কেসিসির ২৫ হাজার বাণিজ্যিক ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তির টার্গেট : রাজস্ব আদায় প্রায় সাড়ে ৬ কোটি!

# চলতি অর্থবছর ২০২৫-২০২৬ #
# টার্গেটের বিপরীতে লাইসেন্স প্রাপ্তি ২১,১০৪ টি, নতুন ৪,৮৭৯ টি, নবায়ণ ১৬,২২৫ টি
# ৭ কোটির বিপরীতে রাজস্ব আদায় ৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, হার ৯৩.৬৭%
# মেয়াদর্ত্তীণ লাইসেন্স মালিকদের লাল নোটিশ, শীঘ্রই এ্যাকশন যাবে কেসিসি
মো. আশিকুর রহমান : ট্রেড লাইসেন্স (ঞৎধফব খরপবহপপব)’র আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে বানিজ্য করার অনুমতি পত্র। যার মাধ্যমে স্থানীয় সরকার কোনো ব্যবসা-বানিজ্য পরিচালনা করার অনুমতি প্রদান করে থাকেন। যে কোনো বৈধ ব্যবসা পরিচালনার জন্য ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তি আবশ্যক। তথ্য সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার আইন, ২০০৯ এর আইননুসারে সিটি কর্পোরেশনের লাইসেন্স কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ওই আইনে কেসিসি এলাকায় বৈধ ব্যবসা পরিচালনার জন্য লাইসেন্স গ্রহন ব্যধ্যতামূলক। লাইসেন্সবিহীন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মোবাইল মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অর্থদ- প্রদান করতে পারে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। পাশাপাশি দ-ের অর্থ প্রদান না করলে ওই ব্যবসায়ীর নামে মামলা দায়ের করতে পারবেন। আরও জানা গেছে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মালিক লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা পরিচালনা করছেন এবং নিজেকে ব্যবসায়ী বলছেন, এটি প্রতারণার অপরাধ। ওই অপরাধে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টরা দেওয়ানী বা ফৌজদারি মামলাও হতে পারে।
কেসিসি সংশিষ্ট শাখা বলছে, খুলনা মহানগরী এলাকায় চলতি অর্থবছর ১ জুলাই ২০২৫ সাল হতে ৩০ জুন ২০২৬ সাল পর্যন্ত কেসিসির বানিজ্যিক লাইসেন্স প্রাপ্তির টার্গেট ছিল ২৫ হাজার। টার্গেটের বিপরীতে প্রাপ্তি হয়েছে সর্বমোট ২১ হাজার ১০৪ টি লাইসেন্স। যার মধ্যে নতুন লাইসেন্সের সংখ্যা ৪ হাজার ৮৭৯ টি, নবায়ণকৃত লাইসেন্সর সংখ্যা ১৬ হাজার ২২৫ টি। চলতি অর্থবছরে লাইসেন্স প্রাপ্তির টার্গেটের বিপরীতে প্রাপ্ত লাইসেন্স হতে কেসিসির রাজস্ব আদায় হয়েছে ৬ কোটি ৩২ লাখ ৪৬৫ টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্রটি আরও জানিয়েছে, একই সাথে মহানগরীর এলাকার ৫ হাজার মেয়ার্ত্তীন লাইসেন্স মালিক বা প্রতিষ্ঠানের কালো তালিকা করা হয়েছে, যাদের ইতোমধ্যে লাল নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। সরকারি আইনুসারে ১ জুলাই হতে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অর্থ্যাৎ, এই তিন মাস জরিমানা ছাড়াই লাইসেন্স নবায়ন করা যাবে। ওই সময়ের মধ্যে হাজার মেয়ার্ত্তীন লাইসেন্স মালিক বা প্রতিষ্ঠান তাদের লাইসেন্স নবায়ণ না করলে তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাছাড়া বর্তমান সময়ে বানিজ্যিক ট্রেড লাইসেন্স অনলাইনে নতুন বা নবায়ণ করা হচ্ছে, ব্যবসায়ীরা নিজেরাই বাড়ীতে বসে নতুন ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তি বা নবায়নের কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন, বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লাইসেন্স শাখার সুপারেনটেন্ট মো. হুমায়ূন কবির। এ ব্যাপারে এক মুদি ব্যবসায়ী লুৎফর রহমান জানান, আমি মনে করি প্রতিটি ব্যবসায়ীর সরকারি নিয়মনীতি মেনে ব্যবসা পরিচালনা করা উচিৎ। ব্যবসা পরিচালনা করা ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্স একটি গুরুত্বর্পূন বিষয়। আমার ছোট্ট একটি মুদির দোকান, তারপর কষ্ট হলেও প্রতি বছর ট্রেড লাইসেন্সটি নবায়ন করে নেই। সর্বপরি, খুব ভালো লাগে আমি একজন বৈধ ব্যবসায়ী, ব্যবসার জন্য আমার বৈধ লাইসেন্স আছে। অনেক সময় ব্যাংক বা অন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাজ থেকে লোন বা সুবিধা পেতে ট্রেড লাইসেন্স একটি গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখে, লাইসেন্স না থাকলে এসব সুবিধা পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নাম প্রকাশে এক ব্যবসায়ী বলেন, প্রতিবছরই লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে কেসিসিক একটি অর্থ প্রদান করা লাগে। দুঃখ জনক, নতুন লাইসেন্স প্রাপ্তি বা নবায়নের সময় সর্বপ্রথমই আয়কর বাবদ দু’হাজার টাকা। আমি এ ক্ষেত্রে আয়কর নির্ধারন বা প্রদানে স্তরবিন্যাস করা হয়নি। একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর আয়কর ও একজন বড় ব্যবসায়ীর আয়কর একই। যা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। এব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের