সে কারণেই দিল্লি পুলিশের এই ‘নারী পুলিশনির্ভর’ কৌশলকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সচেতন পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০ জুলাইয়ের ঘটনার প্রভাব পুলিশের কৌশলে? ২০ জুলাই পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের প্রতিবাদে সংসদের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় শিক্ষার্থী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনার পর পুরুষ পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে তরুণীদের মারধরের অভিযোগ তোলে সিজেপি। দলটির দাবি ছিল, মাত্র ১২ বছর বয়সি মেয়েদেরও মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে, ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে তাদের পোশাক। সিজেপির সমর্থকদের বড় অংশই তরুণ ও জেন-জি প্রজন্মের। ফলে দলের নেতাদের আটক করতে গিয়ে পুরুষ পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হলে তা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিতে পারত। নারী পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করে সেই ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যেভাবে বিমানের ভেতর থেকে আটক করা হয় তিন নেতাকে ঃ পুলিশ সদস্যরা বিমানে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই জানালার পাশে বসে থাকা অভিজিৎ দীপকে ভিডিও ধারণ করতে শুরু করেন। তার পাশের মাঝের আসনে ছিলেন সৌরভ দাস। দাসের পাশেই বসেছিলেন আশুতোষ রাঙ্কা। বিমানের ভেতর থেকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নারী পুলিশ সদস্যরা তিন নেতাকে ঘিরে রেখেছেন। আটক করার পদ্ধতি নিয়ে পুলিশের সঙ্গে প্রশ্ন তুলতে দেখা যায় দীপকেকে। তার বক্তব্য, বিমান থেকে নামার পরও তাদের আটক করা যেত। ভিডিওতে দীপকেকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, দেশ কোন দিকে যাচ্ছে। আমাদের সরাসরি বিমান থেকেই গ্রেফতার করতে এসেছে পুলিশ। এমন কাজ ইন্দিরা গান্ধীও করেননি। এটা একনায়কতন্ত্র।’ এরপর তিনি পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি গ্রেফতার হতেই এসেছি, আমাকে গ্রেফতার করুন।’ অন্যদিকে, নারী পুলিশ সদস্যদের বারবার দীপকে ও তার সঙ্গীদের সহযোগিতা করার অনুরোধ জানাতে দেখা যায়। পরে তিন নেতাকেই আটক করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। ‘কর্তৃত্ববাদী আটক’, পুলিশের বিরুদ্ধে সরব সিজেপি ঃ প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে ‘যন্তর মন্তর ২.০’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। দলের নেতাদের এভাবে বিমান থেকে আটক করার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সিজেপি। এই পদক্ষেপকে ‘কর্তৃত্ববাদী আটক’ বলে নিন্দা করেছে সংগঠনটি। তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে।



