জাতীয় সংবাদ

আপনারা বিচার করতে পারবেন না: রামিসার বাবা

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ ‘আপনারা বিচার করতে পারবেন? পারবেন না। কোনো স্টেপ (পদক্ষেপ) নেবেন? আপনি পারবেন না। আপনারা পারবেন না। এটা বড়জোর ১৫ দিন। এরপর আরেকটা বড় ঘটনা ঘটবে, এটা ধামাচাপা পড়ে যাবে। শেষ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সামনে এমনই আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন রাজধানীর পল্লবীতে নৃশংসভাবে খুন হওয়া ৭ বছরের শিশু রামিসা আক্তারের বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা। গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পল্লবীর মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন একটি পাঁচতলা ভবনের তিনতলার ফ্ল্যাটে খুন হয় রামিসা। স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়তো রামিসা। ওই ভবনে নিজেদের ফ্ল্যাটের পাশের ফ্ল্যাট থেকে রামিসার খ-িত লাশ উদ্ধার করা হয়। রামিসাকে হত্যার ঘটনায় মূল সন্দেহভাজন প্রতিবেশী সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রাথমিক তদন্ত শেষে বলছে, দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারকে প্রথমে ধর্ষণ করা হয়। এরপর ধারালো ছুরি দিয়ে তার মাথা বিচ্ছিন্ন করে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। তদন্তের কাজে রামিসার বাসায় যাওয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের আবদুল হান্নান মোল্লা বলেন, এই ভবনে কারও সঙ্গে আমার কথা নাই, পরিচিত নাই, কাউকে আমি চিনি না। এ ভবনে আমি ১৭ বছর থাকি। কারও সাথে মিশি না। এই মহল্লারও কারও সঙ্গেও মিশি না। এটা আমার ব্যক্তিগত চিন্তা থেকে আমি একা চলি। শুধু একটা বন্ধু আছে, তার সঙ্গে দোকানে চা খাই, রাত ৮-৯টার দিকে চলে আসি। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত দম্পতি মাত্র দুই মাস আগে উল্টো দিকের ফ্ল্যাটে ভাড়া আসেন। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খুঁজতে গিয়ে তার মা ওই ফ্ল্যাটের দরজার সামনে মেয়ের স্যান্ডেল দেখতে পান। রামিসার মা যখন দরজায় নক করছিলেন, তখন ভেতরে হত্যাকা-টি ঘটানো হচ্ছিল। মূল আসামি সোহেল রানা যেন পালাতে পারেন, সেই সুযোগ করে দিতে স্ত্রী স্বপ্না দীর্ঘক্ষণ দরজা বন্ধ রাখেন। তিনি আরও জানান, ধারণা করা হচ্ছে প্রতিবেশীর বিকৃত যৌনলালসার শিকার হয়েছিল শিশুটি। নির্যাতন বা রক্তক্ষরণের বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ার ভয়েই তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে আলামত গোপন ও মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে শিশুটির মাথা ও হাত কেটে ফেলা হয়েছিল। তবে ধর্ষণের বিষয়টি ময়নাতদন্ত ও কেমিক্যাল রিপোর্টের পর পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button