বিদ্যমান আইনেই পুনর্গঠন হচ্ছে দুদক

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ ২০০৪ সালে বিএনপি সরকার প্রণীত ‘দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪’ এর আলোক পুনর্গঠন করা হবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কমিশনারের সংখ্যা থাকছে তিন জনই। প্রয়োজনীয় কিছু সংশোধন সম্পন্ন করে সংসদে প্রণয়ন করা হবে সংশোধিত আইন। এমন তথ্য দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান। গতকাল (রোববার) দুপুরে সপ্তাহের প্রথম কার্য দিবসে নিজ দফতরে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপচারিতায় এ তথ্য জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, দুদককে প্রকৃত অর্থেই একটি কার্যকর ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হবে। যাতে থাকবে কর্মকর্তাদের কঠোর জবাবদিহিতা। বিদ্যমান আইনে যে ‘সার্চ কমিটি’ রয়েছে, সেটিতেও আনা হবে সংশোধনী। আসন্ন বাজেট অধিবেশনে আইনটি সংসদে উঠতে পারে-মর্মে ইঙ্গিত দেন আইনমন্ত্রী। বিশেষ শ্রেণির ক্যাডারের কর্তৃত্ব নয়-একটি ভারসাম্যপূর্ণ কমিশন গঠনই সরকারের লক্ষ্য। যাতে কমিশন হবে গতিশীল ও রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত। নিরীহ মানুষ যাতে কোনো প্রকার হয়রানির শিকার না হন-সংশোধিত আইনে তার আলোকপাত থাকবে। এ বিষয়টি নিয়ে সরকার কাজ করছে বলেও জানালেন তিনি। দুই মাসেরও বেশি সময় অকার্যকর হয়ে পড়ে থাকা দুদক পুনর্গঠন সম্পর্কে দীর্ঘ নিরবতা ভেঙ্গে এই প্রথম সুস্পষ্ট মন্তব্য করলেন আইন মন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান। এদিকে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে অভিভাবক শূন্য অবস্থায় পড়ে আছে দুর্নীতিবিরোধী একমাত্র রাষ্ট্রীয় সংস্থা-দুর্নীতি দমন কমিশন। ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার পাঁচ জন কমিশনার নিয়োগের বিধান সম্বলিত একটি অধ্যাদেশ করে গেলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সেটি আইনে পরিণত করেনি। আরো পরিশীলিত ভাবে পরবর্তীতে আইনটি সংশোধন করা হবে-মর্মে প্রথম অধিবেশনে জানানো হয়। এদিকে বর্তমান নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দুদক পুনর্গঠনের পথে হাটছে বিধায় কিছুটা সময় লাগবে-বলে মনে করছেন সংস্থাটির সাবেক সিনিয়র আইনজীবী দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালিন সরকার বিদায় নেয়ার পর- কোন্ধসঢ়; আইনে দুদক পুনর্গঠন হবে-এ প্রশ্নে একটি ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছিলো। এখন সরকার যেহেতু বিদ্যমান আইনের পথে হাটছে, সেহেতু কিছুটা সময় লাগবে। আইনি প্রক্রিয়ায় (সার্চ কমিটি) অতীতে সরকারের ‘পছন্দসই’ ব্যক্তিদেরই নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ফলে সংস্থাটি কাঙ্কিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। এ সরকারও যদি তাই করে সে ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে-সংশয় রয়েছে। সিনিয়র এই আইনজ্ঞের মতে, দুদকে আইনগত কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। বিদ্যমান আইনই যথেষ্ট। অভাব শুধু রাজনৈতিক সদিচ্ছা, দক্ষ ও অভিজ্ঞ জনবলের। দুর্নীতিবিরোধী যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকার মানুষের ভোট নিয়েছে, সেই প্রতিশ্রুতি অটুট রাখতে হলে এখানে কোনো দলীয় আনুগত্য নয় মেরুদ- সম্পন্ন কমিশন প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠানটিকে আমলা পুনর্বাসন কেন্দ্রে পরিণত করলে পরিণতি আগের মতোই হবে। বর্তমান সরকারের মধ্যে এমন মেরুদ-সম্পন্ন লোকের অভাব নেই। অভাব হচ্ছে সঠিক ব্যক্তিদের ‘পিক’ করার।



