জাতীয় সংবাদ

সৌদিতে হুথিদের হামলায় ২ বাংলাদেশিসহ নিহত ১২

হামলার ঘটনায় জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের শোক-নিন্দা
রিয়াদে বিমানবন্দর বন্ধ, ঢাকায় আটকা তিন হাজার যাত্রী
১০ হাজার প্রবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠাল সৌদি

প্রবাহ ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশিসহ ১২জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২ বাংলাদেশির পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- ওমরাযাত্রী মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি ও প্রবাসী মো. সাহেদ আহমেদ। নাসরুল্লাহর বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে। সাহেদের বাড়ি বগুড়ার শাহজাহানপুরে। তিনি সৌদি আরবে কাজ করতেন। রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এসব তথ্য জানিয়েছে।
এদিকে হুথিদের এ হামলায় গুরুতর আহতাবস্থায় আরও চার বাংলাদেশি রিয়াদের একটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম।
রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিরা সৌদির কিং খালেদ হাসপাতালের আইসিইউতে রয়েছেন। সবার পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও জানান, ‘আহতদের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছে বাংলাদেশ দূতাবাস। আর যারা নিহত হয়েছেন তাদের মরদেহ রাষ্ট্রীয় খরচে দেশে আনার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।’এই হামলায় বাংলাদেশি কোনো বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলেও জানান শামা ওবায়েদ।
এর আগে শনিবার (১০ অক্টোবর) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামলা চালায়। এতে ১২ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি। এছাড়া হামলায় বাংলাদেশিসহ আহত হন আরও অন্তত ৩০৯ জন।
এদিন হুতিদের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি রিয়াদে বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেন। তার দাবি, ইয়েমেনে সৌদি হামলার জবাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। সৌদি হামলায় বেসামরিক অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
চলতি সপ্তাহে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এটি তৃতীয় হামলা। এ হামলার পর বিমানবন্দরের নিয়মিত কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। সব ফ্লাইট অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
খালিজ টাইমসের প্রতিবেদন বলছে, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট ওঠানামা ১২ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (জিএসিএ)। রোববার ও সোমবার মিলিয়ে ৬ শতাধিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে শনিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগ থেকে জানানো হয়, ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটের ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে সংস্থাটি। এ ক্ষেত্রে ‘অনিবার্য পরিচালনগত কারণ’-এর কথা উল্লেখ করা হয়।
বিমান জানায়, রিয়াদে তাদের নির্ধারিত ফ্লাইট বিজি-৩৩৯ এবং বিজি-৩৪০ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। এই ফ্লাইটগুলোর যাত্রীদের বিমানবন্দরে না যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়।
১০ হাজার প্রবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠাল সৌদি আরব : শ্রম এবং সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের দায়ে এক সপ্তাহের দেশব্যাপী বিশেষ অভিযানে ১০ হাজার ৪৩১ জন অভিবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি আরব। একই সময়ে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রায় ১৪ হাজার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। শনিবার সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিবৃতি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে যৌথ সমন্বয়ে ১ অক্টোবর থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত দেশজুড়ে এই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মোট ১৩ হাজার ৮৮৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে ৬ হাজার ৭৮৫ জন আবাসন আইন (ইকামা) লঙ্ঘনকারী, ৩ হাজার ৭১০ জন সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনকারী এবং ৩ হাজার ৩৯৪ জন শ্রম আইন ভঙ্গকারী রয়েছেন।
এ ছাড়া অবৈধ উপায়ে সীমান্ত অতিক্রম করে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টাকালে ১ হাজার ৩৮২ জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। আটক অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে ৬৬ শতাংশ ইথিওপিয়ান নাগরিক, ৩৩ শতাংশ ইয়েমেনি এবং বাকি ১ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক। অন্যদিকে অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে সৌদি আরব ত্যাগের চেষ্টাকালে আরো ৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী।
বর্তমানে মোট ৩৩ হাজার ১১৩ জন অভিবাসী (৩০,৪৩৮ জন পুরুষ এবং ২,৬৭৫ জন নারী) নির্বাসন ও আইনি প্রক্রিয়াধীন রয়েছেন। এর মধ্যে ১৮ হাজার ৯৪৭ জনকে ট্রাভেল ডকুমেন্ট সংগ্রহের জন্য নিজ নিজ দেশের কূটনৈতিক মিশনে এবং ৪ হাজার ৫৯৬ জনকে ভ্রমণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রক্রিয়াকরণ শেষে এক সপ্তাহে ১০ হাজার ৪৩১ জনকে চূড়ান্তভাবে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়।
এদিকে অবৈধ অভিবাসীদের পরিবহন, আশ্রয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগে আরো ২১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, সৌদিতে অবৈধ অনুপ্রবেশে সহায়তা করা, পরিবহন সুবিধা দেওয়া কিংবা আশ্রয় দেওয়ার অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদ- এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। এ ছাড়া অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহন ও বাসস্থান বাজেয়াপ্ত করা হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম নজরে এলে জরুরি নম্বর ৯১১-এ তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য দেশটির নাগরিকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
রিয়াদে বিমানবন্দর বন্ধ, ঢাকায় আটকা তিন হাজার যাত্রী : সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঢাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রায় তিন হাজার যাত্রী। এ পরিস্থিতিতে চারটি এয়ারলাইন্সের আটটি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের ভ্রমণসূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
রোববার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুটি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের তিনটি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের দুটি ফ্লাইট রয়েছে। সব মিলিয়ে এসব ফ্লাইটের ২ হাজার ৯৫১ জন যাত্রী পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটের বিজি৩৩৯ ও বিজি৩৪০ ফ্লাইটও এর মধ্যে রয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) অনিবার্য পরিচালনগত কারণ দেখিয়ে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট দুটি স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয় রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি। একই সঙ্গে যাত্রীদের বিমানবন্দরে না যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
