জাতীয় সংবাদ

এসএসসি-সমমানের ফল প্রকাশ, হার ৬২.২৫ শতাংশ

কমেছে সার্বিক পাসের হার
ইংরেজি-গণিতে বেশি ফেল, আইসিটিতে সাফল্য

প্রবাহ রিপোর্ট : এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবার পরীক্ষায় গড় পাসের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী। সোমবার সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশের উদ্বোধন করা হয়।
এদিন সকাল ১০টায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশের উদ্বোধন করেন। এ সময় দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান শিক্ষামন্ত্রীর কাছে পরীক্ষার ফল হস্তান্তর করেন।
এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী। গত বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সারাদেশে গড় পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন।
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিল। এর মধ্যে সাধারণ নয়টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি পরীক্ষায় ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন দাখিল পরীক্ষায় ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী ছিল।
এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২১ এপ্রিল। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। আর দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার লিখিত অংশ শেষ হয় ২৪ মে।
সাধারণত লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশ করা হয়। সে হিসেবে গত ২০ জুলাই ফল প্রকাশের কথা থাকলেও এবার প্রায় তিন সপ্তাহ পর ফল প্রকাশ করা হলো।
পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন : ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য ১১ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে। পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।
শিক্ষা বোর্ডগুলো জানিয়েছে, পরীক্ষার্থীরা নির্ধারিত অনলাইন মাধ্যম, এসএমএস অথবা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ফল সংগ্রহ করতে পারবে।
ইংরেজি-গণিতে বেশি ফেল, আইসিটিতে সাফল্য : এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষার্থীরা
চলতি বছরে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ইংরেজি ও গণিতে তুলনামূলক বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। এর বিপরীতে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে সব শিক্ষা বোর্ডেই সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছেন।
ইংরেজি-গণিতে পিছিয়ে শিক্ষার্থীরা : ফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঢাকা বোর্ডে ইংরেজিতে ৭৮ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং গণিতে ৮২ দশমিক ৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছেন।
রাজশাহী বোর্ডে ইংরেজিতে পাসের হার ৭৪ দশমিক ৭ শতাংশ এবং গণিতে ৭৭ দশমিক ১৭ শতাংশ। কুমিল্লা বোর্ডে ইংরেজিতে ৮১ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং গণিতে ৮১ দশমিক ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন।
যশোর বোর্ডে ইংরেজিতে পাসের হার ৭১ দশমিক ৮৪ শতাংশ এবং গণিতে ৮৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ। চট্টগ্রাম বোর্ডে ইংরেজিতে ৭২ দশমিক ২৭ শতাংশ এবং গণিতে ৮০ দশমিক ০৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন।
বরিশাল বোর্ডে ইংরেজিতে ৬৯ দশমিক ২৪ শতাংশ ও গণিতে ৭৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং সিলেট বোর্ডে ইংরেজিতে ৬৯ দশমিক ১১ শতাংশ ও গণিতে ৭৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন।
দিনাজপুর বোর্ডে ইংরেজিতে পাসের হার ৭২ দশমিক ৯১ শতাংশ এবং গণিতে ৭১ দশমিক ০৫ শতাংশ। ময়মনসিংহ বোর্ডে এ হার যথাক্রমে ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ ও ৬৯ দশমিক ৬১ শতাংশ।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ইংরেজিতে ৭৯ দশমিক ২১ শতাংশ এবং গণিতে ৬৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছেন। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ইংরেজিতে পাসের হার ৯৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ, তবে গণিতে তা ৭০ দশমিক ৯২ শতাংশ।
অধিকাংশ বোর্ডেই ইংরেজি ও গণিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। বিশেষ করে, ময়মনসিংহ, সিলেট, বরিশাল ও দিনাজপুর বোর্ডে ইংরেজিতে পাসের হার তুলনামূলকভাবে কম।
আইসিটিতে স্বস্তি : ইংরেজি ও গণিতে যখন বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী আটকে গেছেন, তখন আইসিটি বিষয়ে দেখা গেছে বিপরীত চিত্র। ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, সব শিক্ষা বোর্ডেই আইসিটি বিষয়ে সর্বোচ্চ সংখ্যক শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছেন।
প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বাড়তি সম্পৃক্ততা এবং বিষয়টির তুলনামূলক ব্যবহারিক চরিত্রের কারণে আইসিটিতে ভালো ফল হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সার্বিক পাসের হার কমেছে : এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী।
গত বছর সারা দেশে গড় পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন।
এক বছরের ব্যবধানে এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুই ক্ষেত্রেই বড় পতন হয়েছে। নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার গড় পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৬৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। ফলে, সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে পাসের হার কমেছে ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশীয় পয়েন্ট।
এবারের ফল প্রকাশের পর শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, “ফলাফল খারাপ নয়, বরং সুন্দর হয়েছে।”
তিনি বলেন, “মন খুলে গান গাওয়া যায়, মন খুলে তো আর নম্বর দেওয়া যায় না।”
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহাদী আমিন জানিয়েছেন, কৃত্রিমভাবে জিপিএ বা নম্বর বাড়ানোর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধা, যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে এবার মূল্যায়ন করা হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button