চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে শান্তির নগরী খুলনা!

# অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত ইজিবাইকের দাপোট #
# কেসিসির ৯৯৭৬ টি বৈধ লাইসেন্সের বিপরীতে চলছে ৩০ হাজার অধিক অবৈধ ইজিবাইক
# অবৈধ ইজিবাইকের অবাধ বিচরনে বাড়ছে যানজট ও ভোগান্তি, কেসিসি হারাচ্ছে মোটা অংঙ্কের রাজস্ব
# নগরবাসীর অভিযোগ : পুলিশের নির্বিকার ও নড়বড়ে ভূমিকায় শহরে অবৈধ ইজিবাইকের অবাধ বিচরণ
# সুশীল সমাজের প্রশ্ন : কার ইশারায়, কোন সুবিধায় চলছে এই অবৈধ ইজিবাইক ?
মো. আশিকুর রহমান ঃ প্রায় পনের লক্ষ জনসংখ্যা ও ৪৫.৬৫ বর্গ কিলোমিটারের শান্তিপ্রিয় ও বসবাসযোগ্য খুলনা মহানগরী এখন অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত ইজিবাইকের রোষানলে পড়ে বসবাস ও স্বাভাবিক চলাচলের অযোগ্য হয়ে উঠেছে। বিগত ২০১০ সালে খুলনা মহানগরী এলাকায় পরিবেশবান্ধব, শব্দবিহীন ও স্বল্প খরচের ব্যাটারিচালিত ক্ষুদ্র যানটি নগরবাসীর ছুটে চলাকে সহজলভ্য ও আরামদায়ক করে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও সেদিনের সেই ক্ষুদ্র যানটি বর্তমান সময়ে নগরবাসীর গলার কাঁটা, দুর্ভোগ ও অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি চালনার ক্ষেত্রে রুট পারমিট, ট্যাক্স কোটেন, ড্রাইভিং লাইসেন্স বাধ্যতামূলক না হওয়ায় মহানগরী এলাকায় অনিয়ন্ত্রিত হারে বিস্তার লাভ করে। যে কারণে খুলনা মহানগরী এলাকার বর্তমানে অন্যতম প্রধান গণপরিবহন হিসাবে এটি দৃশ্যমান হচ্ছে, যার অধিকাংশই অবৈধ। অবৈধ এ যানবাহনের ট্রাফিক আইন বা নিয়মবহির্ভূত বেপরোয়া চলাচলে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দূর্ঘটনা ঘটছে। তাছাড়া নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলিতে এদের অবাধ বিচরণে একদিকে সৃষ্টি করছে যানজট, অন্যদিকে খুলনা সিটি কর্পোরেশন হারাচ্ছে মোটা অঙ্কের রাজস্ব।
কেসিসির সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তৎকালীন মেয়র ও কাউন্সিলরগণ খুলনা মহানগরী এলাকার সড়কগুলোর সার্বিক আয়তন ও অবস্থান এবং স্বাভাবিকভাবে চলাচলের কথা বিবেচনা করে মহানগরী এলাকায় ১০ হাজার ইজিবাইকের লাইসেন্স প্রদান করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ভোটার আইডি কার্ড ও যাবতীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে কেসিসি ৭ হাজার ৮৮০টি যাত্রীবাহী ও ২০৯৬টি পণ্যবাহী ইজিবাইকের লাইসেন্স প্রদান করে। কেসিসির খাতা-কলমে লাইসেন্সপ্রাপ্ত বৈধ ইজিবাইকের মোট সংখ্যা ৯ হাজার ৯৭৬ টি হলেও বর্তমানে খুলনা মহানগরীতে অবৈধ ইজিবাইকের সংখ্যা ৩০ হাজারের অধিক বলে জানিয়েছেন একাধিক ইজিবাইক চালক ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেসিসির কর্মকর্তা। কেসিসি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২ হাজার টাকা নবায়ন ফি হিসেবে বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত ইজিবাইক থেকে রাজস্ব আদায় করেছে ১ কোটি ৯৯ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। বিপরীতে মহানগরী এলাকায় দাঁপিয়ে বেড়ানো অবৈধ ইজিবাইকগুলোকে লাইসেন্সের আতওায় আনা হলে কেসিসি রাজস্ব পেত প্রায় ৬ কোটি টাকা। বিপুল সংখ্যক ইজিবাইক লাইসেন্সবিহীন হওয়ায় কেসিসি মোটা অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে।
