সরকারের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করছে মধ্যবর্তী নির্বাচন প্রয়োজন কিনা : নাহিদ ইসলাম

প্রবাহ রিপোর্ট : মধ্যবর্তী নির্বাচন দরকার হতে পারে জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচন হলে নাকি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে। কিন্তু এখন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কয়েকগুণ বেশি অবনতি ঘটেছে। আপনারা আপনাদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করেন। আপনাদের পারফরম্যান্স এর ওপর নির্ভর করবে, মধ্যবর্তী নির্বাচন প্রয়োজন হবে কিনা। বাংলাদেশের জনগণের ভোগান্তি দেখতে চাই না। কোনো পরাশক্তির কাছে দেশের বন্ধক রাখা দেখতে চাই না।
শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর তোপখানা রোডের বিএমএ ভবন মিলনায়তনে জাতীয় যুবশক্তির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ‘তারুণ্যের ঐক্য : নতুন বাংলাদেশের শক্তি’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, সারাদেশে হামের প্রকোপ চলছে। চারশর বেশি শিশু মারা গেছে। সরকারকে ব্যর্থতার দায় নিতে হবে। সরকার হাম মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়েছে। অতিসত্ত্বর মেডিকেল ইমার্জেন্সি ঘোষণা করতে হবে। কয়েকটি হাসপাতালকে হামের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল করতে হবে। সরকার এর ওর ওপর দায় চাপিয়ে বাঁচতে চাচ্ছে। কারো দায় থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। সংস্কার কার্যক্রমের সঙ্গে, জনগণের সঙ্গে বর্তমান সরকার বিশ্বাসঘাতকতা করেছে উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, সরকার গণভোটের রায় প্রত্যাখ্যান করেছে। সব গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল করেছে। যুবকদের জন্য দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারেনি। এক কোটি কর্মসংস্থান-এর কিছুই আমরা দেখতে পাচ্ছি না।
ফারাক্কা দিবসে মওলানা ভাসানীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, অভিন্ন প্রায় সবগুলো নদীতে বাঁধ নির্মাণ করে পানি প্রত্যাহার করছে ভারত। স্বাধীনতার পর থেকেই আমাদের পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত করছে। এবছর গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি শেষ হচ্ছে। আমরা নতুন চুক্তিতে আমাদের পানির ন্যায্য হিস্যা দেখতে চাই। আমরা দেখতে চাই, নতুন সরকার ভারতীয় আধিপত্যের বাইরে গিয়ে আমাদের পানির অধিকার নিশ্চিত করতে পারে কিনা। নাকি আওয়ামী লীগের মতো নতজানু চুক্তি করে।
সীমান্ত হত্যা নিয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, বাংলাদেশ ভারত সীমান্ত পৃথিবীর সবচেয়ে রক্তাক্ত সীমান্ত। আমাদের হাজারের বেশি নাগরিক ভারতীয় বাহিনী হত্যা করেছে। মওলানা ভাসানী ফারাক্কা লং মার্চ করেছিলেন। যদি প্রয়োজন হয়, আমরা সীমান্ত লংমার্চের ঘোষণা দেবো। বাংলাদেশের সীমান্ত আমরা নিরাপদ করবো। আমাদের পানির হিস্যা আমরা আদায় করবো। আমাদের সার্বভৌমত্ব আমরা নিরাপদ রাখবো।
বাংলাদেশ কোনো পরাশক্তির প্লে গ্রাউন্ড হবে না উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, বর্তমান সরকার কোথায় মাথা বন্ধক রেখে ক্ষমতায় এসেছে, আমরা এখনো স্পষ্ট নয়। বাংলাদেশকে আমরা কোনো পরাশক্তির প্লে গ্রাউন্ড হিসেবে দেখতে চাই না। আমাদের পররাষ্ট্রনীতি আমাদের জনগণের পক্ষে তৈরি হবে। এক দল আগে ভারতের মুখাপেক্ষী ছিল। এখন সরকার অন্য কোনো পরাশক্তির মুখাপেক্ষী হয়ে দেশ পরিচালনা করবে এটা এদেশের জনগণ মেনে নেবে না। কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জ্বালানি চুক্তি করা হয়েছে। অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের শেষ সময়ে বাণিজ্য চুক্তি করা হয়েছে। এসব জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে হবে। সরকারি দল বিরোধী দল আলাপ আলোচনা করে এ ধরনের চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে। এই চুক্তিগুলো অসম চুক্তি কিনা, জনগণের স্বার্থ সুরক্ষিত হয়েছে কিনা তা জনগণের সামনে উন্মুক্ত করতে হবে।
সরকারকে বিরোধী দল সহায়তা করতে চেয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা সরকারকে সহযোগিতা করতে চেয়েছি। কিন্তু সরকার সে পথ বন্ধ করে দিয়েছে। সংসদের প্রথম অধিবেশন ব্যর্থ করে দিয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জিয়াউর রহমানের সন্তান। রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান যতটা সফল ছিলেন, তারেক রহমান ততটা ব্যর্থ হওয়ার পথে। পিআর দিয়ে দেশ চলে না। কোনো পরাশক্তির লেজ ধরে দেশ পরিচালনা করতে পারবেন না। রাজনৈতিকভাবে পরিচালনা করতে হবে। পিআর স্ট্র্যাটেজিস্ট হতে চাইলে, নাটক করেন, সিনেমা করেন, থিয়েটারে যান। দেশ চালানোর প্রয়োজন নেই। মানুষ এসব বোঝে। মানুষের সঙ্গে তামাশা হচ্ছে। দলের ক্যাশিয়ারদের মন্ত্রী করা হয়েছে। তাদের বাদ দিয়ে ভালো মানুষদের হাতে দায়িত্ব দিন।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান নিয়ে নাহিদ বলেন, সীমান্তে হিন্দুত্ববাদের উত্থান ঘটেছে। বাংলাদেশে পুশ ইন করছে। বাংলাদেশ নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। এই সরকারের পক্ষে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব টিকিয়ে রাখতে পারবে না।
বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ-এর মিছিল এর কথা উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, বিভিন্ন জায়গায় ফ্যাসিবাদীরা মিছিল করছে। কাদের ছত্রছায়ায় আওয়ামী লীগ মিছিল করছে আমরা জানতে চাই। আমরা এজন্য সরকার এবং প্রশাসনকে জবাবদিহি করবো। জুলাই যোদ্ধা কারিনা কায়সার মারা গেছেন। ফ্যাসিবাদীরা এতে উল্লাস করছে। আমরা তাদের সঙ্গে হাদি ভাইয়ের মতো ইনসাফ চাই। কিন্তু আমরা এই বুনো উল্লাস মনে রাখবো।
জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে, সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল আমিনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।



