সম্পাদকীয়

জরুরি সংস্কার প্রয়োজন

ফাঁপা অর্থনীতি

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বিগত সময়ে তথ্যের গোঁজামিলে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখানো হয়েছে বৃহত্তর কাগুজে অর্থনীতি। প্রকৃতপক্ষে এর বেশির ভাগই মিথ্যে। বাস্তবে হয়েছে লুটপাট; ধ্বংস করা হয়েছে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, করপোরেট সুশাসন তথা দেশের অর্থনীতি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে, ২০১২-১৩ অর্থবছরে দেশে উৎপাদন খাতে মোট উৎপাদনের পরিমাণ ছিল এক লাখ ৯৭ হাজার ১২৭ কোটি টাকা। সর্বশেষ হিসাবে গত অর্থবছরে এর পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ লাখ ৩২ হাজার ৭৩৫ কোটি টাকায়। ১১ বছরে উৎপাদন খাতের মোট উৎপাদনমূল্য প্রায় ৫.৭৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকার প্রতিবছর গড়ে ১৪ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে। এর মধ্যে ২০১৯-২০ অর্থবছরে করোনাভাইরাসের প্রভাবে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ধস নামার বছরেও এ খাতে ৪ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি দেখানো হয়েছিল। এ ছাড়া প্রতিবছরই উৎপাদন খাতে ডাবল ডিজিট, এমনকি কোনো কোনো বছর ১৮ শতাংশ ছুঁই ছুঁই প্রবৃদ্ধি দেখানো হয়েছে। এই সময়ে মোট জিডিপিতে উৎপাদন খাতের অবদান ১৭.২৭ থেকে বেড়ে ২৩.১৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে বলেও দাবি করে পতিত সরকার। অর্থনৈতিক শুমারির প্রাথমিক হিসাব বলছে, গত ১১ বছরে উৎপাদন খাতে অর্থনৈতিক ইউনিটের (প্রতিষ্ঠান) সংখ্যা বেড়েছে মাত্র ১৫.৩৯ শতাংশ। অথচ ২০০১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত সময়ে পরিচালিত শুমারির তুলনায় ২০১৩ সালের শুমারিতে এ খাতে অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা বেড়েছিল ১০০.৪২ শতাংশ। সার্বিকভাবে দেশে অর্থনৈতিক ইউনিটের প্রবৃদ্ধি কমেছে বলে প্রতিবেদনটিতে উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত ১০ বছরে বড় শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠেনি বললেই চলে। অর্থনীতির আকারের সঙ্গে শিল্পের আকার সেভাবে বাড়েনি। দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে শিল্প-কারখানায় উন্নয়ন হচ্ছে না। অর্থনীতির আকারের সঙ্গে শিল্পায়ন না হওয়ার পেছেন সরকারের প্রক্রিয়াগত দুর্বলতা রয়েছে। নীতি কাঠামোগত সংস্কার করতে হবে। বাংলাদেশের অর্থনীতি নানাভাবে নেতিবাচক অবস্থায় চলে গেছে। আমরা চাই, দেশে ব্যবসা ও শিল্প বান্ধব পরিবেশ তৈরি হোক। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাক। দেশের অর্থনীতির গতি ফেরাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হোক।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন
Close
Back to top button