বিপিএল হচ্ছে না : তবে ক্ষতিপূরণ নিয়ে আশ্বস্ত কোয়াব

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) না হওয়ার বিষয়টি মোটামুটি নিশ্চিত। ফলে দেশের ক্রিকেটারদের সামনে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি। সেই ক্ষতি পুষিয়ে দিতে বিকল্প কী করা যায়, তা নিয়ে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বিপিএল না হওয়া এবং ক্রিকেটারদের বিকল্প সুযোগ নিয়ে আজ কোয়াবের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। বৈঠক শেষে কোয়াবের প্রতিনিধি হয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন ক্রিকেটার নাসির হোসেন। এক প্রশ্নের জবাবে নাসির বলেন, ‘ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সবসময়ই প্লেয়ারদের সঙ্গে ছিল এবং আছে। আমরা বিপিএল নিয়ে কথা বলছি, জানতে চেয়েছি কেন বিপিএল হবে না,? সেটা বোর্ড সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করেছে। বিপিএলের জায়গায় আমরা কী করলে প্লেয়ারদের জন্য ভালো হয়, তা নিয়ে আলোচনা করছি। কারণ বিপিএল না হলে প্লেয়াররা আর্থিক দিক থেকে সমস্যায় পড়বে। সেই ক্ষতি পুষিয়ে দিতে ক্রিকেট বোর্ড কী করতে পারে, আমরা এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি।’ বিপিএল বন্ধের সিদ্ধান্তের পর বিকল্প টুর্নামেন্ট আয়োজনের সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে। বিপিএলের প্রায় দেড় মাসের সময়জুড়ে ক্রিকেটারদের ব্যস্ত রাখার জন্য একটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের বিষয়ে কোয়াবের আগ্রহ রয়েছে। যদিও এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ প্রসঙ্গে নাসির বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন ধরনের খেলায় ব্যস্ত থাকব। বিপিএলের দেড় মাসে আমরা চাচ্ছিলাম একটি টুর্নামেন্ট হোক, তাহলে ভালো হতো। তবে টুর্নামেন্ট হবে কি না, এখনো চূড়ান্ত হয়নি। পরবর্তী মিটিংয়ে আপনারা পরিষ্কার হয়ে যাবেন, আমরা কোন দিকে যাচ্ছি, কী টুর্নামেন্ট হচ্ছে এবং প্লেয়ারদের জন্য কী ভালো হবে।’ ক্রিকেটারদের আর্থিক সুরক্ষা নিয়ে বিসিবির পক্ষ থেকে কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান নাসির। একই সঙ্গে কোয়াবের পক্ষ থেকেও কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বোর্ডকে। তবে কোনো বিষয়ই এখনো চূড়ান্ত নয়। এ জন্য দুই পক্ষকে আরও কয়েক দফা আলোচনায় বসতে হবে, ‘তারা আমাদের কিছু প্রস্তাব দিয়েছে এবং আমাদের এখান থেকেও কিছু প্রস্তাব এসেছে। তবে জিনিসটা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আমরা আবার পরবর্তী সময়ে বসব এবং এটা নিয়ে আলোচনা করব। আপাতত আমরা সন্তুষ্ট। আমরা যে প্রস্তাব দিয়েছি বা ক্রিকেট বোর্ড যা দিয়েছে, আমার বিশ্বাস পরবর্তী মিটিংয়ে এটার সমাধান হয়ে যাবে।’ বিসিবি ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে নতুন একটি মডেল দাঁড় করাতে চায় বলেও আলোচনায় এসেছে। ভবিষ্যতে পাঁচ থেকে দশ বছর পর দেশের ক্রিকেটাররা কোথায় দাঁড়াবেন, সেই বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে বোর্ড। নাসিরের দাবি, ক্রিকেটারদের সামনে যে প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে, সেটি খারাপ নয়, ‘যতটুকু বুঝলাম, ক্রিকেট বোর্ড প্লেয়ারদের ভালোর জন্য, ভবিষ্যতে ৫ থেকে ১০ বছর পর প্লেয়াররা কোন অবস্থানে থাকবে, সেটা নিয়েই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। আমাদের যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, আমার মনে হয় না সেটা খুব একটা খারাপ।’ সর্বশেষ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে এবার অনেক ক্রিকেটার প্রত্যাশিত পারিশ্রমিক পায়নি। এবার বিপিএল হচ্ছে না। সবমিলিয়ে ক্রিকেটারদের জন্য এটা অনেক বড় ধাক্কা। এ প্রসঙ্গে নাসির বলেন, ‘ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের দায়িত্ব ক্রিকেট বোর্ডের নয়। এটা ক্লাব এবং প্লেয়ারদের ব্যক্তিগত চুক্তির বিষয়। এটার দায়িত্ব সিসিডিএম বা ক্রিকেট বোর্ড নেবে না। প্লেয়ারদের অবশ্যই ক্ষতি হচ্ছে, তাই আমরা ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে কথা বলছি যেন তারা এই ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করে।’ বিপিএলের ভবিষ্যৎ সংস্কার নিয়েও আলোচনায় রয়েছে নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডারের বিষয়টি। নাসির মনে করেন, ক্রিকেটের একটি দীর্ঘমেয়াদি ক্যালেন্ডার থাকলে ক্রিকেটারদের জন্য পরিকল্পনা করা সহজ হবে, ‘অবশ্যই ক্যালেন্ডার হলে প্লেয়ারদের জন্য ভালো। আমরা জানতে পারব কখন, কোন মাসে কী খেলা বা টুর্নামেন্ট আছে। এটা হলে সব প্লেয়ারই একমত হবে এবং এটা খুব ভালো হবে।’ বিপিএল না হওয়ার বিষয়টি এখন প্রায় নিশ্চিত হলেও ক্রিকেটারদের আর্থিক ক্ষতি কীভাবে সামাল দেওয়া হবে, সেটি জানতে অপেক্ষা করতে হবে কোয়াব ও বিসিবির পরবর্তী বৈঠক পর্যন্ত। নাসিরও জানিয়েছেন, ক্রিকেটাররা এখন পর্যন্ত আলোচনায় মোটামুটি খুশি। তার বিশ্বাস, পরবর্তী বৈঠকেই একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে। তবে জানা গেছে বিপিএলের বদলে এনসিএল টি-টোয়েন্টি হওঢার জোড় সম্ভাবনা রয়েছে।



