আজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন : হারলে কি হবে ট্রাম্পের

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ যুক্তরাষ্ট্রের ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা অপেক্ষা করছে। শুধু আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তেই বাধা তৈরি হবে না, হোয়াইট হাউসের ভেতরেও শুরু হতে পারে বড় ধরনের রদবদল। এমনকি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের চাকরি হারানো কিংবা প্রশাসন থেকে সরে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। সিএনএনের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয় হলে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে কে দায় নেবেন, কাকে বরখাস্ত করা হবে এবং কারা নিজেরাই সরে যাবেন-তা নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের এক উপদেষ্টা সিএনএনকে বলেছেন, প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট-দুই কক্ষেই দলটি হারলে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা বলা কঠিন। তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র এসব আলোচনাকে ভিত্তিহীন জল্পনা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। সিএনএনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথসহ কয়েকজন মন্ত্রিসভার সদস্যও নতুন করে তদন্ত ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়তে পারেন। তাদের কেউ কেউ পদ ছাড়ার কথা ভাবতে পারেন। তবে জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটের দপ্তর পদত্যাগের জল্পনা নাকচ করেছে। হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলসসহ ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের অবস্থান নিয়েও প্রশাসনের ভেতরে আলোচনা চলছে। নির্বাচনের পর এসব রদবদলে হোয়াইট হাউসের ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে যেতে পারে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাম্পের প্রশাসনিক কাজেও বাধা বাড়বে। রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদ ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে গেলে তারা ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত, শুনানি ও সমন জারির ক্ষমতা পাবে। বড় ব্যবধানে জয় পেলে অভিশংসনের দাবিও জোরালো হতে পারে। তবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের নির্বাহী ক্ষমতা ও আইন আটকে দেওয়ার ভেটো ক্ষমতা বহাল থাকবে। সিনেটও ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে গেলে ট্রাম্পের বিচারক, মন্ত্রিসভার সদস্য ও রাষ্ট্রদূত নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় বাধা তৈরি হতে পারে। তবে দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হলেও ট্রাম্পের ভেটো ক্ষমতা এবং সিনেটের ৬০ ভোটের নিয়মের কারণে বড় আইন পাস করা সহজ হবে না। বাজেট ও সরকারি ঋণসীমা নিয়ে ২০২৭ সালে ওয়াশিংটনে অচলাবস্থা এবং সরকার অচল হয়ে পড়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সাধারণত ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের কাজের মূল্যায়ন হিসেবে দেখা হয়। ১৯৪৬ সালের পর থেকে মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের দল প্রতিনিধি পরিষদে গড়ে ২৬টির বেশি আসন হারিয়েছে। এবারও রিপাবলিকানদের জন্য সেই ঐতিহাসিক প্রবণতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। তবে নির্বাচনে হারলেই ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট পদ বা নির্বাহী ক্ষমতা চলে যাবে না। বরং কংগ্রেসে বিরোধীদের নিয়ন্ত্রণ বাড়বে, প্রশাসনের ওপর নজরদারি জোরদার হবে এবং নিজের দলের ভেতরেও ট্রাম্পকে নতুন চাপের মুখে পড়তে হতে পারে।



