জাতীয় সংবাদ

নাম পরিবর্তন হচ্ছে না মঙ্গল শোভাযাত্রার, ২ দিনব্যাপী বৈশাখ আয়োজন

প্রবাহ রিপোর্ট : নাম পরিবর্তন হচ্ছে না মঙ্গল শোভাযাত্রার। একইসঙ্গে দুই দিনব্যাপী উদযাপিত হবে এবারের পহেলা বৈশাখ। গতকাল সোমবার সকালে আসন্ন পহেলা বৈশাখের আয়োজন নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সিনেট হলে বৈঠক হয়। বৈঠকে পহেলা বৈশাখ উদযাপন ও মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন নিয়ে আলোচনা করেন অংশীজনরা। বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী জানান, এবারের বর্ষবরণের শ্লোগান— ‘নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’। দু’দিনব্যাপী নববর্ষের উৎসবে পহেলা বৈশাখের সঙ্গে থাকছে চৈত্র সংক্রান্তির আয়োজনও। তবে, মঙ্গল শোভাযাত্রা নাম পরিবর্তন নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন উপদেষ্টা।
নববর্ষ উদযাপনে কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক কমিটি: শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ-১৪৩২ উদযাপনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশাকে আহ্বায়ক করে কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক কমিটি ও বিভিন্ন উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত সভায় এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ছিদ্দিকুর রহমান, চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম চঞ্চল, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক আব্দুস সালাম, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকরামুল হক, ফার্মেসি অনুষদের ডিন অধ্যাপক সেলিম রেজা, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আমিনুল ইসলাম, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ফরহাদ সিদ্দিকী, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ওয়ারেস হোসেন। তবে এই কমিটি প্রয়োজনানুসারে বর্ধিত হতে পারে। সভায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের সার্বিক প্রস্তুতি ও অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এতে বলা হয়, মঙ্গল শোভাযাত্রা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুদিনের ঐতিহ্যের পরিচায়ক। এই ঐতিহ্য ও স্বকীয়তা অব্যাহত রেখে আরও বড় পরিসরে, বৈচিত্র্যপূর্ণভাবে এবং লোক-ঐতিহ্য ও ২৪ এর চেতনাকে ধারন করে ‘নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’ প্রতিপাদ্য নিয়ে এ বছর শোভাযাত্রায় সর্বজনীন অংশগ্রহণের আয়োজন করা হয়েছে। ঢাবির জনসংযোগ দফতর জানায়, এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রাটি চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে পহেলা বৈশাখে সকাল ৯টায় বের হবে। শিশুপার্কের সামনে থেকে ঘুরে শাহবাগ হয়ে টিএসসি গিয়ে সেটি শেষ হবে। তবে এবারের পহেলা বৈশাখে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের মুখোশ পরা এবং ব্যাগ বহন করা যাবে না। তবে চারুকলা অনুষদ থেকে প্রস্তুত করা মুখোশ হাতে নিয়ে প্রদর্শন করা যাবে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভুভুজিলা বাঁশি বাজানো ও বিক্রি করা থেকে বিরত থাকার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।
পহেলা বৈশাখ পালনে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে: ক্যাম্পাসে নববর্ষের দিন সব ধরনের অনুষ্ঠান বিকাল ৫টার মধ্যে শেষ করতে হবে। নববর্ষের দিন ক্যাম্পাসে বিকাল ৫টা পর্যন্ত প্রবেশ করা যাবে। এরপর প্রবেশ করা যাবে না, শুধু বের হওয়া যাবে। নববর্ষের আগের দিন ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার পর ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকারযুক্ত গাড়ি ছাড়া অন্য কোনো গাড়ি প্রবেশ করতে পারবে না। নববর্ষের দিন ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের যানবাহন চালানো যাবে না এবং মোটরসাইকেল চালানো সম্পূর্ণ নিষেধ। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বসবাসরত কোনো ব্যক্তি নিজস্ব গাড়ি নিয়ে যাতায়াতের জন্য শুধু নীলক্ষেত মোড় সংলগ্ন গেট ও পলাশী মোড় সংলগ্ন গেট ব্যবহার করতে পারবেন। নববর্ষের দিন টিএসসির সম্মুখে রাজু ভাস্কর্যের পেছনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেট বন্ধ থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আগত ব্যক্তিরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশের জন্য চারুকলা অনুষদের সম্মুখে ছবির হাটের গেট, বাংলা একাডেমির সম্মুখে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেট ও ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট সংলগ্ন গেট ব্যবহার করতে পারবেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে প্রস্থানের পথ হিসেবে ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট সংলগ্ন গেট, রমনা কালী মন্দির সংলগ্ন গেট ও বাংলা একাডেমির সম্মুখে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেট ব্যবহার করা যাবে। জনসংযোগ দফতরের দেওয়া তথ্যমতে, টিএসসির সম্মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের হেল্প ডেস্ক, কন্ট্রোল রুম এবং অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প থাকবে। হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল মাঠ সংলগ্ন এলাকা, টিএসসি সংলগ্ন এলাকা, দোয়েল চত্বরের আশপাশের এলাকা ও কার্জন হল এলাকায় মোবাইল পাবলিক টয়লেট স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি সভায় নববর্ষের দিন নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা ও আর্চওয়ে স্থাপন করে তা মনিটরিংয়ের জন্য পুলিশ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের সভাপতিত্বে সভায় ছিলেন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, বিভিন্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও অফিস প্রধানরা। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদফতর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন দফতর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি সভায় ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button