কেসিসি সংশ্লিষ্ট সূত্র আরো বলছে, বর্তমান সরকার খুলনা মহানগরীতে ইজিবাইকের নতুন লাইসেন্স প্রদান করবে কি-না এবং প্রদান করলে তার সংখ্যা কত হবে, এ সকল বিষয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে, দ্রুতই একটা সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে আর কেসিসিও সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।” খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপির) ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মহানগরীতে মোট ২৪টি ট্রাফিক পয়েন্টে দুই শিফট-এ প্রায় ৬০ জন সার্জেন্টসহ ২৮০ জন ট্রাফিক সদস্যরা শহরের শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং অবৈধ যানবাহন চলাচলরোধে নিরলসভাবে কাজ করছেন। তাছাড়াও প্রতিদিনই অবৈধ ইজিবাইক আটক ও জরিমানা করা হচ্ছে।
সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ প্রশ্ন ছুঁড়েছেন, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত ইজিবাইক ছাড়াও কেএমপির ট্র্রাফিক বিভাগের সামনে দিয়ে বুক ফুলিয়ে দাঁপিয়ে বেড়ানো ৩০ হাজারের অধিক অবৈধ ইজিবাইক কার ইশারায়, কোন সিন্ডিকেটের যোগসাজস ও নিয়ন্ত্রনে খুলনা মহানগরীর ৮ টি প্রবেশদ্বার দিয়ে শহরের ভেতরে ঢুকছে? তারা আরো প্রশ্ন ছুঁড়েছেন, অবৈধ ইজিবাইক বন্ধে ব্যর্থতার দায় কার, কেসিসির না ট্রাফিক বিভাগের? ট্রাফিক পুলিশের নির্বিকার ও নড়বড়ে ভূমিকার কারণে ওইসব অবৈধ ইজিবাইক সহসা শহরের ভেতর প্রবেশ করে বসবাসযোগ্য খুলনা মহানগরীকে বসবাস ও স্বাভাবিক চলাচলের অযোগ্য করে তুলছে। সেই সাথে সম্প্রতি বৈশি^ক জ¦ালানী সংকট ও লোডশেডিংয়ের ক্ষেত্রে এই ইজিবাইক অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। ইজিবাইক চার্জিংয়ের ক্ষেত্রে বিদ্যুতের একটি বড় ইউনিট অপচয় হচ্ছে। তাছাড়া ইজিবাইক ব্যাটারীাচালিত হওয়ার দরুণ বিভিন্ন সময়ে ইজিবাইক ও ব্যাটারী ছিনতাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে হত্যাকা-সহ নানা অপরাধও সংগঠিত হচ্ছে। সবমিলিয়ে ২০১০ সালে নগরবাসীকে সাচ্ছন্দে ছুটে চলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া পরিবেশবান্ধব, শব্দবিহীন ও স্বল্প খরচের ক্ষুদ্র যানটি এখন নগরবাসীর কাছে তীব্র যন্ত্রণা, অস্বস্তি ও ভোগান্তির নাম হয়ে উঠেছে। ভুক্তভোগী নগরবাসী দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি মহানগরী এলাকায় অবৈধ ইজিবাইক চলাচল বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহনের আহ্বান জানিয়েছেন।
নগরবাসীর অভিযোগ রয়েছে, খুলনা মহানগরীতে ঢোকার প্রবেশদ্বার গল্লামারীসহ রূপসা, সাতরাস্তার মোড়, ক্লে রোড, স্যার ইকবাল রোড, শামসুর রহমান রোড, আহসান আহমেদ রোড, সাউথ সেন্ট্রাল রোড, খানজাহান আলী রোড, স্টেশন রোড, বড় বাজার রোড, কোর্ট চত্ত্বর, ডাকবাংলা, শিববাড়ী, নিউমার্কেট, সোনাডাঙ্গা, ময়লামোতা মোড়, নিরালা, বয়রা, সোনাডাঙ্গা, খালিশপুর, দৌলতপুর, ফুলবাড়ীসহ শহরের গুরুত্বপূর্র্ণ সড়কে দিনের অধিকাংশ সময় জুড়ে ইজিবাইকের জটলা লেগেই থাকে, যার দরুন সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। অবৈধ এসব ইজিবাইকের কারণে ট্রাফিক ব্যবস্থা রীতিমতো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে এবং প্রশ্নবিদ্ধও হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরটি।
ইজিবাইক চালক মো. হাসান জানান, কেসিসি হতে লাইসেন্স গ্রহন করেছি। প্রতি বছর লাইসেন্স নবায়ন করি। অথচ হাজারো ইজিবাইক লাইসেন্স ছাড়া অবাধে বুক ফুলিয়ে চলছে। ওদের কারনে শহরের মধ্যে আমরা ভাড়া পাই না। এদের ব্যাপারে মাঝে মধ্যে নামমাত্র অভিযান চলে। ইজিবাইক আটকও করা হয়, পরের দিন জরিমানা দিয়ে পুনরায় তারা রাস্তায় নামে। তাহলে আমাদের এতো টাকা খরচ করে লাইসেন্স নেওয়ার কি দরকার ছিল?
