জাতীয় সংবাদ

ময়মনসিংহে হত্যা মামলায় একই পরিবারের ৭ জনের মৃত্যুদ- : ২ জনের যাবজ্জীবন

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ ময়মনসিংহে কলেজশিক্ষার্থী শাহীনুর ইসলাম ইকবাল হত্যা মামলায় সাত আসামিকে মৃত্যুদ- এবং দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদ- দিয়েছেন আদালত। এছাড়া মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামিদের ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে যাবজ্জীবন দ-প্রাপ্তদের ২৫ হাজার টাকা করে অর্থদ-, অনাদায়ে আরও এক বছর করে সশ্রম কারাদ-ের আদেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ময়মনসিংহ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদ-প্রাপ্তরা হলেন-তারাকান্দা উপজেলার পলাশকান্দা টানপাড়া গ্রামের আসিফ রানা নাঈম (২৪), তার বাবা গোলাম হোসেন (৫৫), গোলাম হোসেনের ভাই মোহাম্মদ আলী (৫৬), মো. ইউনুছ আলী ওরফে ইন্নছ আলী (৬২) ও শামছুল হক (৪৮), মোহাম্মদ আলীর ছেলে মো. ফরিদ আহম্মেদ ওরফে বাবু (২৩) এবং গোলাম হোসেনের চাচাতো ভাই মো. আব্দুল হেলিম (৫৫)। যাবজ্জীবন দ-প্রাপ্তরা হলেন-মৃত্যুদ-প্রাপ্ত মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী খালেদা আক্তার (৪৯) এবং গোলাম হোসেন ওরফে গুলোর স্ত্রী রেহেনা খাতুন (৪৮)। আসামিরা সবাই একই পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ড. মো. রফিকুল ইসলাম খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ২০২১ সালে ৩১ মে রাতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার পলাশকান্দা টানপাড়া গ্রামের মুদি ব্যবসায়ী আব্দুর রউফের ছেলে শাহীনুর আলম ইকবালকে (১৯) হত্যা করে লাশ পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকে রাখা হয়। এরপর আসামিরা মানুষের সন্দেহ দূর করার জন্য ওই সেপটিক ট্যাংকের ওপর মরা শিয়াল ও গোবর ফেলে গাছ লাগিয়ে দেন। এদিকে শাহীনুর ইসলাম ইকবালকে খোঁজাখুজির পর না পেয়ে বড় ভাই সেলিম মিয়া বাদী হয়ে তারাকান্দা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এ ঘটনার পাঁচদিন পর অভিযুক্তদের বাড়ির পাশে সেপটিক ট্যাংকে তল্লাশি চালিয়ে ইকবালের অর্ধগলিত লাশ পায় পুলিশ। জানা যায়, নিহত ইকবাল ময়মনসিংহ রুমডো পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। মামলায় ২৪ জনের সাক্ষ্য নেওয়ার পর অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় মঙ্গলবার এ রায় দেন আদালত। মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট এ এইচ এম খালেকুজ্জামান।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button