সম্পাদকীয়

গ্যাসের দাম বৃদ্ধি: শিল্প খাতে বিনিয়োগের ওপর নতুন চাপ

বাংলাদেশের শিল্প খাতে গ্যাসের নতুন মূল্য কাঠামোর প্রস্তাবটি সৃষ্ট করেছে গভীর উদ্বেগ। সরকারের জ্বালানি বিভাগের পক্ষ থেকে দেওয়া এই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, নতুন কারখানাগুলোর জন্য গ্যাসের দাম বর্তমান মূল্যের দ্বিগুণ হবে, যা শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের শিল্প খাতের জন্য বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, যা অর্থনীতির সার্বিক অবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বর্তমানে শিল্প খাত গ্যাসের জন্য প্রতি ঘনমিটারে ৩০ টাকা পরিশোধ করে, কিন্তু তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন দাম প্রস্তাব করলে এটি ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় পৌঁছাবে। এর অর্থ, নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য গ্যাসের খরচ দ্বিগুণ হতে চলেছে, যা অনেকেই ব্যবসা পরিচালনা করা দুঃসাধ্য করে তুলবে। কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক শামসুল আলম এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বক্তব্য রেখে বলেন, “ভোক্তারা গ্যাস পাচ্ছেন না, তবুও তাদের বিল দেওয়া হচ্ছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গত দুই বছরে পর্যায়ক্রমে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এতে পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে, যা মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়িয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে, শিল্প খাতে গ্যাসের দাম আরও বাড়ানো মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। বর্তমান গ্যাস সংকটের মধ্যে, অনেক কারখানা বন্ধ রয়েছে, এবং এভাবে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি হলে আরও কারখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এর ফলে শিল্প খাতে বিনিয়োগ শূন্য হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পথেও বাধা সৃষ্টি করবে। আর্থিকভাবে সংকটাপন্ন দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে, এমন সিদ্ধান্ত শিল্প খাতের প্রতিযোগিতামূলকতা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। পেট্রোবাংলার গ্যাস সরবরাহ এবং এলএনজির আমদানি মূল্যসহ গ্যাসের খরচ বিবেচনা করলে, এটি বোঝা যায় যে সরকার গ্যাসের দাম বাড়ানোর পেছনে জ্বালানির আমদানির ব্যয় পূরণের যুক্তি দেখাচ্ছে। তবে, গ্যাসের দাম বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সরবরাহের নিশ্চয়তা এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না হলে এই নীতির প্রভাব পরবর্তী সময়ে বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। অতএব, সরকারের উচিত, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে ভেবে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং শিল্পখাতে বিনিয়োগের জন্য পরিবেশ বান্ধব পদক্ষেপ গ্রহণ করা। পাশাপাশি, গ্যাস সংকট সমাধানে শক্তিশালী পদক্ষেপ গ্রহণ করে গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা উচিত, যাতে শিল্প খাতের স্থিতিশীলতা বজায় থাকে এবং দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যেতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button