জাতীয় সংবাদ

তারেক রহমানের ‘কোমর ভেঙে’ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার জেনারেল মাসুদের

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আলোচিত সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর (অব.) বিরুদ্ধে ১/১১’র সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘কোমর ভেঙে’ দেওয়ার অভিযোগ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। সোমবার (২৭ এপ্রিল) জুলাই আন্দোলনের সময় মিরপুরে দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় রিমান্ড শুনানিতে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন এ অভিযোগ করেন। তবে জেনারেল মাসুদ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গত ৭ এপ্রিল দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় তাকে চার দিন এবং গত ১১ এপ্রিল আরও চার দিনের রিমান্ডের আদেশ হয়। দ্বিতীয় দফা রিমান্ডে অসুস্থতা বোধ করলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে সোমবার তাকে আদালতে হাজির করে পুনরায় ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা, গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক কফিল উদ্দিন। রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, ২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেনের মূল কারিগরদের একজন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। ওয়ান-ইলেভেনের সময় তারেক রহমানকে ঝুলিয়ে পিটিয়ে কোমরের হাড় ভেঙে দেন। এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা।’ আসামি অসুস্থ ও বয়স্ক উল্লেখ করে অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম সজীব রিমান্ড বাতিলসহ জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম তার তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে হামলা চালানো হয়। আসামিরা বিভিন্ন দিক থেকে গুলি ছুড়তে থাকে। এতে আন্দোলনে অংশ নেওয়া দেলোয়ার হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। প্রথমে তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে এবং পরে শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০২৪ সালের ২১ জুলাই সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ৬ জুলাই নিহত দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী মোছা. লিজা বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে গত ২৩ মার্চ মাসুদ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সিন্ডিকেট করে ২৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও মানবপাচারের মামলায় পরদিন পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। একই মামলায় গত ২৯ মার্চ দ্বিতীয় দফায় ৬ দিন এবং ৪ এপ্রিল তৃতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button