ইজিবাইক চালক রফিক জানান, এসএসসি পাশ করেছি। এরপর আর লেখাপড়া করা হয়ে ওঠেনি। ভালো কোনো চাকুরী মেলেনি। প্রতিদিনই পরিবারের যে খরচ তা বাবার একার পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। তাই সমিতি হতে ধার করে টাকা দিয়ে শো-রুম হতে একটি ইজিবাইক কিনে রাস্তায় নেমে পড়েছি। ইজিবাইকের লাইসেন্স না থাকার কারনে প্রায়ই পুলিশে ধরে আটক ও জরিমানা করে। কি করবো, পেট তো চালাতে হবে, তাই জরিমানা পরিশোধ করে পুনরায় রাস্তায় নামি। তবে কেসিসি যদি নতুন করে লাইসেন্স প্রদান করে তবে অবশ্যই লাইসেন্সের আওতায় আসবো।
হোটেল ব্যবসায়ী মো. আশিকুর রহমান শুভ জানান, আমার একটাই দাবি, ইজিবাইক চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সের আওতায় আনতে হবে। কারন ওদের ন্যূনতম ট্রাফিক নিয়মের জ্ঞান নেই। হঠাৎ করে এদিক ওদিক দিয়ে ঢুকিয়ে দেয়, অতঃপর পিছনে যে থাকে তিনি দূর্ঘটনার কবলে পড়েন। উপরন্তু ওই চালককে কিছু জিজ্ঞাসা করতে গেলে উল্টো গালিগালাজ করে। এদের ব্যাপারে ট্রাফিক বিভাগের ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিত।
এ বিষয়ে সমাজ সেবক ও বিএনপি নেতা সাজ্জাদ হোসেন তোতন জানান, সম্প্রতি সময়ে নগরীতে ব্যাঙের ছাতার মতো ইজিবাইকের চলাচল বৃদ্ধি পেয়েছে। আমি মনে করি কর্তৃপক্ষের আগে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত মহানগরীতে কত ইজিবাইক চলবে। এর বাইরে সকল ইজিবাইকের ব্যাপারে কঠোর হস্তক্ষেপ গ্রহন করা হলে তা নিয়ন্ত্রনে চলে আসবে। একই সাথে চালকদের প্রশিক্ষনের আওতায় আনা উচিত বলেও আমি মনে করি।
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আন্দোলন খুলনা মহানগরের সাঃ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান মুন্না জানান, বাংলাদেশের একমাত্র বিভাগীয় শহর খুলনা যেখানে গণপরিবহন (টাউন সার্ভিস) বলে কিছু নেই। এই সার্ভিসটি চালুর জন্য আমরা আন্দোলন করেছি। সরকার যদি সাবসিডিয়ারি দিয়ে বাস বা গণপরিবহনটি চালু করে তবে নগরবাসী অত্যন্ত উপকৃত হবে বলে আমি মনে করি। কেসিসি ইজিবাইকগুলোর যে লাইসেন্স প্রদান করেছে, তা হতে বহুগুনে অবৈধ ইজিবাইক শহরে চলাচল করছে। একটা সময় শহরের প্রবেশদ্বার গুলোতে ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্বে থাকার কারনে বাইরের ইজিবাইক শহরে প্রবেশ করতে পারতো না, কিন্তু বর্তমানে ওই অবৈধ ইজিবাইকগুলো অবাধে শহরে প্রবেশ করছে, সৃষ্টি করছে যানজট। তাছাড়া শহরের অবৈধ ইজিবাইকের অবাধ চলাচল বন্ধে ট্রাফিক বিভাগ ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। কেসিসি ও ট্রাফিক বিভাগের একটি স্ন্দুর পরিকল্পনার মাধ্যমে খুলনাকে বাসযোগ্য শহরে পরিণত করা সম্ভব হবে বলে আমি মনে করি।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজনের) খুলনা শাখার সাঃ সম্পাদক এ্যাড. কুদরত-ই-খুদা জানান, ইজিবাইক চলাচলের জন্য একটি সঠিক পরিকল্পনা গ্রহন করতে হবে। খুলনাসহ আশপাশের অঞ্চল হতে আগত মানুষের জন্য কি পরিমান ইজিবাইক দরকার সেটি আগে নির্ধারণ এবং অনুমোদন দিতে হবে। বাকি ইজিবাইক বন্ধে কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে এবং জীবিকা নির্বাহের জন্য যারা সচারাচর ইজিবাইক নিয়ে শহরে নামছেন তাদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। অবৈধ ইজিবাইক বন্ধের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতে হবে। অবৈধ ইজিবাইক রোধে ইচ্ছা-স্বাধীন আমদানি বন্ধ করতে হবে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং পুলিশ যদি সঠিকভাবে কাজ করে তবেই এই অবৈধ ইজিবাইক নিয়ন্ত্রন সম্ভব। তাছাড়া যানজট কমাতে ইজিবাইকের নির্দিষ্ট রুট করে দেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।
