জাতীয় সংবাদ

বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর জলবায়ু ঝুঁকি সহনশীলতার প্রশংসায় জার্মান প্রতিনিধিদল

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ পরিবেশ-প্রকৃতি সংরক্ষণ, পারমাণবিক নিরাপত্তা ও ভোক্তা সুরক্ষা বিষয়ক জার্মান সংসদীয় কমিটির একটি প্রতিনিধিদল ৭-১২ এপ্রিল বাংলাদেশ সফর করেছে। কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান মাইকেল থিউস (এসপিডি)-এর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটিতে আরও ছিলেন সাংসদ ভায়োলেটা বক (দ্য লেফট পার্টি), ড. ফ্রানজিস্কা কার্স্টেন (এসপিডি), ম্যানুয়েল ক্রাউথাউসেন (এএফডি), জুলিয়া শাইডার (অ্যালায়েন্স ৯০/দ্য গ্রিনস) এবং সাশা ভ্যান বিক (সিডিইউ/সিএসইউ)। বুধবার (১৫ এপ্রিল) ঢাকাস্থ জার্মান দূতাবাস জানায়, প্রতিনিধিদল দেশজুড়ে ভ্রমণ করে, যেখানে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠী ও বাস্তুতন্ত্র সরেজমিনে পরিদর্শন অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর মাধ্যমে সংসদ সদস্যরা জলবায়ু অভিযোজন, জীববৈচিত্র্য ও প্রজাতি সংরক্ষণ, পানি সুরক্ষা এবং পরিবেশ দূষণ মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রচেষ্টা সম্পর্কে অন্তর্দৃষ্টি লাভ করেন। ঢাকায় প্রতিনিধিদলটি রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সফর শুরু করে, যার মধ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর সাথে একটি বৈঠকও অন্তর্ভুক্ত ছিল। উভয় পক্ষ জার্মানি ও বাংলাদেশের মধ্যে চলমান সহযোগিতার গুরুত্বের ওপর জোর দেয় এবং পরিবেশগত বিষয়ে সহযোগিতার ভবিষ্যৎ সুযোগ নিয়ে আলোচনা করে। এরপর প্রতিনিধিদলটি সাভার সফর করে, যেখানে তারা বাংলাদেশের চামড়া ও বস্ত্র শিল্পের পরিবেশগত প্রভাব সম্পর্কে একটি বিশদ ধারণা লাভ করে, যা জাতীয় অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু। খুলনায় গিয়ে প্রতিনিধিদলটি জলবায়ু পরিবর্তনের স্থানীয় প্রভাব নিয়ে আলোচনা করতে নগর কর্তৃপক্ষের সাথে সাক্ষাৎ করে এবং শহরে পরিচালিত জার্মান অর্থায়নে চালিত জলবায়ু অভিযোজন ও জীবিকা নির্বাহ প্রকল্পগুলো পর্যবেক্ষণ করে। এরপর প্রতিনিধিদলটি সুন্দরবনে যায়, যেখানে তারা বাংলাদেশের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য এবং চলমান সংরক্ষণ প্রচেষ্টা সম্পর্কে জানতে পারে। সফরের শেষ দিনটি সাতক্ষীরার জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সাথে সাক্ষাৎ করে অতিবাহিত হয়, যারা জার্মান উন্নয়ন সহযোগিতার মাধ্যমে সহায়তা পেয়েছে। পুরো সফরজুড়ে আলোচনাগুলো ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির ওপর কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়েছিল, যা বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশে পরিণত করেছে। এইসব প্রতিকূলতা মোকাবিলায় বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর প্রদর্শিত সহনশীলতার জন্য সংসদ সদস্যরা গভীর প্রশংসা প্রকাশ করেছেন। প্রতিনিধিদলটি জার্মানিতে ফিরে তাদের প্রাপ্ত তথ্য ও সুপারিশসমূহ উপস্থাপন করবে। প্রতিনিধিদলের প্রধান মাইকেল থিউস বলেন, এখানে সাহায্য করার মতো প্রযুক্তিগত সক্ষমতা জার্মানির রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তাদের তা অব্যাহত রাখা উচিত। এই জলবেষ্টিত অঞ্চলের উদ্ভিদ ও প্রাণীজগতের বৈচিত্র্য অংশগ্রহণকারীদের মনে গভীর ছাপ ফেলেছে। সুন্দরবনের মাধ্যমে বাংলাদেশ এমন এক প্রাকৃতিক সম্পদের অধিকারী, যা অবশ্যই রক্ষা করতে হবে। একই সাথে, বন্যাপ্রবণ এলাকার পরিস্থিতি সেখানকার অধিবাসীর জন্য অত্যন্ত কঠিন। ঝড়-প্রতিরোধী ঘরবাড়ি, আশ্রয়কেন্দ্র এবং একটি নিরাপদ পানীয় জল সরবরাহ ব্যবস্থা জরুরি ভিত্তিতে অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি বলেন, আমরা অর্জিত অভিজ্ঞতাকে আমাদের রাজনৈতিক কাজে অন্তর্ভুক্ত করব এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে আরও বেশি পরিচিতি দেব। কৃতজ্ঞতার নিদর্শনস্বরূপ, আমরা ব্যক্তিগতভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে খুলনায় নিম্ন আয়ের এলাকায় আবর্জনা সংগ্রহের জন্য একটি সাইকেল কেনার অর্থায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সার্বিকভাবে, দলটি অনেক স্থায়ী ছাপ এবং আমাদের দুই দেশের মধ্যে ফলপ্রসূ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আকাক্সক্ষা নিয়ে দেশ ত্যাগ করছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ বলেন, এই সফরটি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি বৈশ্বিক পর্যায়ে জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় জার্মানির অঙ্গীকার প্রদর্শন করে। বাংলাদেশ শুধু জলবায়ু পরিবর্তন দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিতই নয়, বরং অভিযোজন কৌশলের ক্ষেত্রেও একটি অগ্রণী দেশ। তাই জ্ঞান বিনিময় এবং বাংলাদেশের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button