জাতীয় সংবাদ

ইসরায়েলি ড্রোন কারখানায় হানা : ছাদ ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়লেন ‘গণহত্যা’ বিরোধী কর্মীরা

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ ব্রিটিশ শহর লিস্টারে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা সংস্থা এলবিট সিস্টেমসের মালিকানাধীন একটি কারখানার ছাদ ফুটো করে ভেতরে ঢুকে পড়েছেন আন্দোলনকারীরা। তারা “পিপল অ্যাগেইনস্ট জেনোসাইড” নামক একটি গোষ্ঠীর সদস্য। শুক্রবার সকালে তারা ইউএভি ট্যাকটিক্যাল সিস্টেমস কারখানার ছাদ দখল করেন। এটি এলবিট সিস্টেমস ইউকে-র একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান, যা ইসরায়েলের বৃহত্তম অস্ত্র প্রস্তুতকারক সংস্থার ব্রিটিশ শাখা। সংবাদ মাধ্যম ‘দ্য আফটারশক’-এর তথ্যমতে, আন্দোলনকারীরা মই ব্যবহার করে কাঁটাতারের বেড়া টপকে প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন। ছাদ দখল করার পর তারা সেখানে গর্ত খুঁড়েন এবং দড়ির সাহায্যে ঝুলে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, আন্দোলনকারীরা সিলিং ভেঙে কারখানার ভেতরে ঢুকছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কারখানার ‘ক্লিন রুম’ (যেখানে ইসরায়েলি ড্রোনের যন্ত্রাংশ তৈরি করা হয় বলে জানা গেছে) এর সিলিং ভেঙে ফেলা হয়েছে। এই কক্ষটি অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন ও সংবেদনশীল হওয়া প্রয়োজন, তাই সেখানে ধুলোবালি বা বাইরের বাতাস প্রবেশ করায় এটি আগামী কয়েক মাস ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে যেতে পারে। আন্দোলনে অংশ নেওয়া একজন সদস্য বলেন, “ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর ইসরায়েল যে গণহত্যা চালাচ্ছে, তাতে আমাদের সরকারের সহযোগিতায় আমরা বিরক্ত ও ক্লান্ত। আমরা জানি এই পৃথিবীতে গণহত্যার কোনো স্থান নেইÑসে কারণেই আমরা এলবিট বন্ধ করতে এখানে এসেছি।” এলবিট সিস্টেমস ইসরায়েলের ড্রোন এবং স্থল-ভিত্তিক সামরিক সরঞ্জামের প্রায় ৮৫ শতাংশ সরবরাহ করে। গাজায় সামরিক অভিযানে ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহে এই প্রতিষ্ঠানটি বড় ভূমিকা পালন করছে। ২০,০০০ কর্মী এবং ২ বিলিয়ন ডলারের রাজস্ব সমৃদ্ধ এই প্রতিরক্ষা সংস্থাটি ইসরায়েলের সাথে সম্পর্কের কারণে যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনকারীদের নিয়মিত লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। গত বছর ফিলিস্তিন বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেস্কা অ্যালবানিজ এক প্রতিবেদনে বলেছিলেন, “এলবিট সিস্টেমস-এর মতো ইসরায়েলি কোম্পানিগুলোর জন্য বর্তমান গণহত্যা একটি লাভজনক উদ্যোগে পরিণত হয়েছে।” যুক্তরাজ্যে এলবিটের সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো এর আগেও বিভিন্ন প্রত্যক্ষ অ্যাকশন গ্রুপের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এর মধ্যে প্যালেস্টাইন অ্যাকশন অন্যতম, যাকে ব্রিটিশ সরকার গত বছর সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করেছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button