স্থানীয় সংবাদ

যশোরে কয়েকটি ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

# অনিয়মে ভরা : লাখ টাকা জরিমানা #

মোঃ মোকাদ্দেছুর রহমান রকি যশোর থেকে ঃ যশোরের পপুলার মেডিকেল সার্ভিসেস অ্যান্ড হসপিটাল, দেশ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও আরিয়ান ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। ২৭ মে মঙ্গলবার দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহির দায়ান আমিনের নেতৃত্বে একটি টিম এ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় ওই তিন প্রতিষ্ঠানে নানা অসঙ্গতি ও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়।
সূত্র জানায়, এদিন দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের টিম যশোর শহরের যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সামনে ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের পপুলার মেডিকেল সার্ভিসেস অ্যান্ড হসপিটালে যায়। সেখানে গিয়ে দেখতে পান এই প্রতিষ্ঠানে চাকচিক্যপূর্ণ এক্স-রে রুম, অথচ সেখানে যশোর এমএম কলেজের সমাজবিজ্ঞানের ছাত্র এক্স-রে করছে। এ সংক্রান্ত তার কোনো সনদ না থাকলেও তিনি এ পেশায় নিয়মিত কাজ করছেন। শুধু তাই নয়, দুইজন মহিলা ল্যাব টেকনিশিয়ান কর্মরত রয়েছেন, তাদেরও ল্যাবের উপর কোনো সনদপত্র নেই। ভ্রাম্যমাণ আদালতের এ সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে তারা ব্যর্থ হন। এর বাইরেও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে নানা অনিয়মের বিষয় উঠে আসে ভ্রাম্যমাণ আদালতের টিমের কাছে। প্রতিষ্ঠানটিতে যথেষ্ট পরিমাণে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকলেও বড় ধরনের অসঙ্গতি বেরিয়ে পড়ে তাদের কাছে। এসব অপরাধে প্রতিষ্ঠান মালিকদের একজন হাসিবুর রহমানের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। পরে ওই টিম পাশ^র্তী দেশ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। সেখানে গিয়ে দেখতে পান এখানের অবস্থা আরো শোচনীয়। রিসিপশনিস্ট নেই, তিনি রয়েছেন রেস্টে। একইভাবে নেই ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ও নার্সও। কিছু সময় পর হুড়মুড় করে কেউ কেউ চলে আসেন প্রতিষ্ঠানে। খাতা-কলমে ৬ জন নার্স থাকলেও ১ জনও নেই সেখানে। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের টিম অপারেশন থিয়েটার পরিদর্শন করে দেখতে পান জরাজীর্ণ অবস্থা। অপারেশনে ব্যবহৃত সরঞ্জামগুলোর অবস্থা শোচনীয়। মানা হচ্ছে না নিয়মনীতি।এই প্রতিষ্ঠানে নেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। একই রকম অবস্থা দেখা যায় প্যাথলজি ও স্যাম্পল রুমেও। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের ওয়ার্ডগুলো দেখা যায় গুমোট প্রকৃতির। সেখানে রয়েছে মারাত্মক অক্সিজেনের ঘাটতি। দেখা যায়, একপাশে রয়েছে ময়লা আবর্জনার স্তুপ, অপরপাশে শুয়ে আছে নবজাতক মা ও শিশু। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নেই বললেই চলে। এই প্রতিষ্ঠানে নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। বাধ্যতামূলকভাবে থাকতে হবে এমন কাগজপত্রও দেখাতে ব্যর্থ হয় প্রতিষ্ঠানের মালিক কথিত প্রতিবন্দ্বি রাজু আহম্মেদ। ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে। সূত্রগুলো বলেছেন,এই প্রতিষ্ঠানের মালিক ইতিপূর্বে একজন সচিবকে দিয়ে জেলা সিভিল সার্জনকে উক্ত প্রতিষ্ঠানে যাতে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা না হয় এমন খবর উঠে এসেছে। গত ৫ আগষ্টের পর উক্ত সচিবের ক্ষমতা নেই বিধায় রাজু আহম্মেদ এখন বেকায়দায় পড়েছেন।এছাড়া, ভ্রাম্যমান টিম যশোর শহরের নওয়াপাড়া রোডের আরিয়ান ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে দেখতে পান প্রতিষ্ঠান চালু করার আগেই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তাদের নেই কোনো অনুমোদন, অথচ রোগীর আসা-যাওয়া চলছে দেদারসে। এ সময় সতর্ক করে প্রতিষ্ঠান মালিক আনিচুর রহমানের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতে আরও অংশ নেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজওয়ান সরদার, মাকামে মাহমুদা মীম, ডারিয়া নওশিন লুবনা ও যশোর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার রওশন আরা লিজা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button