আন্তর্জাতিক

গুরুতর আহত শীর্ষ নেতা মোজতবার প্লাস্টিক সার্জারি প্রয়োজন হতে পারে

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ ইরানের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে, যেখানে গুরুতর আহত অবস্থায় থাকা মোজতবা খামেনির ভূমিকা সীমিত হয়ে পড়ায় কার্যত ক্ষমতার কেন্দ্র ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি)-এর হাতে চলে গেছে বলে একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর বড় ধরনের আঘাতের পর মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা গুরুতর হয়ে পড়ে। তিনি বর্তমানে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ অত্যন্ত সীমিত রাখা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাকে চিকিৎসা দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল, যেখানে দেশের শীর্ষ স্বাস্থ্য কর্মকর্তারাও যুক্ত আছেন। তার শরীরের একাধিক স্থানে জটিল অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে কৃত্রিম অঙ্গ প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হতে পারে বলে চিকিৎসা সূত্রে জানা গেছে। মুখ ও ঠোঁটের গুরুতর ক্ষতির কারণে তার কথা বলার সক্ষমতাও সীমিত হয়ে পড়েছে, ফলে তিনি মূলত লিখিত নির্দেশনার মাধ্যমে যোগাযোগ করছেন। এই পরিস্থিতিতে ইরানের ক্ষমতার কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দেখা দিয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তাদের মতে, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় রেভল্যুশনারি গার্ডের শীর্ষ জেনারেলদের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, বর্তমান অবস্থায় মোজতবা খামেনির ভূমিকা প্রতীকী পর্যায়ে নেমে এসেছে এবং জেনারেলরা সম্মিলিতভাবে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এতে করে ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্যে সামরিক প্রতিষ্ঠানের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়, নির্বাচিত সরকার বর্তমানে মূলত দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ, খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহ এবং অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা রক্ষার দায়িত্বে সীমাবদ্ধ রয়েছে। কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের ভূমিকা আগের তুলনায় কমে গেছে। পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রেও পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পূর্বে যেসব কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন, তাদের প্রভাব কিছুটা কমেছে। একই সময়ে সংসদের স্পিকারসহ কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তির কূটনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা যায়। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন ইরানের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষমতার ভারসাম্যে সামরিক প্রতিষ্ঠানের প্রভাব আরও গভীর করতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি কতটা স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করছে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমঝোতা ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব কাঠামোর ওপর। তথ্যসূত্র : নিউইয়র্ক টাইমস

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button