খুলনার প্রবেশপথ গল্লামারিতে জোড়া আর্চ ব্রিজের সুফল নিয়ে শঙ্কা

# খুলনার উন্নয়নের প্রধান বাধা হবে দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজি #
# রাস্তার দুই পাশ দিয়ে সড়কের জায়গা বেদখল #
# ব্রীজের ঢালের মুখ চওড়া না হয়ে সঙ্কীর্ণ হচ্ছে বেদখলের কারণে #
এম সাইফুল ইসলাম ঃ খুলনা মহানগরীর ব্যস্ততম গল্লামারী এলাকায় ময়ূর নদের ওপর নির্মিত পাশাপাশি দুটি দৃষ্টিনন্দন স্টিল নেটওয়ার্ক আর্চ ব্রিজ ঘিরে নগরবাসীর মধ্যে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হলেও নদীর দুই পাড়ের অবৈধ দখল ও ভাসমান ব্যবসা নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দখলদারিত্ব অব্যাহত থাকলে ব্রিজ দুটির কাক্সিক্ষত সুফল পুরোপুরি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। ব্রীজের গোড়ায় ও ব্রীজের উপরে অব্যতভাবে জ্যাম লেগে থাকবে। সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, গল্লামারীতে ব্রিজ নির্মাণের জন্য ময়ূর নদের খুলনার পাশে ১১০ ফুট এবং খুবির সাইটে ১৫০ ফুট রাস্তা জায়গা সড়ক ও জনপথ বিভাগের রেকর্ডভুক্ত রয়েছে। তবে রেকর্ডভুক্ত এ জায়গার বড় একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলদারদের কবলে রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নদীর দুই পাড়ে গড়ে উঠেছে মাছের বাজার, মুরগির বাজারসহ শত শত ভাসমান ও অস্থায়ী দোকান। জানা যায়, আমাদের বাজার, আল-বারাকা মার্কেট, ভাই মার্কেট, বিসমিল্লাহ সুপার মার্কেটসহ এখানে একাধিক বাজার রয়েছে। সড়ক দখল করে ভাসমান দোকান থেকে ভাড়ার নামে বাজার কমিটি-ই চাঁদা তোলে। এসব দোকানের অনেক ব্যবসায়ী প্রতিদিন প্রায় ২০০ টাকা করে জায়গার ভাড়া দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। তবে সম্প্রতি গল্লামারি ব্রীজের কারনে দোকান উচ্ছেদের কথা শোনা গেলে ভাড়া কমিয়ে অনেকের কাছ থেকে একশ টাকা নিচ্ছে। সরেজমিনে গেলে বাজার কমিটির কাউকে পাওয়া যায়নি। একাধিক ব্যবসায়ীর দাবি, ক্ষমতাসীন দলের পরিচয় ব্যবহার করে একটি মহল এসব ভাড়া আদায় করছে। দোকান বসানোর জন্য জায়গাভেদে ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত অগ্রিম নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। সরেজমিনে গেলে স্থানীয় দোকানিরা জানান মুন্না নামে একজন তাদের কাছ প্রতিদিন ভাড়া বাবদ টাকা নেয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি লিনিয়র পার্কের দেখাশোনা করেন। তিনি প্রতিবেদককে জানান, এ জায়গা আমাদের কেসিসির কাছ থেকে ইজারা নেয়া। ইজারাবাবদ আমি ইজারাদারে নির্দেশে টাকা নিই। তিনি আরও বলেন সাবেক মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মাহবুব হাসান পিয়ারু ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি একরামুল হক হেলালসহ এই পার্কের ইজারা নিয়েছে কেসিসির কাছ থেকে। মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মাহবুব হাসান পিয়ারু বলেন, নিয়ম মেনেই আমরা ইজারা নিয়েছি এবং সড়ক বিভাগের লালচিহ্নিত বর্ডার আমরা অতিক্রম করি নাই। কোন দোকানী যদি সড়কের জায়গায় দোকান বসিয়ে থাকে তবে দায়-দায়িত্ব তার। মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি একরামুল হক হেলাল বলেন, আমরা সরকারকে রাজস্ব দিয়েই ইজারা নিয়েছি। নিয়ম মেনেই টাকা নেওয়া হয়। কোন অনিয়ম বা কারও জায়গা দখল করে নয়। তিনি আরও বলেন, সড়কের জায়গা কেউ দখল করলে এর দায় ইজারাদার কর্তৃপক্ষ নেবে না। এর দায় শুধু ওই দখলদারের। স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল ইসলাম বলেন, শুধু ভাসমান দোকান নয়, সম্প্রতি ময়ুর নদের পাড়ে ইট দিয়ে স্থায়ী ইমারত নির্মাণের চেষ্টাও দেখা গেছে। ফলে সড়কের সরকারি জায়গা দখল করে ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এসব স্থাপনা আরও বড় আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের অভিযোগ, দখলের কারণে ময়ূর নদের পাড়ের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ড্রেন নির্মাণ করতে চাইলেও জায়গা দখলে থাকায় তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে শুকনো মৌসুমেও গল্লামারী প্রধান সড়কের বিভিন্ন অংশে ময়লা ও নোংরা পানি জমে থাকে। এতে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগ বাড়ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতার মতো পরিস্থিতি। এছাড়াও এখানে ব্রীজের ঢালে পূর্বপাড়ে সড়করে জায়গায় রয়েছে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মত স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠান ‘গল্লামারী জামে মসজিদ”। মসজিদটি সড়কের জায়গায় চলে এসেছে অনেকখানি। সড়কের নিয়ম অনুযায়ী ব্রীজের ঢালে যদি পর্যাপ্ত জায়গা না দেওয়া হয় তবে যানজট অতীতের তুলনায় বেশি বাড়ে। নগরবাসীর প্রত্যাশা, নতুন দুই আর্চ ব্রিজ চালু হলে গল্লামারী এলাকার যানজট কমবে, যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ হবে এবং ময়ূর নদের সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু নদীর দুই পাড়ের অবৈধ দখল, অপরিকল্পিত বাজার ও স্থাপনা উচ্ছেদ করা না হলে ব্রিজ নির্মাণের সুফল অনেকটাই বাধাগ্রস্ত হতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ময়ূর নদের দুই পাড়ের সরকারি জায়গা জরিপ করে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ, অবৈধ বাজার ও স্থাপনা অপসারণ এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োজনীয় ড্রেন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সরকারি জায়গা নতুন করে যাতে দখল না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন তারা। সড়ক ও জনপথের খুলনা নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ তানিমুল হক জানান, দৃষ্টিনন্দন গল্লামারি ব্রীজ নিয়ে খুলনাবাসির প্রত্যাশা পূরন করতে খুব শীঘ্রই বেদখল সড়কে উদ্ধারে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা দখল করে আছে তাদেরকে নোটিশ করা হয়েছে কিন্তু তারা কোন কর্ণপাত করছেন না। খুব শ্রীঘ্রই শহরবাসীর প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্রীজ এলাকা অবৈধ দখলমূক্ত করতে অভিযান পরিচালনা করা হবে।



