এআই দিয়ে কণ্ঠ নকল করে যৌন উত্তেজক ওষুধের প্রচারণা

# মিজানুর রহমান আজহারীর কণ্ঠ ও ভিডিও নকল করে ভুয়া বিজ্ঞাপন তৈরি করত #
প্রবাহ রিপোর্ট ঃ চট্টগ্রামের বাইজিদ বোস্তামী এলাকায় পরিচালিত এক অভিযানে ভুয়া কল সেন্টারভিত্তিক প্রতারণা চক্রের একটি বড় নেটওয়ার্কের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। অভিযানে চট্টগ্রাম ও ঢাকা থেকে এই চক্রের ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রায় ৩ টন যৌন উত্তেজক ওষুধ জব্দ করা হয়েছে। চক্রটি ডিপফেক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে মিজানুর রহমান আজহারী, তাসলিমা জারা, জাকির নায়েক ও ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের কণ্ঠ নকল করে অনলাইনে ভুয়া প্রচারণার মাধ্যমে এসব ওষুধ বিক্রি করছিল। শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বাইজিদ বোস্তামীর একটি বাসা থেকে চক্রটির মূল কার্যক্রম পরিচালিত হতো। এটি ছিল একটি কল সেন্টার ও অবৈধ ব্যবসার হাব। সেখান থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষকে প্রলুব্ধ করা হতো। চক্রটি চট্টগ্রাম থেকে প্রচারণা চালালেও পণ্য সরবরাহ করা হতো ঢাকার মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে। এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যিনি একটি গুদামের দায়িত্বে ছিলেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১১টি ল্যাপটপ, ১৩টি স্মার্টফোন, ৩৪টি ফিচার ফোন, ২১টি সিম কার্ড ও ২টি পেনড্রাইভ জব্দ করা হয়। পাশাপাশি মোহাম্মদপুরের একটি গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ যৌন উত্তেজক ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, চক্রটি এআই ব্যবহার করে জনপ্রিয় ইসলামিক বক্তা মিজানুর রহমান আজহারীর কণ্ঠ ও ভিডিও নকল করে ভুয়া বিজ্ঞাপন তৈরি করত। এসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হতো। পুলিশ বলছে, এটি অত্যাধুনিক প্রতারণার কৌশল, যেখানে বাস্তব ব্যক্তির কণ্ঠ ও চেহারা ব্যবহার করে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বয়স ১৯ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে। চক্রটির মূল হোতা সারাফাত হোসেন, যিনি প্রযুক্তি ও ওয়েব ডিজাইনে দক্ষ। আরেক সদস্য শাফায়েত হোসেন শুভ এআই ব্যবহার করে ভুয়া কনটেন্ট তৈরি করতেন। পুলিশ জানায়, চক্রটি পাঠাও ও স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’ পদ্ধতিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে পণ্য সরবরাহ করত। তবে সংশ্লিষ্ট কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি মিজানুর রহমান আজহারীর পক্ষ থেকে একজন প্রতিনিধি করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, চক্রটির আরও সদস্য এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা সম্ভাব্য গুদাম শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একইসঙ্গে ভুয়া ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইট বন্ধে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট সাইবার ইউনিট। ডিসি হারুন বলেন, এটি একটি বড় নেটওয়ার্ক। আমরা আশা করছি, তদন্তের মাধ্যমে পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। সম্প্রতি দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি পুলিশের প্রটেকশন বিভাগের দায়িত্ব। তারা সহযোগিতা চাইলে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।



