রূপসায় হুমকি-ধমকি ও খুন জখমের ভয়ভীতি : থানায় লিখিত অভিযোগ

# ন্যায়বিচারের দাবি ভুক্তভোগীর
স্টাফ রিপোর্টার : রূপসার তিলকে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে হুমকি-ধমকি ও খুন জখমের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিলক এলাকার মৃত. দেলদার আহম্মেদ এর ছেলে মো. ফয়জুল করিম লাভলু ও মো. মঞ্জুরুল করিম বাবলু সহ অজ্ঞাতনামা ২-৩ জনের বিরুদ্ধে রূপসা থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী মো. ইমরান শেখ এ লিখিত অভিযোগটি দাখিল করেছেন। লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, রূপসা উপজেলার ৪নং টিএসবি ইউনিয়নের তিলক এলাকার মো. ইমরান শেখ (৩৪) তার পিতা মৃত, আশরাফ আলী শেখের ক্রয় সূত্রে পাওয়া জমি নিয়ে দীর্ঘ শত্রুতা চলে আসছে। প্রায়ই উক্ত জমির বাঁশ জোরপূর্বক কেটে নিয়ে যায় প্রতিপক্ষরা। এমনকি এলাকার লোকজন উক্ত বিষয়ে শালিস বিচার করলেও প্রতিপক্ষরা ওই জমি জোরপূর্বক দখল করার পায়তারা করে আসছে। ফলে শত্রুতার জের ধরে বিবাদীদ্বয় বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের লোকজনদের হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে। এমনকি এ বছরের ৩ এপ্রিল সকাল আনুমানিক ১০ টায় উপজেলার তিলক এলাকার মৃত. দেলদার আহম্মেদ এর ছেলে মো. ফয়জুল করিম লাভলু (৩৭) ও মো. মঞ্জুরুল করিম বাবলু (৪৮) সহ অজ্ঞাতনামা ২-৩ জন একত্রিত হয়ে হাতে লোহার সাবল, বড় গাছ কাটা দা ও দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে উক্ত জমিতে গিয়ে জোরপূর্বক ঘেঁরা বেঁড়া দিতে থাকে। ভুক্তভোগীরা ওই সময় লোকমাধ্যমে সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিপক্ষদের বাঁধা দিলে তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ সহ প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করেন। খুন জখম ও হুমকিধামকির বিষয়ে রূপসা থানায় উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ হলে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে দু’পক্ষের মধ্যে সমোঝোতা হয়। এমনকি জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষকে সমোঝোতা করে নেওয়ার জন্য সুপরামর্শ দেন থানা পুলিশ। এদিকে, এর আগে বিরোধের জের ধরে ২০২৩ সালের ২০ জুন তিলক সিএসএস হাসপাতালের সন্নিকটে ভুক্তভোগী মো. ইমরান শেখকে দেখে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং খুন জখমসহ জীবন নাশের হুমকি প্রদান করে। পরে ভুক্তভোগী ইমরান শেখের ছোট ভাই মো. নিজাম শেখ প্রতিপক্ষ ফয়জুল করিম লাভলু ও মঞ্জুরুল কবির বাবলুর বিরুদ্ধে রূপসা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। যার নং-১০৫৩। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মো. ইমরান শেখ বলেন, রূপসা থানা পুলিশ, স্থানীয় মেম্বর ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে দু’পক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দখলকৃত নিজস্ব বাঁশের ঝাড় ঘেঁরা দেওয়া বেঁড়া উচ্ছেদ করি। কিন্তু পরবর্তীতে বিবাদীরা আমাদেরকে হিংসাবসত কুমন্ত্রের ফাঁদে ফেলে নাটকীয় কায়দায় বিভিন্ন ভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করে আসছে। উল্লেখিত বিষয়টি নিয়ে আমাদের মানসম্মান ক্ষুন করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও বিভিন্ন স্থানে মৌখিক ভাবে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন ঘটনা অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। আমি এ সাজানো মিথ্যা মনগড়া ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। সেই সাথে ন্যায়বিচারের দাবি জানাই। প্রতিপক্ষ মো. ফয়জুল করিম লাবলুর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ২ তারিখে অভিযোগ করি। গত সপ্তাহে দু’পক্ষের উপস্তিতিতে থানার এস আই ইমরান, এস আই জাকির, স্থানীয় মেম্বর ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে মিমাংসা হয়। আগামী ৬ জুন আমিন এনে মাপার আগেই জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আমার মাকে প্রতিপক্ষ ইমরানসহ তারা সকলে মারধর করে। আমি এঘটনার সঠিক বিচার চাই। তা-না হলে আদালতে ওদের বিরুদ্ধে মামলা করবো। রূপসা থানা পুলিশের এস আই মো. ইমরান খান বলেন, খুন জখম ও হুমকিধামকির বিষয়ে রূপসা থানায় লিখিত অভিযোগ হয়। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে দু’পক্ষের মধ্যে সমোঝোতা হয়। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টিও উভয় পক্ষকে জমি মেপে সমোঝোতা করে নেওয়ার জন্য সুপরামর্শ প্রদান করেন তিনি।



