জাতীয় সংবাদ

‘সুরভি স্কুলে’ মার্কিন বিশেষ দূত, শিশু কল্যাণে সহযোগিতার আশ্বাস

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ শিশু শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কল্যাণ খাতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপের লক্ষ্যে রাজধানীর ঢাকার ধানমন্ডিতে অবস্থিত ‘সুরভি স্কুল’ পরিদর্শন করেছেন মার্কিন বিশেষ দূত ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। রোববার (১৯ এপ্রিল) ‘সুরভি’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মার্কিন বিশেষ দূত (বেস্ট ফিউচার জেনারেশনস) চার্লস জে. হার্ডার এবং ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনসহ প্রতিনিধি দলের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে অংশীদারিত্ব জোরদার করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বর্তমানে শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য নিরাপত্তা, উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা (ওয়াশ) এবং শিশু সুরক্ষা বিষয়ক উদ্যোগগুলো বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ‘সুরভি’র প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু মার্কিন প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানান। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। এছাড়া শাহিনা খান জামানসহ সংস্থার অন্যান্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ও শিশুদের বিকাশে ‘সুরভি’র দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি দিতে মার্কিন প্রতিনিধিদল স্কুলটি পরিদর্শন করেন। এ সময় স্কুল প্রাঙ্গণে শিশুদের জন্য একটি বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির আয়োজন করে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ)। এ মেডিকেল ক্যাম্পে ৩০০ জনেরও বেশি শিশুর চোখ, দাঁত ও সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। জেডআরএফ প্রতিনিধি দলে ছিলেন সংস্থার সহ-সভাপতি ডা. জুবাইদা রহমান, নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার, পরিচালক অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান, ব্যারিস্টার জাইমা রহমান, ডা. মোস্তফা আজিজ সুমন এবং ডা. আমান উল্লাহ। অনুষ্ঠানে দুটি তথ্যচিত্রের মাধ্যমে ‘সুরভি’ ও জেডআরএফ-এর প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম ও অবদান তুলে ধরা হয়। পরে অংশগ্রহণকারীরা শিক্ষা ও শিশু স্বাস্থ্য খাতে ভবিষ্যতে সমন্বিতভাবে কাজ করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনও উপস্থিত ছিলেন। তার উপস্থিতি শিশুদের কল্যাণ ও বিকাশে সরকারের গভীর আগ্রহ ও সদিচ্ছার প্রতিফলন ঘটায়। সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু ১৯৭৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মাত্র একজন শিক্ষার্থী নিয়ে ‘সুরভি’ প্রতিষ্ঠা করেন। গত ৪৬ বছরে এই সংস্থাটি প্রায় ২৮ লাখ সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলেছে। তাঁর রচিত ‘ঝরাপাতা’ কবিতার দর্শনে উদ্বুদ্ধ হয়ে ঝরে পড়া শিশুদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই এই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য। সংশ্লিষ্টরা জানান, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর এ মেলবন্ধন বাংলাদেশের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button