ছোট বয়রা প্রাইমারী স্কুলের প্রধান শিক্ষিকাকে চোখের জলে বিদায় দিলো শিক্ষার্থীরা

# ঘোড়ার গাড়িতে রাজসিক বিদায় #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ মুন্নি ও শ্রদ্ধা অঝর ধারায় কাঁদছে। কারোর শান্তনা শুনছে না। পুরো অনুষ্ঠান জুড়ে তাদের কান্নাকাটি স্কুলের পরিবেশ ভারী করে তোলে। শুধু তারা দু’জনই নয় পুরো হল রুমের উপস্থিত শিক্ষার্থীরা কাঁদতে থাকে। তাদের কান্না দেখে অতিথিরাও চোখের জল ধরে রাখতে পারেনি। বিদায় অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের এমন কান্না অনেক স্কুলে দেখা যায় না। ব্যতিক্রম ছিল এই স্কুলটি। এই শিক্ষার্থীরা চোখের জলে বিদায় দিলো নগরীর ছোট বয়রাস্থ মণিন্দ্র রায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা কৃষ্ণা রানী মজুমদারকে। ৩৩ বছরের কর্মময়জীবন শেষে বিদায় উপলক্ষ্যে বৃহষ্পতিবার দিন ব্যাপী বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে নানা অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিল আলোচনা সভা, উপহার বিতরণ, বৃক্ষরোপন ও ঘোড়ায় চড়ে শিক্ষিকাকে বিদায় দেয়া। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা সোনিয়া আজমীরি। প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম কবিরুল ইসলাম, বিশেষ অতিথি ছিলেন ‘সাহিত্য সংসদ’ খুলনার সভাপতি সাইফুল ইসলাম মল্লিক, ‘বেলার’ খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল, সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন মহানগর কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক খলিলুর রহমান সুমন। সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবী মোঃ মতিয়ার রহমান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন শেখ তাঈম হোসেন। সংবর্ধনা শেষে কৃষ্ণা রানী মন্ডল বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপন করেন। এরপর তাঁর ছাত্র-ছাত্রী এবং এলাকাবাসী তাঁকে ঘোড়ার গাড়িতে করে রাজসিক শোভাযাত্রার মাধ্যমে তাঁর দীর্ঘদিনের কর্মস্থল মণিন্দ্রনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তাঁর নিজ বাসভবনে পৌঁছে দেয়। উল্লেখ্য, তিনি ১৯৯২ সালে এই স্কুলে প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে যোগদান করেন। কর্মময় জীবনের পুরো সময়টা তিনি এই স্কুলে অতিবাহিত করেন। ৩৩ বছর কর্মময় জীবনে তিনি অর্জিত ছুটিও পালন করেননি। এই মহান শিক্ষকের বিদায়ের সময় শিক্ষিার্থীরা অঝোরধারায় কাঁদতে থাকে। এ সময় স্কুল প্রাঙ্গণে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। তবে আগত অতিথিরা স্কুলের জায়গা মন্দির কমিটি কর্তৃক দখল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য তারা ডিসির হস্তক্ষেপ কামনা করেন।



