সম্পাদকীয়

পুনর্ব্যবহারে গুরুত্ব দিতে হবে

প্লাস্টিক দূষণ কমছে না

বাংলাদেশে বছরে ৩১৫ কোটি থেকে ৩৮৪ কোটি পর্যন্ত প্লাস্টিক বোতল ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে মাত্র ২১.৪ শতাংশ রিসাইকল করা হয়। বাকি ৭৮.৬ শতাংশ পরিত্যক্ত বোতল নদী, সাগরসহ প্রকৃতির ক্ষতি করছে বলে একটি গবেষণা প্রতিবেদনে থেকে জানা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বোতল থেকে নির্গত রাসায়নিক; যেমন- বিসফেনল, এটি গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি, শরীরের হরমোন সিস্টেমে বিঘœ এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে শুরু করে ক্যান্সারের আশঙ্কা তৈরি করে। শুধু প্লাস্টিকের বোতল নয়, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যাগ, প্যাকেজিং দ্রব্য, পাত্রের প্রচুর ব্যবহার রয়েছে। অন্য এক গবেষণা প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০০৫ সালে দেশের শহরাঞ্চলে বছরে মাথাপিছু প্লাস্টিকের ব্যবহার ছিল তিন কেজি, ২০২০ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯ কেজিতে। বর্তমানে রাজধানীতে গড়ে একজন মানুষ বছরে ২৪ কেজি প্লাস্টিক ব্যবহার করে। মানুষ এসবের ক্ষতিকারকতা নিয়েও যথেষ্ট সচেতন নয়। এসব প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহারের পর যেখানে-সেখানে ফেলে দেওয়া হয়। শহরাঞ্চলে রাস্তাঘাটের পাশে বা দুই বাড়ির মধ্যবর্তী স্থানে পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের স্তূপ দেখা যায়। বৃষ্টির পানি এসব ধুয়ে নিয়ে ড্রেন বা নালা-নর্দমায় জমা করে। শহরে ব্যাপক জলাবদ্ধতার প্রধান কারণও এটি। ক্রমে এটি মাটির নিচে চাপা পড়ে। ভূগর্ভে পানি প্রবেশ ব্যাহত করে। কৃষিজমির উর্বরতা হ্রাস করে। আর মাইক্রোপ্লাস্টিক সরাসরি মানবস্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। খাদ্যদ্রবকে দূষিত করে। অথচ মিনারেল ওয়াটার, জুস, কোমল পানীয় ইত্যাদির কারণে প্লাস্টিক বোতলের ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলেছে। উন্নত দেশগুলোতে প্রধানত দুইভাবে প্লাস্টিক দূষণ কমানোর চেষ্টা করা হয়। এক. উৎপাদন ও ব্যবহার কমিয়ে; দুই. ব্যবহৃত প্লাস্টিক সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে। বাংলাদেশে বর্তমানে উৎপাদন ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে, কিন্তু রিসাইক্লিং বা পুনর্ব্যবহার এখনো জোরদার করা হয়নি। এটি জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি প্লাস্টিক বোতলের পরিবেশসম্মত বিকল্প ব্যবহারকে উৎসাহিত করতে হবে। মনে রাখতে হবে, প্লাস্টিক মানবস্বাস্থ্যের ক্ষতির পাশাপাশি মানবজাতির জন্য দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করছে, ধ্বংস করছে আমাদের বসবাসযোগ্য একমাত্র গ্রহটি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button