সিরিজ জয়ের মঞ্চে মুশফিকের সাত হাজারের হাতছানি

প্রবাহ স্পোর্টস ডেস্ক ঃ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ডারউইনে প্রথম টেস্ট জিতে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। সামনে এখন সিরিজ জয়ের সুযোগ। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের মঞ্চেই নিজের ক্যারিয়ারের আরেকটি বড় মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে মুশফিকুর রহিম। ৭ হাজার টেস্ট রান থেকে মাত্র ১৫৮ রান দূরে বাংলাদেশের সবচেয়ে অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। ম্যাকাইয়ে সেটি ছুঁতে পারলে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে এই ক্লাবে নাম লেখাবেন তিনি। মুশফিকের টেস্টযাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৫ সালের ২৬ মে লর্ডসে। মাত্র ১৮ বছর বয়সে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে প্রথম ইনিংসে করেছিলেন ১৯ রান। সেই ম্যাচে বাংলাদেশ হেরেছিল ইনিংস ও ২৬১ রানে। ফলটা হতাশার হলেও লর্ডসের সেই ম্যাচ থেকেই শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটের অন্যতম দীর্ঘ টেস্ট ক্যারিয়ারের পথচলা। দেখতে দেখতে দুই দশকের বেশি সময় কেটে গেছে। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের অনেক উত্থান-পতনের সাক্ষী হয়েছেন মুশফিক। দলের অধিনায়ক হয়েছেন, উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়েছেন, পরে ব্যাটিংয়েই দিয়েছেন পুরো মনোযোগ। নিজের ব্যাটে গড়েছেন একের পর এক রেকর্ড। ২০২৫ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করে গড়েছেন বিশেষ কীর্তি। বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ১০০ টেস্ট খেলার পাশাপাশি শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করা বিরল ব্যাটারদের তালিকাতেও জায়গা করে নেন তিনি। এই মুহূর্তে ১০৪ টেস্টের ১৯১ ইনিংসে মুশফিকের রান ৬ হাজার ৮৪২। ৭ হাজারের মাইলফলক ছুঁতে প্রয়োজন আর ১৫৮ রান। শুধু মুশফিকের ক্যারিয়ারেই নয়, বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসেও এই মাইলফলকটি হবে বিশেষ এক অর্জন। কেননা দেশের আর কোনো ব্যাটার এখনো ৬ হাজার রান ছুঁতে পারেননি। ৫ হাজার ২১০ রান নিয়ে তালিকায় মুশফিকের পরেই আছেন মুমিনুল হক। এরপর তামিম ইকবাল ৫ হাজার ১৩৪, সাকিব আল হাসান ৪ হাজার ৬০৯ এবং লিটন দাস ৩ হাজার ৩৫৬ রান নিয়ে আছেন তালিকাতে। ৩৯ বছর বয়সী মুশফিকের টেস্ট গড় ৩৯.০৯। ১৪টি সেঞ্চুরির পাশাপাশি তাঁর নামের পাশে আছে ২৯টি ফিফটি ও তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি। ক্যারিয়ারসেরা অপরাজিত ২১৯ রানের ইনিংসটি খেলেছেন ২০১৮ সালে মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। একই মাঠে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ২০২০ সালেও দ্বিশতক হাঁকান এই ডানহাতি ব্যাটার। আর ২০১৩ সালে গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০০ রানের ইনিংস দিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির স্বাদ পান তিনি। অবশ্য ডারউনিই ছিল মাইলফলকে পৌঁছানোর সুযোগ। ওই ম্যাচে পাঁচ নম্বরে নেমে ৫৫ বলে ৩৬ রান করে প্যাট কামিন্সের বলে স্লিপে স্টিভ স্মিথের হাতে ক্যাচ দিয়েছিলেন তিনি। ফলে ম্যাকাইয়ে ৭ হাজারের মাইলফলক ছুঁতে হলে এক ইনিংসেই বড় রান করতে হবে, অথবা দুই ইনিংসে ধারাবাহিকভাবে রান তুলতে হবে। তবে মুশফিকের কাছে এখন আর নিজেকে প্রমাণ করার কিছু নেই। এমনটাই মনে করেন প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। এই বয়সেও মুশফিক যেভাবে ক্রিকেট উপভোগ করছেন, সেটিই বরং কোচকে বেশি আনন্দ দিচ্ছে, ‘সে দারুণভাবে উপভোগ করছে। মাঠেই তো দেখতে পাচ্ছেন। সে খেলতে পেরে দারুণ খুশি। একশর বেশি টেস্ট খেলেছে সে। এখন আর প্রমাণ করার কিছু নেই। আমি তাকে নিয়ে অনেক খুশি।’ সিমন্সের কথার পেছনে মুশফিকের পরিসংখ্যানও যথেষ্ট শক্তিশালী। শুধু দেশের মাটিতেই নয়, বিদেশেও বহুবার বাংলাদেশের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০২৪ সালের রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে ১৯১ রানের ইনিংস তার বড় উদাহরণ। সেই সিরিজ জিতেও ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ। চলতি বছর পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজেও ব্যাট হাতে ছিলেন দলের সেরা। চার ইনিংসে ২৫৩ রান করে হয়েছেন সিরিজসেরা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও মুশফিকের অভিজ্ঞতা আছে। ২০১৭ সালে দেশের মাটিতে চার ইনিংসে করেছিলেন ১৫৮ রান। তবে এবারই প্রথম অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলছেন তিনি। ডারউইনে প্রথম টেস্টে ৩৬ রানের বেশি করতে না পারলেও ম্যাকাইয়ে সেই আক্ষেপ ঘোচানোর সুযোগ থাকছে তাঁর সামনে। তবে কাজটা সহজ হবে না। সামনে প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজলউডের মতো বিশ্বমানের পেসার। ম্যাকাইয়ের উইকেটেও ডারউইনের চেয়ে বাড়তি বাউন্স পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন কঠিন কন্ডিশনেই মুশফিকের অভিজ্ঞতার বড় পরীক্ষা। ৭ হাজার রানের মাইলফলক আর বাংলাদেশের সিরিজ জয়ের হাতছানিÑম্যাকাইয়ে তাই তাঁর ব্যাটের দিকে আলাদা নজর থাকবেই।



