নুসরাতের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করবে ইসি : যাবে না আপিলে

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী ও এনসিপি নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র গ্রহণের হাইকোর্টের দেওয়ার আদেশ বাস্তবায়ন করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এক্ষেত্রে আপিলে যাবে না সংস্থাটি। সোমবার (২৭ এপ্রিল) জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নুসরাত তাবাসসুম কমিশন নির্ধারিত সময়ের ১৯ মিনিট পরে মনোনয়নপত্র ইসির প্রাপ্তি ও জারি শাখায় দাখিল করেন। পরে তা রিটার্নিং কর্মকর্তা গ্রহণ করেননি। ফলে তার প্রার্থিতা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এরপর নুসরাত আদালতের দ্বারস্থ হলে সোমবার (২৭ এপ্রিল) তা গ্রহণ করার জন্য ইসিকে নির্দেশনা দেন হাইকোর্ট। আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের পরে কোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্র গ্রহণের সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে হাইকোর্ট আদেশ দেওয়ায় কমিশন আপিল করবেন কি-না, জানতে চাইলে আব্দুর রহমানের মাছউদ বলেন, ‘আমরা আদেশ বাস্তবায়ন করবো। কোনো আপিলে যাবো না। কেননা, মামলায় আমাদের তো পক্ষভুক্ত করা হয়নি।’ রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসির যুগ্ম-সচিব মো. মঈন উদ্দীন খান বলেন, এনসিপির প্রার্থী নির্ধারিত সময়ের ১৯ মিনিট পর মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। আইন অনুযায়ী তা গ্রহণের সুযোগ নেই বলে তা বাছাইয়ের তালিকায় রাখা হয়নি। মাননীয় আদালত এখন নির্দেশনা দিয়েছেন তা গ্রহণের। এই নির্দেশনা এসেছে কমিশনের প্রতি। কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়ে যে নির্দেশনা দেবেন, তাই বাস্তবায়ন করা হবে। হাইকোর্ট নুসরাতের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে তা আইন অনুযায়ী বিবেচনায় করতে বলেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এখানে আইন অনুযায়ী বিবেচনা বলতে মনোনয়নপত্র গ্রহণের পর তা বাছাই করা হবে। বাছাইয়ে বৈধ হলে এবং কেউ আপিল না করলে বা আপিল করলে সেখানে তিনি টিকে গেলে প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে থাকবেন। ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল ২১ এপ্রিল বিকেল ৪টা। এই সময়ের মধ্যে ৫৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। এদের মধ্যে বিএনপি জোটের ৩৬ জন, জামায়াত জোটের ১৩ জন (নুসরাত জমা দেন ৪টা ১৯ মিনিটে), স্বতন্ত্র জোটের একজন ও ব্যক্তিগতভাবে তিন প্রার্থী জমা দেন। এদের মধ্যে ২২ ও ২৩ এপ্রিল বাছাইয়ে জামায়াত জোটের নুসরাতের মনোনয়নপত্র তালিকার বাইরে থেকে যায়। বাছাইয়ে জামায়াত জোটের আরেক প্রার্থী এনসিপি নেত্রী মনিরা শারমিন তার সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগের তিন বছর সময় অতিবাহিত না কারণে অবৈধ হন। এই জোটের টিকে যান ১২ জন। স্বতন্ত্রদের জোটের প্রার্থীও বৈধ হন। বিএনপি জোটের ৩৬ জনই টিকে যান। আর ব্যক্তিগতভাবে মনোনয়নপত্র জমাদানকারী তিনজনের মধ্যে একজন প্রত্যাহার করেন ও দু’জন অবৈধ হন। সংসদের সাধারণ আসনের সংখ্যানুপাতে ইসির বণ্টন করা তালিকা অনুযায়ী, বিএনপি জোটের ৩৬টি, জামায়াত জোটের ১৩টি ও স্বতন্ত্র জোটের একটি আসন সংসদে নির্ধারিত ছিল। কিন্তু জামায়াত জোটের একটি মনোনয়নপত্র কম হওয়ার সংকটের সৃষ্টি হয়। জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ এ বিষয়ে বলেন, দল ও জোটের জন্য নির্ধারিত বণ্টন অনুযায়ী, কোনো দল বা জোটের মনোনয়নপত্র প্রাপ্ত আসন সংখ্যার চেয়ে কম হলে সংশ্লিষ্ট আসনটি সকল দল ও জোটের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যায়। এটাই আইন। এক্ষেত্রে নতুন তফসিলে ভোট হয়। আর এতে সকলেই প্রার্থী দিয়ে ভোটে অংশ নিতে পারে। ইসি কর্মকর্তারা জানান, সংসদের ভোটার সংখ্যা (সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটার কেবল সংসদ সদস্যরা) বিএনপি জোটের বেশি হওয়ায় উন্মুক্ত আসনটি এই জোটের শিবিরে তুলে নেওয়ার শতভাগ সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়। বর্তমানে আদালতের দেওয়া আদেশ বাস্তবায়ন হলে জামায়াত জোটের সেই শঙ্কা কেটে যাবে। কারণ, নুসরাতের মনোনয়ণপত্র বৈধ হলে এবং আপিলে বাতিল না হলে জামায়াত জোট শেষমেষ নির্ধারিত ১৩টি আসনই পাবে। আপিল শেষে বর্তমানে বিএনপি জোটের প্রার্থীরা হলেনÑসেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আর্লি, মোছাম্মত ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, শাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলুফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জেবা আমিন খান, মাহমুদা হাবিবা, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিঞ্জ, সুবর্ণা শিকদার, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বিথীকা বিনতে হুসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানছুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলম, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, শওকত আর আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা ও রেজেকা সুলতানা। জামায়াত জোটের ১২ প্রার্থী হলেনÑনূরুন্নিসা সিদ্দীকা, মারজিয়া বেগম, সাবিকুন্নাহার মুন্নী, নাজমুন নাহার নীলু, মাহফুজা হান্নান, সাজেদা সামাদ, শামছুন্নাহার বেগম, মারদিয়া মমতাজ, রোকেয়া বেগম, মাহমুদা আলম মিতু, তাসমিয়া প্রধান ও মাহবুবা হাকিম। এছাড়া স্বতন্ত্র জোটের বৈধ প্রার্থী হচ্ছেন সুলতানা জেসমিন। তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল, প্রতীক বরাদ্দ ৩০ এপ্রিল। আর নির্বাচন হবে ১২ মে। তবে জোটগুলোর একাধিক প্রার্থী না থাকায় সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে পারেন।

