রোহিঙ্গারা কি স্থায়ী হচ্ছে ?

# স্থানীয় লোকজন আতঙ্কিত #
রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের জন্য মাথাব্যথার একটি বড় কারণ হয়ে উঠেছে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যও নানাভাবে ধোঁয়াশা তৈরি করছে। অন্যদিকে কক্সবাজারের উখিয়া, টেকনাফ ও আশপাশের এলাকায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আধিক্যের কারণে স্থানীয় জনগোষ্ঠী কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। স্থানীয় লোকজনের পক্ষে সেখানে বসবাস করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে পাহাড় কেটে রোহিঙ্গাদের জন্য ইট ও লোহার কাঠামোতে ৮৮৮টি পাকা ঘর বা স্থায়ী শেল্টার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদিও শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরসি) বলছেন, এগুলো স্থায়ী নয়, ‘টেকসই’ ঘর। এ নিয়ে এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে। স্থানীয় লোকজনের আশঙ্কা, এতে পরিবেশগত ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনপ্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। স্থানীয় সূত্র জানায়, নির্মাণকাজের অংশ হিসেবে এরই মধ্যে পাহাড় কেটে প্রায় ১০ ফুট প্রশস্ত সড়ক তৈরি করা হয়েছে। আশপাশের টিলাও কেটে সমতল করা হচ্ছে। নির্মাণকাজের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর উখিয়া-টেকনাফ এলাকায় ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, ২০২৫ সালের রমজান মাসে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের রোহিঙ্গা ক্যাম্প সফরের সময় ‘মানবিক করিডর’ নিয়ে আলোচনার আড়ালে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে স্থায়ী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্তমান নির্মাণকাজ সেই পরিকল্পনারই অংশ বলে তাদের ধারণা। পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী অভিযোগ করেন, ইউএনএইচসিআরের সহযোগিতায় কিছু এনজিও ও আইএনজিও রোহিঙ্গাদের স্থায়ী করার চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেন, ইউএনএইচসিআরের বরাদ্দ অর্থে লোহা, ইট ও কংক্রিটের দোতলা অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সাফফাত ফারদিন চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর উচিত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরাতে সহায়ক ভূমিকা রাখা। স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ তাদের ফেরার আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে। উখিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ইট-লোহার ঘর নির্মাণ স্থানীয় লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবদুল মান্নান বলেন, রোহিঙ্গাদের স্থায়ী করার যেকোনো উদ্যোগ বন্ধ করতে হবে। পাহাড় কাটা অবিলম্বে বন্ধ না হলে স্থানীয় লোকজন কঠোর কর্মসূচি দেবে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কক্সবাজার জেলা আমির মাওলানা নূর আহমেদ আনোয়ারী বলেন, এ ধরনের স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ উদ্বেগজনক। তিনি দ্রুত কাজ বন্ধে সরকারের হস্তক্ষেপ চান। আমরা আশা করি, স্থানীয় জনমতকে গুরুত্ব দিয়ে অবিলম্বে এ ধরনের উদ্যোগ বন্ধ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি তাদের দ্রুত পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে।
