জাতীয় সংবাদ

পলকের নির্দেশে সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারনেট বন্ধ হয়

বিটিআরসির উপপরিচালক মাহদীর জবানবন্দি

প্রবাহ রিপোর্ট : জুলাই বিপ্লবে তৎকালীন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের নির্দেশে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে থ্রিজি ও ফোরজি ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিটিআরসির উপপরিচালক মাহদী আহমদ। রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এ জবানবন্দিতে এ তথ্য জানান তিনি।
জুলাই বিপ্লবে ইন্টারনেট বন্ধ করে সারা দেশে গণহত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে দশম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন মাহদী।
জবানবন্দিতে তিনি বলেন, “আমার বর্তমান বয়স ৩৯ বছর। আমি বিটিআরসির উপপরিচালক। ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাত সাড়ে ১২টার পর বিটিআরসির তৎকালীন মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমান হোয়াটসঅ্যাপে কল করেন। তিনি আমাকে জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বেশ কিছু গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রতিমন্ত্রী পলক, বিটিআরসির তৎকালীন চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মহিউদ্দিন আহমেদকে টেলিফোনের মাধ্যমে পাঁচটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের থ্রিজি ও ফোরজি নেটওয়ার্ক বন্ধ এবং সীমিতকরণের নির্দেশ দেন। ১৫ জুলাই সকাল ৯টায় আমি অফিসে এসে জানতে পারি, সকাল ৮টায় বন্ধ নেটওয়ার্ক তা পুনরায় চালু করা হয়েছে। তৎকালীন প্রতিমন্ত্রীর মৌখিক নির্দেশনায় চেয়ারম্যান তা চালু করেন। ওই পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় হলো—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।”
জবানবন্দিতে তিনি আরও বলেন, “১৬ জুলাই সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং চারটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে একই রকম নির্দেশনা আসে। পলক বিটিআরসির তৎকালীন চেয়ারম্যানকে এ নির্দেশনা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং চারটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩জি ও ৪জি নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যায়। ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এই নির্দেশনার কথা জানতে পারি। তখন আমি দাপ্তরিক কাজে অফিসে ছিলাম। ওই দিন আমাদের হাই অফিসিয়ালদের একটি পূর্বনির্ধারিত সভা ছিল। সভায় তৎকালীন আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ও প্রতিমন্ত্রী পলক অনলাইনে অংশ নেন। পরে নেটওয়ার্ক বন্ধকরণ বিষয়ে নথিতে ভূতাপেক্ষ অনুমোদন নেওয়া হয়।”
জবানবন্দিতে এই সাক্ষী বলেন, “পরে মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু হয় ২৮ জুলাই। ক্যাবল নেটওয়ার্ক পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয় ৩১ জুলাই। তবে ক্যাবল নেটওয়ার্ক ২৩ জুলাই সাময়িকভাবে চালু হয়েছিল।”
২৮ জুলাই প্রতিমন্ত্রী পলকের সভাপতিত্বে ডিজিএফআই, এনএসআই, এনটিএমসি, এমএফএস সংস্থা ও মোবাইল অপারেটরের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বিটিআরসি কার্যালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পলক তৎকালীন এনটিএমসির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে চারটি মোবাইল অপারেটরের থ্রিজি ও ফোরজি নেটওয়ার্ক চালুর নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে বিটিআরসিকে ফেসবুক, টিকটক, আকামাই ও বাইসনের ক্যাশ সার্ভার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে ৩১ জুলাই এসব সেবা চালুর বিষয়ে বিটিআরসির চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেন।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button