নগরীর প্রতিবন্ধি স্কুলের (পিএইচটি সেন্টার) পতিত জমিতে সবজির আবাদ

আনাগোনা নেই মাদকসেবী ও বহিরাগতদের
শেখ ফেরদৌস রহমান : নগরীর খালিশপুরে গোয়ালখালী প্রতিবন্ধি স্কুল (পিএইচটি) সেন্টারে ফেলে রাখা পতিত জমিতে সবজির আবাদ করা হয়েছে। পতিত জমিতে সবজি উৎপাদন করে প্রশংসায় ভাসছেন স্কুলটির তত্ববাধায়ক পরিচালক মোঃ শফিকুল ইসলাম।
সরেজমিনে দেখা যায়, পাকিস্তান সরকারের সময় নির্মিত এই প্রতিবন্ধি স্কুলে জরাজীর্ণ ভবণের পাশে পতিত জমিতে বেগুন, পেঁেপ, মরিচ, লাউ, লাল শাক, টমেটো, ধনিয়াপাতা ও ডাটাশাকসহ নানা প্রকার সবজির ফলন। গেল প্রায় ছয় দশকে প্রথম এমন ভিন্ন চিত্র এই প্রতিবন্ধি বিদ্যালয়টি। এমনকি এসব সবজির ফলন বাইরে কোন জায়গায় বিক্রি হয়না। যা ফলন হয় সেই সবজি প্রতিবন্ধি শিক্ষার্থীদের খাদ্যের জন্য বরাদ্ধ থাকে। তবে, বিদ্যালয়টির কর্মরত স্টাফরা নিতে পারেন সে ক্ষেত্রে তাদের বাইরের বাজার দর অনুযায়ী ক্রয় করতে হবে। এমনকি বিদ্যালয়টির পুকুরের মাছ পর্যন্ত এই প্রতিবন্ধিদের খাবারে দেয়া হচ্ছে। এর আগে এই প্রতিবন্ধি স্কুলটির আশেপাশে মাদক সেবীদের আড্ডা ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা কাজী আশরাফ হোসেন বলেন, আমার বাড়ীর পাশে এই প্রতিবন্ধি স্কুল। এখানে নারকেল, আম, তাল ও কাঠাল গাছে যে ফলন হতো তার সবই স্থানীয় ও কর্মরত স্টাফরা নিয়ে যেত। তবে, গেল এক বছর যাবৎ এখানে নতুন একজন তত্তবাধায়ক পরিচালক যোগদান করার পর বিদ্যালয়টি চিত্র পাল্টিয়ে দিয়েছে। এখন চার পাশে শুধু সবজির আবাদ। শীতকালীন সময়ে পালং শাক, লাল শাক, টমোটো, ধনিয়াপাতার ভালোই ফলন হয়েছে। আবার দেখছি বেগুন চারা, মরিচের চারা, পেপেঁর চারার আবাদ করেছে। আগে সন্ধার পর বিদ্যালয়টিতে কিছু মাদক সেবীরা প্রবেশ করে মাদক সেবন ও জুয়া খেলত। এখন এর কোন সুযোগ পাচ্ছেনা। এর কারণ ফাঁকা জায়গাটিতে সবজির আবাদ থাকায় তারা আর প্রবেশ করতে পারছেনা। এছাড়া চারপাশে ভালো ভাবে প্লাস্টিক এর নেট দিয়ে বেড়া তৈরি করার কারণে বহিরাগতদের প্রবেশের কোন সুযোগ নেই।
বিষয়টি নিয়ে পিএই্চটি সেন্টারের তত্তবাধায়ক পরিচালক মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে এই প্রতিবন্ধি বিদ্যালয়টিতে প্রায় ১১৬ জন প্রতিবন্ধি শিক্ষার্থী আছে। যার মধ্যে ১০৪ জন শিক্ষার্থী আবাসিক, আর বালিকা শিক্ষার্থী আছে প্রায় ৫৫ জন। এছাড়া ১৪ জনের মত অনবাসিক প্রতিবন্ধি শিক্ষার্থী আছে। এদের খাবার সরকারীভাবে বরাদ্ধ থাকে ঠিকাদারদের মাধ্যমে। তবে, আমি যোগদান করার পর বিকল্প ভাবনা মাথায় এলো যে ফেলে রাখা এসব জমিতে কিছু করতে হবে। এজন্য প্রথমে আমি বিদ্যালয়টির একটি পুকুরে সামান্য কিছু টাকার মাছের পোনা ছেড়ে সেই মাছ বিক্রি করে কিছু অর্থ দিয়ে এ্ই সবজির আবাদ শুরু করলাম। গেল শীতকালীন সময়ে পালং শাক, লাল, শাক, ধনিয়াপাতা, টমেটো আবাদ করে বেশ ফলন হয়। এই সবজি আবাসিক প্রতিবন্ধি শিক্ষার্থীরা খেতে পেরেছে। পাশাপাশি পুকুরের মাছগুলো আমরা বাইরে বিক্রি না করে এসব প্রতিবন্ধি শিক্ষার্থীদের খেতে দিতে পেরেছি। আগামীতে যদি পেপে, বেগুন ও মরিচের ফলন ভালো হয় তাহলে আমরা স্কুলটিতে আবাাসিক শিক্ষার্থীদের খাওয়ানোর পর যদি অতিরিক্ত থাকে আমরা স্টাফদের কাছে বিক্রি করব। আর এই অর্থ আবারও কৃষি কাজে খরচ করে আরও উন্নত করব। আমার এই ভাবনা নিজ উদ্দোগে হয়েছে। পাশাপাশি কর্মরত স্টাফসহ স্কুলটির প্রতিবন্ধি শিক্ষার্থীরা সহযোগীতা করেছে। আগামী দিনেও এমন কার্যক্রম চলমান থাকবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।



