খুলনায় ভোক্তা অধিকারের কঠোর অভিযান

# অভিযানে ১৭ টি প্রতিষ্ঠানকে ৭৪ হাজার টাকা জরিমানা #
# জনস্বার্থে অভিযান অব্যহত রাখার আশ^াস সংশ্লিস্টদের #
স্টাফ রিপোর্টার : খুলনার নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রন রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়াধীন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় ও খুলনা বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন জেলা কার্যালয় সমূহ নিয়মিত বাজার তদারকিসহ অভিযান অব্যহত রয়েছে। ওই ধারাবাহিকতায় সোমবার (২২ মে) ভোক্তা অধিকারের ১৭ টিম তদারকিমূলক অভিযান পরিচালনা করে। এসময়ে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যসমূহের বাজার দর ও ক্রয় ভাউচার যাচাই করা হয় এবং সকল ব্যবসায়ীকে সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রির নির্দেশনা দেয়া হয়। তদারকিকালে সরকার নির্ধারিত মূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির জন্য ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয় এবং কেউ সরকার নির্ধারিত মূল্যের থেকে বেশি মূল্য নিলে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের হুশিয়ারি দেওয়া হয়। অভিযান কালে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় বাজার তদারকি ও জরিমানা করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে গেছে, খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে¡ খুলনা জেলার ডুমুরিয়া থানার রঘুনাথপুর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে যথাযথ পন্য সরবরাহ না করার অপরাধে অনন্যা কসমেটিকসকে ৭ হাজার টাকা ও হালদার ফার্মেসিকে ৭ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক দিনারা জামানের নেতৃত্বে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া থানার রঘুনাথপুর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে পণ্যের মোড়ক যথাযথ ব্যবহার না করার অপরাধে ভাই ভাই কসমেটিকসকে ২ হাজার টাকা এবং মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করার অপরাধে অর্জুন স্টোরকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
নড়াইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শামীম হাসানের নেতৃত্বে কালিয়া উপজেলার পুরুলিয়া ও বারইঘাট বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে পণ্যের মোড়ক যথাযথ ব্যবহার না করা ও মুল্য তালিকা প্রদর্শন না করার অপরাধে মেসার্স রাতুল স্টোরকে ১ হাজার ৫ শত টাকা ও মেসার্স রাকিব স্টোরকে ১ হাজার টাকা, মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করার অপরাধে মেসার্স রেজা সুইটসকে ১ হাজার এবং পণ্যের মোড়ক যথাযথ ব্যবহার না করার অপরাধে মেসার্স ফরিদ বেকারিকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। যশোর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ সেলিমুজ্জামানের নেতৃত্বে সদর উপজেলার মনিহার ও দড়াটানা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাদিক ফলঘরকে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করার অপরাধে ৫ হাজার টাকা ও ভৈরব হোটেলকে অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্য উৎপাদন করার অপরাধে ২০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়।
ঝিনাইদহ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নিশাত মেহেরের নেতৃত্বে হরিণাকুন্ডু উপজেলার চাঁদপুর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মুল্য তালিকা প্রদর্শন না করার অপরাধে তানভীর স্টোরকে ২ হাজার, জাহাঙ্গীর স্টোরকে ১ হাজার ও আকাশ স্টোরকে ১ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। মাগুরা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ সজল আহম্মেদের নেতৃত্বে শাখিলা উপজেলার আড়য়াকান্দি ও শাখিলা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেসার্স মায়ের দোয়া আরিফুল বেকারিকে অবৈধ প্রক্রিয়ায় পণ্য উৎপাদন ও মিথ্যা বিজ্ঞাপন দ্বারা ক্রেতা সাধারণদের করার অপরাধে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। মেহেরপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসানের নেতৃত্বে সদর উপজেলার বড় বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মা স্টোরকে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করার অপরাধে ২ হাজার ৫ শত টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। বাগেরহাট জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শরিফা সুলতানার নেতৃত্বে ফকিরহাট উপজেলার ফকিরহাট বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে হোটেল তাজমহলকে যথাযথ পন্য সরবরাহ না করার অপরাধে ৩ হাজার টাকা ও ফকিরহাট হোটেলকে খাদ্য দ্রব্যে নিষিদ্ধ পণ্যের মিশ্রণ কারার অপরাধে ৪ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। অভিযানে ১৭ টি প্রতিষ্ঠানকে ৭৪ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়। জনস্বার্থে অভিযান চলমান রাখার আশ^াস সংশ্লিস্টদের। এ ব্যাপারে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মাদ সেলিম জানান, খুলনার বাজারে আমাদের নিয়মিত তদারকিসহ অভিযান অব্যহত আছে। ভোক্তার অধিকার লঙ্ঘিত করলে ওই ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা হিসাবে জরিমানা আরোপসহ আদায় করা হচ্ছে। খুলনার বাজার সমূহে কোনো ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠান সরকার প্রদত্ত নিয়মনীতির বাইরে ব্যবসা পরিচালনা করলে তাদের ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে। জনস্বার্থে আমাদের কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।



