আন্তর্জাতিক

মার্কিন নৌ-সচিবের আকস্মিক অপসারণ : পেন্টাগনে চরম অস্থিরতা

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনে বড় ধরনের রদবদল ও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বুধবার নৌবাহিনী সচিব জন ফেলানকে তার পদ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অপসারণ করা হয়েছে বলে সরকারি সূত্র ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। তবে এই সিদ্ধান্তের কোনো নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করা হয়নি। পেন্টাগনের এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানানো হয়, জন ফেলানের দায়িত্ব থেকে বিদায় “অবিলম্বে কার্যকর” হবে। বিষয়টি এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নেতৃত্ব নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক চলছিল। সূত্র অনুযায়ী, ফেলানের অপসারণের পেছনে নৌবাহিনীর জাহাজ নির্মাণ প্রকল্পে ধীরগতি এবং পেন্টাগনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে মতবিরোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, উপসচিব স্টিভ ফেইনবার্গ এবং নৌবাহিনীর শীর্ষ বেসামরিক কর্মকর্তা হাং কাওয়ের সঙ্গে তার সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়ছিল। এর পাশাপাশি তার দপ্তরের বিরুদ্ধে নৈতিকতা লঙ্ঘনের একটি তদন্তও চলছিল বলে জানা গেছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ফেলান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে বর্তমান মেয়াদে তিনিই প্রথম মনোনীত সার্ভিস সেক্রেটারি যিনি পদ হারালেন। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনী সচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন আন্ডারসেক্রেটারি হাং কাও। তিনি নৌবাহিনীর অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও নীতিনির্ধারণে আপাতত নেতৃত্ব দেবেন। এই ঘটনা এমন সময় ঘটল, যখন পেন্টাগনে একের পর এক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার পরিবর্তন চলছে। এর আগে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল সি কিউ ব্রাউন এবং সেনাপ্রধান র‌্যান্ডি জর্জকেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ডেমোক্র্যাট সিনেটর জ্যাক রিড এই পরিস্থিতিকে “উদ্বেগজনক” বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, প্রতিরক্ষা দপ্তর বর্তমানে অস্থিতিশীলতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এই নেতৃত্ব পরিবর্তন এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে এবং মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তির মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র নৌবহর সম্প্রসারণে বড় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রস্তাবিত প্রায় ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেটে নৌবাহিনীর জন্য প্রায় ৩৭৭.৫ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই বিশাল বাজেট বাস্তবায়ন এখন নতুন নেতৃত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ঘন ঘন নেতৃত্ব পরিবর্তন এবং বড় সামরিক পরিকল্পনার চাপ একসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি কৌশলে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে জাহাজ নির্মাণ শিল্পে শ্রমিক সংকট ও সরবরাহ ব্যবস্থার সমস্যাও পরিস্থিতিকে জটিল করছে। ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ইউজিন ভিন্ডম্যান বলেন, এমন পরিস্থিতি সেনাবাহিনীর ভেতরে অনিশ্চয়তা তৈরি করে এবং স্থিতিশীল নেতৃত্ব ছাড়া বৈশ্বিক নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তথ্যসূত্র : নোটাস্, রয়টার্স।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button