সম্পাদকীয়

সর্বোচ্চ কঠোরতায় দমন করতে হবে

ছড়িয়ে পড়ছে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা

দেশে রোহিঙ্গা সংকট ক্রমেই জটিল হচ্ছে। যত দিন যাচ্ছে, সংকট নানামুখী ডালপালা বিস্তার করছে। রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন সশস্ত্র সংগঠনের তৎপরতা ক্রমেই প্রকাশ্য হচ্ছে। খুনাখুনি লেগেই আছে। মাদক ও অস্ত্র পাচার, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়সহ আরো অনেক অপরাধের সঙ্গে তাদের একটি অংশ জড়িয়ে গেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা সন্ত্রাসী-অপরাধীদের সঙ্গেও তাদের সখ্য গড়ে উঠেছে। জানা যায়, মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) সদস্যরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। তারা মাদক বিক্রি করছে আর সেই টাকায় অস্ত্র কিনে ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা বাড়াচ্ছে। তাদের দৌরাত্ম্যে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সারা দেশে র‌্যাবের বিশেষ অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব সদর দপ্তর সূত্র। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ও ময়মনসিংহে পৃথক অভিযান চালিয়ে আরসা নেতা আতাউল্লাহসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার প্রধান লে. কর্নেল আশিকুর রহমান বলেন, আরসার রয়েছে বিপুল অস্ত্রভা-ার। তিনি বলেন, ধরা পড়ার আগে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা সিদ্ধিরগঞ্জ ও ময়মনসিংহের সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে চলাফেরা করেছে বলে তথ্য পেয়েছি। গোপন বৈঠকও করেছে। তারা কিভাবে ওই এলাকায় ঢুকল, তাদের টাকার উৎস, অস্ত্রের উৎস কী, তাদের আরো কত সদস্য রয়েছে, কত নেতা এভাবে দেশে আত্মগোপনে রয়েছে- এসবের খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। তাদের ধরতে র‌্যাবের সব ব্যাটালিয়ন অভিযান শুরু করেছে। রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সশস্ত্র তৎপরতায় সাধারণ রোহিঙ্গারা সব সময় তটস্থ থাকে। প্রায়ই হামলা, গোলাগুলি বা খুনখারাবির ঘটনা ঘটে। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রায়ই সংঘর্ষ হয়। ২০২৩ সালের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, পাঁচ বছরে ১২ ধরনের অপরাধে দেড় হাজারের বেশি মামলাও হয়েছে রোহিঙ্গা অপরাধীদের বিরুদ্ধে। স্থানীয় অপরাধীদের সঙ্গেও তাদের সম্পৃক্ততা তৈরি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের কাছে প্রচুর পরিমাণে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। পাঁচ বছরে দুই লাখের বেশি রোহিঙ্গা ক্যাম্প ছেড়ে পালিয়ে গেছে। অনেক নিরাপত্তা বিশ্লেষকের ধারণা, এখনই পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে শিগগিরই তারা জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে যেভাবে সারা দেশে তাদের উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে। আমরা মনে করি, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশকে আরো সক্রিয় হতে হবে। ক্যাম্পের বাইরে রোহিঙ্গাদের ছড়িয়ে যাওয়া রোধ করতে হবে। সশস্ত্র সংগঠনগুলোর তৎপরতা সর্বোচ্চ কঠোরতায় দমন করতে হবে। প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে হবে। চোরাচালান বন্ধে সীমান্তে সর্বোচ্চ কড়াকড়ি আরোপ করা প্রয়োজন।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন
Close
Back to top button