নগরীতে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য, এবার চাপাতির কোপে পুলিশ পরিদর্শক : ঢাকায় রেফার্ড

# ‘সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দিতে গিয়ে এবার
নিজেরাই ছিনতাইয়ের শিকার পুলিশ কর্মকর্তা’ #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ
খুলনা মহানগরীতে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য নিয়ে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের অভিযোগ। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রায়ই ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন পথচারী ও সাধারণ মানুষ। এসব ঘটনায় ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে ভুক্তভোগীদের। এবার সেই ছিনতাইকারীদের হামলার শিকার হয়েছেন খোদ পুলিশের একজন পরিদর্শক। নগরীর সদর থানাধীন কলেজিয়েট স্কুলের সামনে প্রধান সড়কে তিন অজ্ঞাতনামা ছিনতাইকারীর ধারালো চাপাতির আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন শাহ আলম (৪৩) নামে ওই পুলিশ কর্মকর্তা। তাঁর দুই হাতের কবজির ওপরের অংশে গুরুতর জখম হয়েছে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ছিনতাই প্রতিরোধে পুলিশের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দিবাগত রাত ২টা ৩০ মিনিটের দিকে খুলনা মহানগরীর কলেজিয়েট স্কুলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত শাহ আলম খুলনা জেলার এ-সার্কেল অফিসে কর্মরত পুলিশ পরিদর্শক। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রূপসা থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান শেষে রিকশায় করে পুলিশ ক্লাবে যাচ্ছিলেন শাহ আলম। পথে কলেজিয়েট স্কুলের সামনে পৌঁছালে তিন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি তাঁর রিকশার গতিরোধ করে। এ সময় তারা তাঁর কাছে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে ধারালো চাপাতি দিয়ে তাঁর দুই হাতের কবজির ওপর আঘাত করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকা পুলিশ পরিদর্শককে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসে পুলিশ। খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও সোনাডাঙ্গা থানার মোবাইল টিমের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। রাত ৪টা ১৫ মিনিটে হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের ১১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডে তাঁকে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর দুই হাতের আঘাত গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। পরে পুলিশের সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে তাঁকে ঢাকার উদ্দেশে নেওয়া হয়। খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: লোকমান হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় খুলনা সদর থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। হামলাকারীদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নগরীর ওই এলাকাসহ বিভিন্ন সড়কে রাতের বেলায় ছিনতাইয়ের আশঙ্কা থাকে। সাধারণ মানুষ প্রায়ই ছিনতাইকারীদের কবলে পড়লেও এসব অপরাধ দমনে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন ভুক্তভোগীরা। ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে অনেকে টাকা, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান জিনিসপত্র হারাচ্ছেন। কোনো কোনো ঘটনায় হামলার শিকার হয়ে শারীরিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তাঁরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদারে কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে। বিশেষ করে গভীর রাতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও নির্জন এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এবার ছিনতাইকারীদের হামলায় একজন পুলিশ পরিদর্শক গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় সেই উদ্বেগ আরও জোরালো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন কর্মকর্তাও যদি গভীর রাতে সড়কে চলাচলের সময় এমন হামলার শিকার হন, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিতÑএ প্রশ্ন সামনে এসেছে।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি ছিনতাইপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে রাতের টহল জোরদার, সন্দেহভাজনদের নজরদারি এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে পুলিশ।



