স্থানীয় সংবাদ

দৌলতপুর খুলনা-যশোর সড়কে বাস-মোটর সাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ : দম্পতি নিহত

# মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে
# ঘাতক বাস আটক, নিহত দম্পতির জানাযা ও দাফন সম্পন্ন #

স্টাফ রিপোর্টার : খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর থানাধীন রেলিগেটস্থ খুলনা-যশোর সড়কের উপর মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বাস-মটরসাইকেল মুখোমুখি সংর্ঘষে মটর সাইকেলে থাকা দম্পতি নিহত হয়েছেন। মর্মান্তিক এ সড়ক দূর্ঘনায় নিহতরা হলেন- খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা থানাধীন ভাতগাতি গ্রামের বাসিন্দা মহিউদ্দিন শেখে পুত্র তানভীর হাসান শেখ (৩১) ও স্ত্রী লামইয়া নাজনীন কবির (২৩)। মূমূর্ষ মারাত্বক জখম ও রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে খুমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত বলে ঘোষনা করেন। বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে ভিকটিম পরিবারের সদস্যেরা কোনো অভিযোগ না থাকা এবং মামলা না করার লিখিত আবেদন এবং খুমেক হাসপাতালের চিকিৎসকের মন্তব্যের ভিত্তিতে রোড ট্রান্সপোর্ট এক্সিডেন্ট (আরটিএ) আলোকে বিনা ময়না তদন্তে আত্বীয়দের কাছে নিহদের লাশ হস্তান্তর করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ দূর্ঘটনার শিকার মোটরসাইকেল ও ঘাতক বাসটিকে আটক করলেও বাসের চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়। ওই ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দৌলতপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম। এদিকে, বুধবার দুপুরে নিহত দম্পতির লাশ নিজ বাড়ী বটিয়াঘাটা নেওয়া হলে সেখানে আত্মীয় স্বজনের আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। বুধবার বাদ আসর বটিয়াঘাটার ভাতআটি গ্রামের স্থানীয় একটি মাঠে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত দম্পতির জানাযা নামাজ শেষে পারিাবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে তারা রেলিগেট হতে এ্যাডামস্ ইন্টিগ্রেটেড ট্রেনিং ইনষ্টিটিউট সম্মুখের মধ্যবর্তী এক জায়গায় বাস ও মোটর সাইকেল সংঘর্ষের বিকট আওয়াজ শুনতে পান। তখন তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং দেখতে পান এক ব্যক্তি বাগের সামনের অংশের নিচে ঢুকে পড়েছে তার কোমরের নীচসহ শরীর বিভিন্ন অংশ আঘাতপ্রাপ্ত এবং কিছু দূরে একজন নারীও ছিটকে পড়ে আছেন, তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশের আঘাত প্রাপ্ত। স্থানীয়রা তাৎক্ষনিক তাদের উদ্ধার করে খুমেক হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালের চিকিৎসক তাদের মৃত বলে ঘোষনা করেন। সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ বলছেন, সম্প্রতি খুলনা-যশোর সড়কে পরিবহনগুলো ট্রাফিক আইনকে বৃদ্ধাগুলি দেখিয়ে নিয়মবর্হিভূত ওভারট্রেকিং সহ পাল্লাপাল্লির প্রতিযোগীতায় নেমে ভয়ংকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। তাদের এমন অনিয়মতান্ত্রিক চলাচলে একদিকে যেমন ঘটছে দূর্ঘটনা, অন্যদিকে ঝুকিও বাড়ছে। দৌলতপুর রেলিগেটে এমন ভয়াবহ দূর্ঘটনাটিও ট্রাফিক নিয়মবর্হিভূত চলাচলের কারনে ঘটতে পারে বলে ধারনা। তারা, সড়কে ট্রাফিক নিয়মবর্হিভূত চলাচল বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য কেএমপির ট্রাফিক বিভাগের সুদৃষ্টি ও হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর থানাধীন রেলিগেটস্থ এ্যাডামস্ ইন্টিগ্রেটেড ট্রেনিং ইনষ্টিটিউট সম্মুখে খুলনা-যশোর সড়কের উপরে খুলনা অভিমুখি বাস রয়েল পরিবহন ও ফুলবাড়ীগেট অভিমুখি মোটর সাইকেল মুখোমুখি