সু-দৃষ্টি কামনা করছি। এ বিষয়ে কেসিসির লাইসেন্স পরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, কেসিসির প্রতি অর্থবছরে লাইসেন্স বৃদ্ধি ও রাজস্ব আদায়ের টার্গেট থাকে, সেনুসারে পরিকল্পনা গ্রহন করে কাজ করি। ২২, ২৩ ও ২৪ নং ওয়ার্ডের (৩টি ওয়ার্ড) এ দায়িত্ব পালন করছি। লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠানের তালিকা করে তাদের লাল নোটিশ দিয়েছি। নির্ধারিত সময়সীমার পর তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থ গ্রহন করা হবে। এ বিষয়ে কেসিসির লাইসেন্স পরিদর্শক মো. নুরুল আলম বাবু জানান, কসিসির আওতাধীন ১-৪ নং ওয়ার্ডের (৪ টি ওয়ার্ড) এ দায়িত্ব পালন করছি। ওই ওয়ার্ড গুলোতে যেন কোনো ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান লাইসেন্সবিহীন না থাকে ওই টার্গেট নিয়েই তৎপর হয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছি। ব্যবসায়ীদের প্রতি অনুরোধ থাকবে, যারা লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা পরিচালনা করছেন, তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে লাইসেন্স গ্রহণ করুন, নির্ধারিত সময়সীমার করে লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে। এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)’র খুলনা জেলা সভাপতি এড. কুদরত- ই খুদা জানান, বৈধ ব্যবসা করতে গেলে ট্রেড লাইসেন্সের আওতায় আসা উচিৎ। আমার মনে হয় ৫০% ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করছে। কেসিসির একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও মনিটরিং সেলের মাধ্যমে তাদের শণাক্ত ও আইনগত পদক্ষেপ গ্রহন করা উচিৎ। দৃষ্টান্ত হিসাবে মাঝে মাঝে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করলে আইন প্রয়োগ করলে যা লাইসেন্স ছাড়া ব্যবস্থ করেছেন তারা লাইসেন্সের আওতায় চলে আসবে বলে মনে করি। লাইসেন্স প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ব্যবসার ধরণ অনুসারে যৌক্তিক ফি নির্ধারণ ও আদায় করা উচিৎ। লাইসেন্স যেন বোঝার কারণ না হয়। ব্যবসায়ীরা ট্রেড লাইসেন্স করতে সাচ্ছ্বন্দ্যবোধ করে সেদিকে সংশ্লিষ্টদের নজরদারী করা উচিৎ। এ বিষয়ে সাবেক কাউন্সিলর এসএম হুমায়ূন কবির জানান, লাইসেন্স থেকে প্রাপ্ত অর্থ বা রাজস্ব কেসিসির উন্নয়নমূলক কর্মকা-ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দুঃখজনক সংশ্লিষ্ট শাখার তদারকি অভাবে একটি বড় অংশ এই লাইসেন্সের আওতায় না এসে ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছেন, যার ফলে কেসিসি প্রতি বছরই একটি বিরাট অংশের রাজস্ব প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমি মনে করি কেসিসির প্রতিটি ওয়ার্ড পর্যায়ে লাইসেন্স সংক্রান্ত বিষয়ে দায়িত্ব দিয়ে সঠিক তদারকি করলে ওই ওয়ার্ডের সকল বৈধ ব্যবসায়ীরা লাইসেন্সের আওতায় আসতে বাধ্য হবে, শতভাগ বৃদ্ধি পারে রাজস্ব, যা খুলনার উন্নয়নে অগ্রনী ভূমিকা পালনে সাহায্য করবে। এ বিষয়ে সু-শাসনের জন্য নাগরিক (সুজনের) মহানগর শাখার সাঃ সম্পাদক এড.কুদরত-ই খুদা জানান, যারা বৈধতা নিয়ে ব্যবসা বাণিজ্য করতে চান তাদের সকলকে ট্রেড লাইসেন্সের আওতায় আসা উচিৎ। লাইসেন্স প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অবশ্যই ব্যবসার ধরণ অনুসারে সংশ্লিষ্টদের যৌক্তিক ফি নির্ধারণ করা উচিত। তাছাড়া যারা লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা পরিচালনা করছে তাদের শণাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কেসিসির একটি মনিটরিং সেল থাকা উচিতও বলে আমি মনেক করি। পাশাপাশি ট্রেড লাইসেন্স করতে গিয়ে কেউ যেন হয়নারীর শিকার না হয় সেদিকেও লক্ষ্য রাখা দরকার। এ বিষয়ে কেসিসির সিনিয়র লাইসেন্স অফিসার মনিরুজ্জামান রহিম জানান, দায়িত্ব গ্রহনের পর একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিভাগে লাইসেন্স বৃদ্ধি, নবায়নসহ বিপরীতে লাইসেন্স থেকে প্রাপ্ত অর্থ বা রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে মহানগরীর এলাকার ৫ হাজার মেয়ার্ত্তীন লাইসেন্সের তালিকা করা হয়েছে, যাদের লাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সরকারি আইনুসারে তিন মাস জরিমানা ছাড়াই লাইসেন্স নবায়ন করা যাবে। ওই সময় পার হওয়ার পর লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, খুলনা বড় বাজার এলাকায় প্রচুর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যেখানে লাইসেন্স প্রাপ্ত ব্যবসায়ীরা ছাড়াও ভাম্যমান অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ব্যবসা করেছেন। ওই সকল ব্যবসায়ীদের একটি বিশেষ লাইসেন্সের আওতায় আনা যায় কিনা তা নিয়ে কার্যক্রম চলছে।



