আমরা ১৭ বছর ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেও মাথা নোয়াইনি: ফখরুল

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা ১৭ বছর ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি, সংগ্রাম করেছি, নির্যাতন সহ্য করেছি, অনেক প্রাণ দিয়েছি, জেল খেটেছি-তবু মাথা নোয়াইনি। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছি। এখন নতুন করে বাংলাদেশ গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে লালমনিরহাট শহরের এমটি হোসেন মাঠে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ গণজাগরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশ বিনির্মাণের সেই আন্দোলন আজ ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর নেতৃত্বে আলোকিত লালমনিরহাট গড়ার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে। মাদকের আগ্রাসনে সমাজ ও তরুণ প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনগণকে সচেতন করে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই এ প্রতিরোধ সম্ভব। তিনি বলেন, আপনারা মাদক, যৌতুক ও জুয়াকে না বলবেন। নিজেদের ভবিষ্যৎকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। ‘জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাও’ আন্দোলন আজ সফলতার পথে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা যেকোনো মূল্যে বাস্তবায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে তিস্তাপাড়ের মানুষের উন্নয়নের নতুন দিগন্ত সূচিত হবে। মাদকসহ সামাজিক অপরাধ দমন করতে পারলে আমরা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে পারব, ইনশাআল্লাহ। সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন-ভাতাসহ নানা কর্মসূচি চালু হয়েছে। লক্ষ্য একটি অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা। লালমনিরহাটে যে সামাজিক অপরাধ দমনের আন্দোলন শুরু হলো তা গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়–ক। লালমনিরহাটের আলো ছড়িয়ে পড়–ক গোটা দেশে সেই প্রত্যশা করছি। ‘আলোকিত লালমনিরহাট’-এর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কর্মসূচির প্রধান পৃষ্ঠপোষক ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক (ডিসি) রাশেদুল হক প্রধানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী এজেড জাহিদ হাসান, লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল, লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য হাসান রাজিব প্রধান, জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) আসাদুজ্জামান, জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম মমিনুল হকসহ অন্যরা। আলোচনা সভা শেষে তিন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের নেতৃত্বে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’-এর শোভাযাত্রা এমটি হোসেন মাঠ থেকে বের হয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে মিশন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।