সংর্ঘষে মোটরসাইকেল চালক ও তার পেছনে বসা স্ত্রীকে মূমূর্ষ রক্তাক্ত জখম অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে খুমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত বলে ঘোষনা করেন। বাস-মোটরসাইকেলের দূর্ঘটনার খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে পৌছে উদ্ধার কার্যক্রমসহ বিবিধ কার্যক্রম শুরু করে। দূর্ঘটনার পরপর ঘাতক বাসটি ফেলে চালক ও হেলপার সুকৌলে পালিয়ে যায়। এসময় পুলিশ ঘটনাস্থল হতে বাসটিকে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে। এদিকে, দৌলতপুর থানা এলাকায় মোবাইল ডিউটিরত পুলিশ কর্মকর্তা এসআই সাইফুল ইসলাম ওই ঘটনার খবরে তাৎক্ষনিক খুমেক হাসপাতালে ছুটে যান মোটরসাইকেল চালক ও তার পেছনে বসা স্ত্রী মরদেহ দেখতে পান। অতঃপর নিহতদের প্রাথমিক সুরতহাল সম্পন্ন করেন। সোমবার দুপুরে ভিকটিম পরিবারের সদস্যেরা কোনো অভিযোগ না থাকা এবং মামলা না করার লিখিত আবেদন এবং খুমেক হাসপাতালের চিকিৎসকের মন্তব্যের ভিত্তিতে (রোড ট্রান্সপোর্ট এক্সিডেন্ট) বিনা ময়না তদন্তে আত্বীয়দের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে ওই এলাকার বাসিন্দা রুবেল জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ বাস-মোটর সাইকেল দূর্ঘটনার কবলে পড়ে বিকট শব্দ শুনে পায়। সাথে সাথে শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। সেখানে মোটর সাইকেল চালক বাসে নীচে ঢুকে যায়, তার শরীর আঘাত ও জখম প্রাপ্ত, পাশেই ছিটকে পড়ে আছেন এক নারী। তিনিও মারাত্বক জখম ও আঘাত প্রাপ্ত। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে দুজনই সেখানে মারা যায়। ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয় বিদারক ঘটনা। এ বিষয়ে পালপাড়া বৌ-বাজার এলাকার বাসিন্দা মাসুদ প্রধান বলেন, রেলিগেট এলাকায় পরিবহন, ট্রাকসহ ক্ষুদ্র যানবাহন বিশেষ করে মাহেন্দ্রা, সিএনজি ওভারট্রেকিং ও উচ্চগতিতে গাড়ি চালাচ্ছে। ওদের গতি এতো বেশি যে দূর্ঘটনার কবলে পড়লে নিয়ন্ত্রনে ব্যর্থ হবে। শহরে নিয়মবর্হিভূত চলাচলের জন্য ট্রাফিক বিভাগের ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিৎ বলে আমি মনে করি। এ বিষয়ে এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, দৌলতপুর রেলিগেট এলাকায় সড়ক দূর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মূমূর্ষদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত বলে ঘোষনা করেন। দিয়ে দূর্ঘটনায় নিহত দম্পতির প্রাথমিক সুরতহাল সম্পন্ন করি। পরিবারের অভিযোগ না থাকা, মামলা না এবং চিকিৎসকের আরটিএর পরিপ্রক্ষিতে নিহতদের মরদেহ বিনা ময়না তদন্তে বুধবার দুপুরে ভিকটিম পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া ঘাতক বাসটিকে আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রীয়াধীন। এ বিষয়ে দৌলতপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, রেলিগেট এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দূর্ঘটনার ঘটনায় পুলিশ বাদী মামলা করার সিধান্ত নেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংর্ঘষে মূমূর্ষদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তাদের মৃত হয়। ঘাতক বাসটি আটক করা হয়েছে। পালাতক ড্রাইভার ও হেলপারকে আটকে কাজ করছে পুলিশ। এছাড়া বুধবার দুপুরে পরিবারের অভিযোগ না থাকা, মামলা না করা এবং চিকিৎসকের আরটিএর পরিপ্রক্ষিতে নিহতদের মরদেহ বিনা ময়না তদন্তে ভিকটিম পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ বিষয়ে তদন্তসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের পদক্ষেপ চলমান রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button