রোববার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানায়, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় ফ্লাইটের সময়সূচি নতুন করে নির্ধারণ করা হচ্ছে। পরিবর্তিত সূচি ও ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা জানতে যাত্রীদের পরবর্তী ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে।
এদিকে, বিমানবন্দর বন্ধের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশি এয়ারলাইন্সের পাশাপাশি সৌদি আরবের দুই সংস্থা সৌদিয়া ও রিয়াদ এয়ারওয়েজের ফ্লাইটেও। ফলে একাধিক এয়ারলাইন্সের যাত্রীদের যাত্রা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কখন ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক হবে, তা এখনো সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পরবর্তী ঘোষণার ওপর নির্ভর করছে।
এ অবস্থায় যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ সময়সূচি ও যাত্রার অবস্থা নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সৌদি বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের শোক : সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ ১২ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সহ বিভিন্ন দলের নেতারা। রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এই শোক প্রকাশ করা হয়।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, এ ঘটনায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন, আমি তাঁদের রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। একই সঙ্গে আহত ব্যক্তিদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।
তিনি বলেন, বেসামরিক নাগরিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় এ ধরনের হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয়। নিরপরাধ মানুষের জীবনহানি কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ধরনের সহিংসতা আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলে। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দায়িত্ব।
তিনি আরো বলেন, সৌদি আরবে বসবাসরত ও কর্মরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রয়োজনীয় সহায়তায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস : বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ তার শোক বিবৃতিতে বলেন,পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সফররত ব্যক্তিসহ নিরীহ মানুষের হতাহত হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। বেসামরিক মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংবেদনশীলতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।
তিনি বলেন, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথি কর্তৃপক্ষের কাছে প্রত্যাশা, তাঁরা যেন পবিত্র ওমরাহ পালন করতে যাওয়া যাত্রীসহ সব বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন। সংঘাতের কারণে যেন নিরীহ মানুষকে জীবন দিতে না হয়, সে জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
খেলাফত মজলিস : খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের নিহতদেরর মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। তারা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট ও সংঘর্ষে প্রবাসী বাংলাদেশীদের আরো নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সতর্কতা অবলম্বনের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান। নেতারা চলমান সংঘাত বন্ধে মুসলিম বিশ্বের নেতৃবৃন্দকে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানান।
ইসলামী আন্দোলন : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান তার শোক বাণীতে বলেন, বেসামরিক জীবন বিপন্ন করা এবং বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে এ ধরনের হামলা বরদাশতযোগ্য নয় এবং তা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত।
তিনি আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে অবিলম্বে শত্রুতা বন্ধ, বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামোর সুরক্ষা এবং সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে চলমান সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ উন্মুক্ত করার ওপরে জোর দেন।
জমিয়তে উলামা : জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি শাইখুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক ও মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বিবৃতিতে বলেন, পবিত্র ভূমি সৌদি আরবে এ ধরনের হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়। নিরীহ মানুষের প্রাণহানি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
খেলাফত আন্দোলন : বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী তার বিবৃতিতে মুসলমানদের পবিত্র নগরী মক্বা-মদীনাকে শত্রুদের আক্রমণ ও ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করার জন্য মুসলিম বিশ্বের শাসকসহ শান্তিকামি বিশ্ব নেতাদের জোরালো হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তিনি সৌদি ও বাংলাদেশ সরকারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে এই ন্যক্কারজনক সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা , শহীদ পরিবারের খোঁজখবর আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবি জানান।
নেজামে ইসলাম পার্টি : বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমীর (ভারপ্রাপ্ত) মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী ও মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইযহার বিবৃতিতে বলেন, বেসামরিক বিমানবন্দর ও নিরপরাধ মানুষকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান অস্থিতিশীলতাকে আরও বিপজ্জনক করে তুলতে পারে।
তারা বলেন, রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা শুধু সৌদি আরবের নিরাপত্তার ওপর আঘাত নয়; এটি আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তার জন্যও গুরুতর হুমকি। আমরা এ হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।
খেলাফত আন্দোলন : বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের (একাংশ) আমির আল্লামা আবু জাফর কাসেমী এবং মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম বিবৃতিতে বলেন, সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে ওমরা যাত্রীদের বহনকারী বিমানের ওপর হুতীতের হামলা অত্যন্ত নেককার জনক ও হৃদয়বিদারক ঘটনা, এটা কোনক্রমেই গ্রহণ করা যায় না। সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বিঘিœত হওয়ার মতো যেকোনো হামলা অত্যন্ত উদ্বেগ জনক। এ ধরনের হামলা আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button