বাগেরহাটের মোংলা বন্দরের কর্মচারী সংঘের (সিবিএ) অফিস জোর দখলের অভিযোগ

# স্বাভাবিক কাজে অস্থিরতা #
বাগেরহাট প্রতিনিধি ঃ বাগেরহাটের মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মচারী সংঘের (সিবিএ) অফিস ভবন জোর দখল করার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সাধারণ কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। স্বাভাবিক কাজে চরম অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছে। যা নিয়ে যে কোন সময় পরিস্থিতি আরো অবনতির দিকে পারে বলে আশংকা দেখা দিয়েছে। বন্দরের সাধারণ কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্মচারী সংঘ (রেজিঃ নং খুলনা/ ১৯৫৭) মোংলা বন্দরে চাকরিজীবি শ্রমিক কর্মচারীদের সিবি-এ প্রতিষ্ঠান। ৮ শতাধিক শ্রমিক কর্মচারী এ সংগঠনের সদস্য। গত ২০২১ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংগঠনটির দ্বি-বার্ষিক সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর এর মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও আদালতে মামলাসহ নানা জটিলতার কারনে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। সর্বশেষ রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে সংগঠনটিতে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ অবস্থার মধ্যে গত সোমবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে বন্দরের জুনিয়র অফিসার ও সাবেক সিবিএ সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফিরোজ নেতৃত্ব দিয়ে তার অনুসারীদের নিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় সিবিএ অফিস দখল করে নেয়। এরপর সে বর্তমান নির্বাহী পরিষদের নেতৃবৃন্দকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি ধামকী প্রদান করেন। এ সময় ফিরোজ তার সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে সিবিএ অফিসে ঘন্টাখানেক অবস্থান করে উচ্চস্বরে নিজেকে ওই সংগঠনের আহবায়ক হিসেবে দাবি করেন। এক পর্যায়ে সে সাধারণ সম্পাদকের জন্য নির্ধারিত চেয়ারে বসে তার অনুসারীদের নিয়ে একটি কথিত সভা করেন। ফিরোজের এমন আচারণে সিবিএর বর্তমান নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ কর্মচারীগণ ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় বর্তমান সিবিএর পক্ষ থেকে সোমবার মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছে এক চিঠিতে এসব বিষয়ে অভিযোগ করে বলা হয়েছে, জুনিয়র অফিসার ফিরোজ তাঁর বর্তমান কর্মস্থল সিভিল ও হাইড্রোলিক বিভাগে নিয়মিত অফিস করেন না। অফিস চলাকালীন সময়ে সে নিজ দায়িত্ব পালন না করে প্রায় সময় তার উচ্ছৃংখল সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে নিজ ব্যবহৃত বিলাশ বহুল “টয়োটা এলিয়ন” গাড়ীসহ অফিস চত্বর এলাকায় অযথা ঘোরাঘুরি করেন। ফলে অফিসে স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্টসহ আইন শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। ওই চিঠিতে আরো বলা হয়, ফিরোজের বিভিন্ন অনৈতিক বেআইনী কর্মকান্ড ও অফিস শৃংখলা পরিপন্থী কাজ করার কারণে বিভিন্ন সময়ে বন্দর কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে কোন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় তিনি দিনদিন বেপোরোয়া হয়ে উঠেছেন। ফিরোজের এসব অবৈধ ও বেআইনী কর্মকান্ড থেকে বিরত করা না হলে ভবিষ্যতে মোংলা বন্দর অস্থিতিশীল ও অপ্রীতিকর ঘটনার আশংকা প্রকাশ করে ওই আবেদনে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে চেয়ারম্যানের কাছে দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগ বিষয়ে জুনিয়র কর্মকর্তা মোঃ ফিরোজ বলেন ওই অভিযোগ সঠিক নয়। কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় সাধারণ কর্মচারীরা সভা করে তাকে আহবায়ক বানিয়েছেন। বিধি অনুযায়ী তিনি সিবিএ অফিসে সভা করতে গেলে উদ্ভুদ পরিস্থিতিতে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ তাদের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশনা দিলে তারা তা পালন করেন। এ বিষয়ে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও সদস্য (হারবার ও মেরিন) ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ কিবরিয়া হক জুনিয়র অফিসার ফিরোজের বিরুদ্ধে বর্তমান সিবিএ নেতৃবৃন্দের দেয়া অফিস দখলসহ অন্যান্য অভিযোগ প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্তশেষে পরবর্ত্তি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। অপরদিকে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্মচারী সংঘের (সিবিএ) সাধারণ সম্পাদক খুরশিদ আলম পল্টুকে খুলনা মহানগরীর খালিশপুর থানা পুলিশ গত সোমবার সন্ধ্যায় গ্রেফতার করেছে। বিএনপি অফিস ভাংচুর করা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। খুরশিদ আলম পল্টু মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষে হারবার কনজারভেন্সী বিভাগে শিল্প মুভমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে কর্মরত রয়েছেন।



