এলডিসি মুক্তির পথে বাংলাদেশ: বাস্তবতা কতটা সহায়ক?

২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) তালিকা থেকে বেরিয়ে যাবে। এরপর তিন বছরের গ্রেস পিরিয়ড পাওয়া যাবে, যা বাংলাদেশকে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় দেবে। তবে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বৈশি^ক চ্যালেঞ্জের মুখে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য এটি উপযুক্ত সময় নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ডলারের উচ্চ মূল্য, রপ্তানি খাতের সীমাবদ্ধতা, বিদ্যুৎ-জ্বালানির সংকট, কর্মসংস্থানে স্থবিরতা এবং আর্থিক খাতের দুর্নীতি মোকাবিলা করা না গেলে এলডিসি থেকে উত্তরণ বাংলাদেশের জন্য আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। বিশেষ করে, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বৈদেশিক ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি, রপ্তানি সুবিধার সীমাবদ্ধতা, এবং বৈদেশিক অনুদানের পরিমাণ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এলডিসি উত্তরণের জন্য আরও কিছুটা সময় নেওয়া যেতে পারে। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম খান মনে করেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি অনেকাংশে টেকসই হয়নি, তাই সময় নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন মনে করেন, দেরি করলে বাংলাদেশ বিশ^ উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় পিছিয়ে পড়বে। জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী, একটি দেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য তিনটি সূচকের অন্তত দুটি পূরণ করতে হয়Ñমাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা। বাংলাদেশ ২০১৮ ও ২০২১ সালের পর্যালোচনায় এই তিনটি সূচকেই উত্তীর্ণ হয়েছে এবং ২০২১ সালে চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েছে। বাংলাদেশের সামনে এখন দুটি গুরুত্বপূর্ণ পথ খোলা আছে। একদিকে, দ্রুত উত্তরণ ঘটিয়ে বৈশি^ক প্রতিযোগিতায় নামতে হবে, অন্যদিকে, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনের জন্য সময় নিয়ে টেকসই প্রস্তুতি নিতে হবে। সরকারের উচিত রপ্তানি খাতকে শক্তিশালী করা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা, বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতি দমন করা। এলডিসি থেকে উত্তরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হলেও, এটি যেন দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ব্যাহত না করে, তা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
