স্থানীয় সংবাদ

হ্যাচারি স্থাপনসহ সমবায়ের ভিত্তিতে মৎস্যখাতের উন্নয়নে সবকিছু করা হবে : আলী আসগার লবি

# ডুমুরিয়ায় ফোয়াবের কর্মশালা অনুষ্ঠিত #

স্টাফ রিপোর্টার : খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলি আসগার লবি বলেছেন, খুলনা অন্চলে গলদা চিংড়ির পোনা প্রাপ্তি এবং উৎপাদিত মাছ বাজারজাত করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এ কারণে চিংড়ি ও মৎস্য সেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তোরণ করতে হলে ডুমুরিয়ায় হ্যাচারি স্থাপনসহ প্রয়োজনে খামারিদের সঙ্গে সমবায়ের ভিত্তিতে বিনিয়োগ করে মৎস্যখাতের উন্নয়নে সবকিছু করা হবে।
তিনি বলেন, মৎস্য ও কৃষি সেক্টরের উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতিমধ্যেই খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছেন। সরকার মৎস্য চাষীদের পাশে রয়েছে। তিনি মৎস্য সেক্টরে চাঁদাবাজি বন্ধসহ মৎস্য চাষীদের ন্যায্য মূল্য পেতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
শনিবার (১৬ মে) সকাল বেলা ১১ টায় খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ১০ নং ভান্ডারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ‘চিংড়ি ও মৎস্য খাতে রপ্তানি বাণিজ্য প্রসারে ই-ট্রেসেবিলিটি সিস্টেম বাস্তবায়নের শুরুত্ব’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল এবং ফিস ফার্ম ওনার্স এসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ফোয়াব) এর অর্থায়নে খুলনা বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের সহযোগিতায় ও ফিস ফার্ম ওনার্স এসোসিয়েশন ফোয়াবের বাস্তবায়নে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ফিস ফার্ম ওনার্স এসোসিয়েশন- ফোয়াব সভাপতি মোল্লা সামছুর রহমান শাহীন।
কর্মশালয় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলী আসগার লবি আরো বলেন, আমাদেরকে গাফিলতির কারনে বিদেশে আমাদের চিংড়ির সুনাম নষ্ট হয়েছে। কারণ সামান্য লাভের জন্য লোহা ও জেলি পুশ করা হতো। যদিও এখন এটা কমেছে। এ কারণে আমাদেরকেই হারানো সুনাম ফিরিয়ে আনতে হবে। এ জন্য মানসম্মত পোনা উৎপাদন করতে হবে। সরকারি ভাবে ডুমুরিয়ায় একটি হ্যাচারি করার আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি তিনি নিজ উদ্যোগে একটি ফিশ ফিড কারখানা স্থাপনেরও প্রতিশ্রুতি দেন। সর্বপরি তিনি মৎস্য সেক্টরের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য ফোয়াবের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন।
এছাড়াও মৎস্য পরিবহনে চাষীদের সুবিধার্থে একটি গাড়ী ক্রয়, কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ, ফোয়াবের প্রস্তাবিত মৎস্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়েও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি মৎস্য চাষীদের বীমার আওতায় আনা এবং পাইকারি মাছ বিক্রির ক্ষেত্রে ৪৪ কেজির পরিবর্তে ৪০ কেজি করার বিষয়েও জোর আশ্বাস দেন। এসব কাজ বাস্তবায়নের জন্য তিনি ডুমুরিয়ায় মৎস্য এবং বাণিজ্য মন্ত্রীকে আনার কথাও বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন ডুমুরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাস। প্রধান আলোচক ছিলেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার সোহেল মো. জিল্লুর রহমান রিগান।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফোয়াবের ই-ট্রেসেবিলিটি পাইলট প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মৎস্যবিদ মো. মনিরুজ্জামান। উপস্থিত ছিলেন ফোয়াবের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ব্রজেন হালদার, যুগ্ম সম্পাদক শেখ শাকিল হোসেন, অর্থ সম্পাদক শাফায়াত হোসেন শাওন, ফোয়াবের খুলনা আঞ্চলিক কমিটি সদস্য সচিব মো. জসিম উদ্দিন খাজা, শাজাহান সিরাজ সাজু, খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য নিত্যনন্দ মন্ডল, খুলনা জেলা কৃষক দলের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোল্লা কবির হোসেন, ডুমুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আছের আলী, ভান্ডারপাড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মহিউদ্দিন আহমদ, ভান্ডারপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোল্লা একরামুল ইসলাম, ডুমুরিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক শেখ শাহিনুর রহমান, ডুমুরিয়া উপজেলা যুবদলের আহবায়ক জিয়াউর রহমান জীবন, কোষ্টালমেন্ট পার্টনারশিপের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আমুন, মৎস্যচাষি ও সাবেক ইউপি সদস্য লোকেশ মন্ডল, অশোক মন্ডল, কমলেশ মন্ডল প্রমুখ।
কর্মশালায় অংশ নিয়ে মৎস্য চাষীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেক্টরের প্রতিনিধিরা চিংড়ি ও মৎস্য খাতের উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। তারা বলেন, ভালো মানের পোনা এবং খাবার সরবরাহ করতে হবে। একই সঙ্গে ডুমুরিয়া এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসন এবং প্রয়োজনীয় পানির চাহিদা মেটাতে হবে। এজন্য তারা চিংড়ি ও মৎস্য সেক্টরে ই-ট্রিসেবিলিটি বাস্তবায়নে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button