জাতীয় সংবাদ

দামের ক্ষেত্রেও স্বস্তি নেই

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ দক্ষিণ এশিয়ায় জ্বালানি তেলের দাম ও মূল্যবৃদ্ধির চিত্র দেশভেদে ভিন্ন হলেও সামগ্রিকভাবে চাপ বাড়ছে সবখানেই। পাকিস্তানে গত এক বছরে একাধিক দফায় জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে এবং বর্তমানে পেট্রলের দাম লিটারপ্রতি ৩১২ পাকিস্তানি রুপি ছাড়িয়েছে। কয়েক দফা সমন্বয়ে অনেক ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধি ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা দেশটির সাধারণ পরিবহন ব্যয় ও জীবনযাত্রার খরচে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। শ্রীলঙ্কায় অর্থনৈতিক সংকটের সঙ্গে জ্বালানি সংকট যুক্ত হয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। সেখানে পেট্রলের দাম লিটারপ্রতি ৪৪৪ রুপি পর্যন্ত উঠেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। সর্বশেষ বাজার পরিস্থিতিতে অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ৪৫৪ রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৭৫ টাকা) পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা ভোক্তা পর্যায়ে বড় চাপ তৈরি করেছে। ভারতে জ্বালানি মূল্য তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করা হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামার প্রভাব পড়ছে। অনেক রাজ্যে পেট্রল লিটারপ্রতি ১০০ রুপির ওপরে বিক্রি হচ্ছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩৩–১৩৫ টাকার সমান। ডিজেলের দামও বাংলাদেশের তুলনায় লিটারপ্রতি ৪ থেকে ৫ টাকা বেশি রয়েছে। তবে সেখানে ‘অটোমেটেড প্রাইসিং’ ব্যবস্থার কারণে বিশ্ববাজার অনুযায়ী প্রতিদিন অল্প অল্প করে দাম সমন্বয় করা হয়, ফলে হঠাৎ করে বড় অংকের মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায়। নেপালে জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২১৯ নেপালি রুপি পর্যন্ত উঠেছে। গত কয়েক মাসে সেখানে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। অকটেনের ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ দামের অবস্থানও নেপালের, যেখানে এটি লিটারপ্রতি প্রায় ২৪৭ রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় ২০২ টাকা) পর্যন্ত পৌঁছেছে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোয় জ্বালানি তেলের দাম কাঠামো একরকম নয়। ভারতে নিয়মিত স্বয়ংক্রিয় মূল্য সমন্বয় থাকায় ধাপে ধাপে পরিবর্তন হয়। ফলে সেখানে বাংলাদেশের মতো হুট করে ১০-২০ টাকা বৃদ্ধির ধাক্কা সাধারণ মানুষকে সইতে হয় না।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button