বিমানবন্দর থেকে ঈশ্বরদী পৌর ছাত্রলীগ সভাপতি গ্রেপ্তার

প্রবাহ রিপোর্ট : কাতার পালানোর সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ঈশ্বরদী পৌর সভাপতি আবির হাসান শৈশব (২৭) গতকাল শনিবার দুপুরে পাবনা জেলা আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হবে। গত শুক্রবার বিকেলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। শৈশব ঈশ্বরদী পৌর এলাকার পিয়ারাখালী জামতলা মহল্লার ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিনের ছেলে। পাবনার ঈশ্বরদী থানার ওসি আ ফ ম আব্দুর নূর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পাবনার ঈশ্বরদী থানা পুলিশের ইন্সপেক্টর (তদন্ত) এ বি এম মনিরুল ইসলাম জানান, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পাবনার ঈশ্বরদী শহরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার মিছিলে হামলার মামলায় এজাহারনামীয় আসামি শৈশব। ৫ আগস্টের পর থেকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পলাতক ছিলেন তিনি। ঈশ্বরদী থানার ওসি/তদন্ত মনিরুল ইসলাম মনির আরও বলেন, ঈশ্বরদীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে যুবদলের নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যে গুলি করা মামলার বেশ গুরুত্বপূর্ণ কিছু আসামির নাম আদালতের অর্ডার নিয়ে ইমিগ্রেশনে দেওয়া রয়েছে। তারা যেন কোনো অবস্থাতে বিদেশে না পালাতে পারে। গত শুক্রবার দুপুরের পর শৈশব হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে পৌঁছালে সেখানকার দায়িত্বরত ইমিগ্রেশন পুলিশ বিষয়টি ঈশ্বরদী থান পুলিশকে অবগত করলে, আমরা নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে আটকের নির্দেশ দেই। পরে আমরা ঢাকায় গিয়ে তাকে ঈশ্বরদী থানায় নিয়ে আসি। ঈশ্বরদী থানার ওসি আ স ম আব্দুর নূর জানান, পাবনার ঈশ্বরদী শহরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যুবদল নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যে গুলি করা মামলায় পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি শৈশব এজাহার নামীয় ১০ নম্বর আসামি ছিলেন। ওসি আরও জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার এক বছর তিনি পলাতক ছিলেন। কাতার পালানোর সময় ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করেছে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ। গতকাল শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। জানা যায়, ঈশ্বরদী থানা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পাবনার ঈশ্বরদীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার কর্মসূচিতে যুবদল কর্মীদের লক্ষ্য করে গুলির ঘটনায় একটি মামলা হয়। এতে ঈশ্বরদী পৌর এলাকার শৈলপাড়া মহল্লার মৃত আব্দুল রশিদের ছেলে যুবদল কর্মী নজরুল ইসলাম গুলিবিদ্ধ হয়। পরে নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে প্রয়াত সাবেক ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর সেজ ছেলে পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গালিবুর রহমান শরীফকে প্রধান আসামি করে ৭১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৮০-৯০ জনকে আসামি করেন। শৈশব ওই মামলার এজাহার নামীয় ১০ নাম্বার আসামি ছিলেন। উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শেষের কয়েক বছর, স্থানীয় এমপির নাম ভাঙিয়ে শৈশবের বিরুদ্ধে নিজের দলের নেতাকর্মীদের, মারধর, চাঁদাবাজি, দখলদারী, টেন্ডারবাজীর মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কলীয় নেতাকর্মীদের কাছে মূর্তিমান এক আতঙ্ক ও জল্লাদের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছিলেন ছাত্রলীগ নেতা শৈশব। তার গ্রেপ্তারের খবর চাওর হলে সাধারণ দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।