এ বিষয়ে কেসিসির লাইসেন্স অফিসার (যানবহন) শেখ মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, কেসিসির প্রদত্ত লাইসেন্স ব্যতিত মহানগরীতে বিপুল সংখ্যক অবৈধ ইজিবাইক চলাচল করছে, এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। মহানগরীতে অবৈধ যেসব ইজিবাইক চলাচল করে তাদের নতুন লাইসেন্স প্রদান করা হবে কি-না, প্রদান করলে তার সংখ্যা কত হবে এবং নগর বহির্ভূত অবৈধ ইজিবাইকের অবাধ বিচরন রোধে কোন ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে তা নিয়ে কেসিসির প্রশাসকসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অতিদ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহন করবেন। নগরীতে চলাচলরত সকল অবৈধ ইজিবাইক লাইসেন্সের আওতায় আনা সম্ভব না হলে একদিকে যেমন কেসিসি বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাবে, অন্যদিকে অবৈধ ইজিবাইক শহরে প্রবেশ করে শহরের শৃঙ্খলা দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অবৈধ ইজিবাইকের বিষয়ে তিনি আরও জানান, অবৈধ ইজিবাইকের বিরুদ্ধে কেসিসি ও ট্রাফিক বিভাগের সমন্বয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আটক ও জরিমানা আদায় করা হচ্ছে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপির) ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) সফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমান পুলিশ কমিশনার স্যার শহরের মধ্যে চলাচলরত অবৈধ যানবহন ব্যাপারে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহনের ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর। তার নির্দেশনা মোতাবেক আমরা অবৈধ যানবাহন আটকে নিয়মিত কাজ করছি। তাছাড়া খুলনা মহানগরীর ২৪টি পয়েন্টে আমাদের সদস্যরা নিয়মিত কাজ করছেন। প্রতিদিনই লাইসেন্সবিহীন অবৈধ ইজিবাইক ও ব্যাটারীচালিত রিক্সা আটক ও জরিমানা করা হচ্ছে, মামলাও দেওয়া হচ্ছে। কেসিসি ও ট্রাফিক বিভাগের ডাম্পিংয়ের জায়গা সংকুচিত হওয়ার ওই সব অবৈধকে ২/৩ আটক রাখা সম্ভব হয়ে উঠে না, যে কারণে জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয়। তিনি আরও জানান, শহরের যানজট নিরসন ও অবৈধ ইজিবাইক শহরে ঢোকার সকল প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসানোসহ আমাদের সদস্যরা সক্রীয় রয়েছে। এছাড়া যানজট নিরসনেও আমরা নিয়মিত কাজ করছি।
সার্বিক বিষয়ে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন,“ আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে কেসিসির পরিচালনা কমিটির সভা ডাকা হয়েছে। ওই সভায় খুলনা মহানগরীতে অবৈধ সেসব ইজিবাইক চলাচল করে তাদের নতুন লাইসেন্স প্রদান করা হবে কি-না, প্রদান করলে তার সংখ্যা কত হবে এবং নগর বহির্ভূত অবৈধ ইজিবাইকের অবাধ বিচরনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা সহ সার্বিক বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।”



