সম্পাদকীয়

অবিলম্বে তদন্ত করা হোক

# ক্রিকেট বিশ্বকাপে বাংলাদেশ কেন খেলতে পারেনি #

ক্রিকেটের সর্বোচ্চ আসরে খেলবেন এমন স্বপ্ন প্রত্যেক ক্রিকেটারের মনেই থাকে। আর চূড়ান্ত দলে যাঁরা মনোনীত হন বা মনোনীত হওয়ার অবস্থায় থাকেন, তাঁদের স্বপ্ন তো আকাশ ছুঁয়ে যায়। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে এমনই স্বপ্ন দেখেছিলেন বাংলাদেশের অগ্রগামী ক্রিকেটাররা। কিন্তু চূড়ান্ত আসর শুরুর মাত্র মাসখানেক আগে তাঁদের সেই স্বপ্ন ভঙ্গ হয়। জানিয়ে দেওয়া হয়, বাংলাদেশ দল অংশ নেবে না ভারতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ক্রিকেট বিশ্বকাপে। ক্রিকেটারদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে, অন্তর বেদনায় নীল হয়। হয়তো এটিই হতো কারো জীবনের শেষ বিশ্বকাপ খেলা। কিন্তু ক্ষমতার অপ্রতিরোধ্য শক্তির কাছে তাঁদের শেষ ইচ্ছার অপমৃত্যু হয়। বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার বিষয়টি কার ইচ্ছায় কিভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা এখন অনেকটাই স্পষ্ট। গতকাল দৈনিক প্রবাহে এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বিসিবির একজন সাবেক পরিচালক এবং একজন জাতীয় ক্রিকেটারের বিশেষ লেখা প্রকাশিত হয়েছে। সেসব থেকে স্পষ্টই জানা যায়, বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তটি মূলত তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের। আগে থেকেই তিনি ভারত ও ক্রিকেটবিরোধী বক্তব্য দিয়ে আসছিলেন। খেলোয়াড়দেরও অনেকে জানতেন, আসন্ন বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশ নেওয়া অনিশ্চিত। এর মধ্যে এসে যায় মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি। মওকা পেয়ে তিনি আর দেরি করেননি। ঘটনাটি ৩ জানুয়ারির। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালকরা সিদ্ধান্ত নেন পরদিন (৪ জানুয়ারি) ভারতের এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা চাওয়া হবে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে। কিন্তু ৩ জানুয়ারি রাতেই ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেন, নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশ দলের ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া উচিত হবে না। এরপর কার্যত বিসিবির অবস্থান দুর্বল হয়ে যায়। খেলোয়াড়দের সঙ্গেও কোনো আলোচনা করা হয়নি। ১৩ জানুয়ারি মন্ত্রণালয় থেকে ভারতে না যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয় বিসিবিকে। এরপর ২২ জানুয়ারি ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল একটি পাঁচতারা হোটেলে খেলোয়াড়দের ডেকে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন। অশ্রু চেপে রেখে খেলোয়াড়রা তা শুনে যান। জানা যায়, আসিফ নজরুল তখন আইন উপদেষ্টা (ক্রীড়া উপদেষ্টা হননি), তখনই জাতীয় স্টেডিয়ামে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ খেলা শেষে তিনি বলেছিলেন, ‘ফুটবল হচ্ছে বাংলাদেশের লাইফলাইন। আর ক্রিকেট হচ্ছে অন্য দেশের (ভারতের) আধিপত্য, সেই আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য অনেক বেশি ক্রিকেটকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।’ জাতীয় ক্রিকেটার এবং ক্রিকেটারদের সংস্থা কোয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন বলেছেন, ‘এ বিষয়ে প্রথম আঁচ পাওয়া যায় ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লীগ বিপিএল চলার সময়ই। তখনই ক্রিকেটারদের একটি বড় অংশ কানাঘুষায় জানতে পারে, আসন্ন বিশ্বকাপে দলের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত।’ নতুন সরকারের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকও কিছুতেই মানতে পারছেন না যে বিশ্বকাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি আসরে বাংলাদেশ অংশ নেয়নি। লিটন দাসদের ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার জন্য দায়ী কে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে চান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীও। গত ১৭ মার্চ তাই জানিয়েছিলেন যে এর তদন্ত করবে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। আমরা মনে করি, কারো ব্যক্তিগত বিশ্বাস, ক্ষোভ বা বিদ্বেষের কারণে ক্রিকেট বিশ্বকাপ থেকে একটি প্রজন্মকে বঞ্চিত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরাও চাই, বিষয়টির দ্রুত তদন্ত হোক। কারা এর জন্য দায়ী, তা নির্ধারণ করা জরুরি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন
Close
Back to top button