প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে জাবি উপাচার্যের বাসভবনে শিক্ষার্থীদের অবস্থান

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্তকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম পার হওয়ার পর প্রক্টর অধ্যাপক রাশিদুল আলমসহ পুরো প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগের দাবিতে ফের আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার (১৫ মে) রাত ১টা থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি শনিবার (১৬ মে) সকালেও অব্যাহত রয়েছে।
শিক্ষার্থীরা বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান করছেন। ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের হল ও টারজান চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি বিভিন্ন ছাত্রী হল প্রদক্ষিণ করে চৌরঙ্গী হয়ে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এরপর শিক্ষার্থীরা সেখানে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আজ শনিবার সকালেও তারা সেখানে অবস্থান ধর্মঘট চালিয়ে যাচ্ছেন। আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীরা ‘এক দুই তিন চার, প্রক্টর তুই গদি ছাড়’, ‘দড়ি ধরে মারো টান, প্রক্টর হবে খান খান’, ‘এক দুই তিন চার, লজ্জা থাকলে গদি ছাড়’সহ বিভিন্ন প্রক্টর-বিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন। আন্দোলনে অংশ নেওয়া দর্শন বিভাগের ৫১ ব্যাচের শিক্ষার্থী তাজনিন নাহার তাম্মি বলেন, ‘এই প্রক্টরের সময়ে যতগুলো ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর কোনো সুষ্ঠু সমাধান আমরা দেখতে পাইনি। এই ব্যর্থ প্রক্টরকে আমরা আর দায়িত্বে দেখতে চাই না।’ ইতিহাস বিভাগের ৫৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী লামিশা জামান বলেন, ‘প্রক্টর পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা মেয়েরা এখানে অবস্থান করব। আমরা আমাদের জায়গা ছাড়ব না। একই সঙ্গে অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে।’ এদিকে আন্দোলন শুরুর পর রাত আড়াইটার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক হিসেবে শিক্ষার্থীদের দাবির যৌক্তিকতা আছে। তবে কোনো অপরাধে প্রক্টরকে অব্যাহতি দিতে হলে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। বহিরাগত কারও অপরাধ হলে তা ফৌজদারি অপরাধ এবং এটি মূলত পুলিশের এখতিয়ারভুক্ত।’ উপাচার্য আরও বলেন, ‘আমরা চাই শিক্ষার্থীরা আমাদের সামান্য সময় দিক। কার গাফিলতি আছে তা তদন্ত কমিটি গঠন করে বের করা হবে।’ তবে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের এই প্রস্তাব ও আশ্বাস প্রত্যাখ্যান করে তাদের অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যান। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর সকাল ৭টায় ইকোনমিকস বিভাগের ৪৯তম আবর্তনের শিক্ষার্থী বৃত্ত বলেন, ‘প্রক্টরিয়াল বডির ব্যর্থতার কারণে আমরা রাত থেকে এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি। প্রক্টরের পদত্যাগ ছাড়া আমরা এখান থেকে এক চুলও নড়ব না।’ উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১২ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল সংলগ্ন চারুকলা এক্সটেনশন এলাকায় এক নারী শিক্ষার্থীকে রাস্তা থেকে টেনে নিয়ে জঙ্গলে ধর্ষণচেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় বুধবার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে আশুলিয়া থানায় মামলা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শিক্ষার্থীরা ওইদিনই ৫ দফা দাবিতে আন্দোলনের ডাক দিয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দেন। সেই সময়সীমা পার হওয়ার পরও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় তারা নতুন করে এই কঠোর আন্দোলনে নামেন।



