সমুদ্র সৈকত থেকে সরানো হলো ৪৫ ফুটের প্লাস্টিক দানব

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে দাঁড়িয়ে থাকা আকাশছোঁয়া ‘বর্জ্যদানব’ অবশেষে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। পরিবেশ সচেতনতার প্রতীক হয়ে ওঠা এই বিশাল প্লাস্টিক ভাস্কর্যটি সোমবার (২০ এপ্রিল) অপসারণ করা হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের পরিচালক জামাল উদ্দিন। তিনি জানান, গত ১১ এপ্রিল অপসারণ কার্যক্রম শুরু হয়ে টানা তিনদিনের প্রচেষ্টায় ১৫ এপ্রিলের মধ্যে পুরো দানবটি সরানো হয়। পরে ব্যবহৃত সব প্লাস্টিক পাঠানো হয়েছে পুনর্ব্যবহারের (রিসাইক্লিং) জন্য। পুরো কাজটি সম্পন্ন হয়েছে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে। জামাল উদ্দিন বলেন, কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন উপকূলীয় অঞ্চল বর্তমানে মারাত্মক পরিবেশগত ঝুঁকির মুখে। সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে প্লাস্টিক দূষণের কারণে। এই বাস্তবতায় প্রতি বছরই এই অঞ্চলকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বিদ্যানন্দ। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য সমুদ্র ও উপকূলকে প্লাস্টিক দূষণ থেকে রক্ষা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা। জানা গেছে, উপকূল থেকে সংগ্রহ করা প্রায় ১০ টন পরিত্যক্ত প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল ৪৫ ফুট উচ্চতার এই ভাস্কর্য। এটি নির্মাণে সময় লেগেছে ২২ দিন। এতে কাজ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদের শিল্পীরা। প্লাস্টিকের পাশাপাশি ব্যবহার করা হয় বাঁশ, কাঠ, পেরেক ও আঠা। এই ‘দানব’ মূলত একটি প্রতীক সমুদ্রে জমতে থাকা প্লাস্টিক যে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে, সেটিই তুলে ধরেছে এই ভাস্কর্য। কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে প্রতিবছর আয়োজন করা হয় এই ‘দানব প্রদর্শনী’। নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত চলা এই প্রদর্শনীতে হাজারো পর্যটক ভিড় করেন। অনেকে ভাস্কর্যের সঙ্গে ছবি তুলেছেন, আবার অনেকেই উপলব্ধি করেছেন প্লাস্টিক দূষণের ভয়াবহতা। প্লাস্টিক প্রতিরোধ কর্মসূচির সমন্বয়ক মুহাম্মদ মোবারক জানান, ২০২২ সাল থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে চলছে এবং ২০২৬ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। আগামী অক্টোবর থেকে নতুন করে আবারও শুরু হবে এই উদ্যোগ। ২০২৫ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে চালানো হয় ‘প্লাস্টিক বিনিময়ে বাজার’ কর্মসূচি। এতে নিম্নআয়ের মানুষ প্লাস্টিক জমা দিয়ে খাদ্যপণ্য পেয়েছেন। সেই সংগৃহীত প্লাস্টিক দিয়েই তৈরি করা হয় এবারের দানব ভাস্কর্যটি। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে কক্সবাজার উপকূল থেকে প্রায় ৫ লাখ মেট্রিক টন প্লাস্টিক সংগ্রহ ও রিসাইক্লিং করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হয়েছে।



