স্থানীয় সংবাদ

ভারতে পলাতক আ’লীগ নেতাদের অপতৎপরতায় কার্যক্রম বাঁধাগ্রস্ত

# খুলনার নৌপরিবহন মালিক গ্রুপ #
# মামলা করে বন্ধ করে দেওয়া হলো বিশেষ সাধারণ সভা

স্টাফ রিপোর্টার : ভারতে পলাতক শেখ পরিবারের সদস্যসহ খুলনার আওয়ামী লীগ শীর্ষ নেতাদের অপতৎপরতায় বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে খুলনা বিভাগীয় অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন মালিক গ্রুপের উন্নয়ন কার্যক্রম। সদস্যদের বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং গঠনতন্ত্র সংশোধনের জন্য শনিবার সংগঠনের বিশেষ সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আদালতে মামলা করে সেই সভা বন্ধ করে দিয়েছে পলাতকগোষ্ঠী। এর আগে ক্যারিয়ার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতেও মামলা করে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। আদালতে মামলা করে সংগঠনের সাধারণ সভা বন্ধের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।আদালত থেকে জানা গেছে, মামলা করে সাধারণ সভা বন্ধের অন্যতম বাদী হয়েছেন ২৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মালিক গ্রুপের সাবেক কোষাধ্যক্ষ মিনহাজ উজ জামান চৌধুরী সজল। তার সঙ্গে রয়েছে জহিরুল ইসলাম ও ইকবাল খান বাদল। ভারতে পলাতক নেতাদের নৌযানগুলো এখন তারাই পরিচালনা করেন এবং ভাড়া টাকা হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে পাচার করার অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, গত ১৭ বছর খুলনার নৌপরিবহন ব্যবসা ছিল শেখ পরিবার ও আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ন্ত্রণে। তাদের নির্দেশে কার্গো সিরিয়াল, ভাড়া ও ডেমারেজ বিল নিয়ন্ত্রণ হতো। বছরের পর বছর ধরে মালিক সমিতিতে নির্বাচন হয় না। এমনকি হিসাবও অডিট হয় না। তাদের দুর্নীতির কারণে অনেক ব্যবসায়ী কার্গো বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে আওয়ামী লীগ নেতারা পালিয়ে যান। মালিক গ্রুপের নির্বাহী কমিটির সব সদস্য পদত্যাগ করেন। ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর নির্বাচন হলে সৈয়দ জাহিদ হোসেনকে সভাপতি এবং মফিজুর রহমানকে মহাসচিব নির্বাচিত হন। এই কমিটি বিগত বছরের হিসাব অডিট করার সিদ্ধান্ত নেন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের সময় নিয়োগ করা ক্যারিয়ার সিন্ডিকেট ভাঙতে নতুন করে ক্যারিয়ার নিয়োগের উদ্যোগ নেন। আওয়ামী লীগ সমর্থিত ক্যারিয়ারদের কাছ নৌযান মালিকদের বকেয়া ভাড়ার টাকা এবং ডেমারেল বিল আদায়ের উদ্যোগ নেন। গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করে মালিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বেশকিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সিরিয়াল প্রথা, সর্বনিম্ন দর ও বিলম্ব মাশুল বিষয়ক, ড্যামারেজ বিল যাচাই-বাছাই চার্জ নিষ্পত্তি বিষয়ক উপ-কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হয় হাফিজুল ইসলাম চন্দনকে। এতে আওয়ামী লীগ নেতাদের কার্গোর একচেটিয়া ভাড়া প্রদান এবং মনোপলি ব্যবসা বন্ধের উপক্রম হয়। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তারা।
ব্যবসায়ীরা জানান, আওয়ামী লীগের নেতারা ভারতে থাকলেও খুলনার নৌরুটে তাদের পণ্যবাহী নৌযান নিয়মিত চলাচল করছে। নিয়মিত তারা ভাড়ার টাকা পাচ্ছেন এবং সেই টাকায় বিদেশে আরামে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের পক্ষে খুলনার ব্যবসা তদারকি করছেন ২৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মিনহাজ উজ জামান চৌধুরী সজল। অভ্যুত্থানের পর তিনিও পালিয়ে যান। তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। কিন্তু বিএনপির স্থানীয় এক নেতাকে ম্যানেজ করে নৌপরিবহন ব্যবসায় ফিরে এসেছেন তিনি। এরপর একের পর এক মামলা করে মালিক গ্রুপের কার্যক্রম বাঁধাগ্রস্ত করছেন।
নৌপরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি সৈয়দ জাহিদ হোসেন জানান, দীর্ঘ ১৭ বছর মোংলা বন্দরের ক্যরিয়ার ব্যবসা ৬/৭জন নিয়ন্ত্রণ করছেন। এই সিন্ডিকেট ভাঙতে আমরা নতুন ক্যারিয়ার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেই। আওয়ামী লীগের সমর্থনপুষ্ট কয়েকজন ক্যারিয়ার মামলা করে সেই কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছেন। পরবর্তীতে মালিকদের স্বার্থে কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গঠনতন্ত্র সংশোধনের উদ্যোগ নেই। ২০১৩ সালের ২১ মে’র পর গঠনতন্ত্র সংশোধন করা হয়নি। অথচ অনেক কিছু সংশোধন হয়েছে, যা গঠনতন্ত্রে নেই। সেগুলো আমরা নিয়মিত করার উদ্যোগ নেই।
তিনি বলেন, নতুন সদস্য ফি ২৫ হাজার টাকার স্থলে এক লাখ টাকা করে মালিক গ্রুপের তহবিল বৃদ্ধি, ওয়ারিশদের সদস্যদের ফি ১০০ টাকার স্থলে ১০ হাজার টাকায় উন্নীত করা, কোনো সদস্য মারা গেলে বা জাহাজ ডুবে গেলে ক্ষতিপূরণ ২৫/৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫ লাখে উন্নীত করাসহ বিভিন্ন ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো। সভাটি স্থগিত হওয়াতে সাধারন সদস্যদের অনেক বড় ক্ষতি এবং সংগঠনটির কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে।
সূত্রটি জানায়, সিরিয়াল প্রথা, সর্বনিম্ন দর ও বিলম্ব মাশুল বিষয়ক, ড্যামারেজ বিল যাচাই-বাছাই চার্জ নিষ্পত্তি বিষয়ক উপ-কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হয় হাফিজুল ইসলাম চন্দনকে। এ কারণে তাদের অবৈধ ব্যবসা বন্ধের উপক্রম হয়েছিল। তারা চন্দনকে ওই পদ থেকে বাদ দিতেও মামলা করেন। আদালত এবিষয়ে ব্যাখা তলব করেন। তখন সদস্যের কথা চিন্তা করে হাফিজুল ইসলাম চন্দন ওই তিনটি উপ-কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন। মালিক গ্রুপের মহাসচিব মফিজুর রহমান বলেন, মামলা করে নৌপরিবহন মালিক গ্রুপের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করার উদ্যোগ আমরা আইনীভাবে মোকাবেলা করবো। হাফিজুল ইসলাম চন্দন পদত্যাগ করেছেন। এটা আমরা নির্বাহী কমিটির সভায় উত্থাপন করবো। সেই সঙ্গে নৌ পরিবহন ব্যবসায়ীদের কারা ক্ষতিগ্রস্ত করতে চায়, তারা যাতে ভাড়া ও ডেমারেজ বিল না পায়-এজন্য যারা চেষ্টা চালাচ্ছে-তাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দল, ব্যবসায়ী সবাইকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button