জনবল সংকটে খুঁড়িয়ে চলছে কয়রার শিক্ষা অফিস

১১ পদের ৭ জন শুন্য ভোগান্তিতে দাপ্তরিক কার্যক্রম
রিয়াছাদ আলী, কয়রা (খুলনা) ঃ উপকূলীয় জনপদ খুলনার কয়রা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকটে ভুগছে। প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভাবে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনায় হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। এতে উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম, তদারকি ও বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে চাপ বাড়ছে। জনবল সংকট লাঘবে জরুরী পদক্ষেপ গ্রহনের দাবি উঠছে। উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, অফিসটিতে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার পাঁচটি পদ থাকলেও কর্মরত রয়েছেন মাত্র তিনজন। এ ছাড়া উচ্চমান সহকারীর একটি, হিসাব সহকারীর একটি, অফিস সহকারীর দুটি এবং এমএলএসএসের একটি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে প্রয়োজনীয় জনবল ছাড়াই চলছে অফিসের নিয়মিত কার্যক্রম। বহিরাগত লোক দিয়ে জরুরি সেবার কাজ করে নিতে হচ্ছে এমন দাবি সংশ্লিষ্টদের। শিক্ষা অফিসের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য থাকায় কর্মকর্তাদেরকে অফিস সহায়কের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। একদিকে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন ও শিক্ষার মান তদারকি, অন্যদিকে দাপ্তরিক নথিপত্র সংরক্ষণ, হিসাব-নিকাশ এবং প্রশাসনিক কাজ সামলাতে গিয়ে বাড়ছে কাজের চাপ। এতে স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। কয়রা উপজেলার ১৪২ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এ সকল বিদ্যালয়গুলো ৮৭৪ জন শিক্ষক রয়েছে। আছে হাজার হাজার শিক্ষার্থী। উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন, শিক্ষকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান এবং সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে উপজেলা শিক্ষা অফিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় এসব কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালনা করা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। বেদকাশি বতুল বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তফা জামাল উদ্দিন বলেন, শিক্ষা অফিসে লোকবল সংকটের কারনে অনেক সময় নানা সমস্যার সন্মুখীন হতে হয়। সব পদে লোকবল না দেওয়া গেলেও অচিরেই অফিস সহকারি ও কম্পিউটার অপারেটরের প্রয়োজন। এতে করে একটু হলেও ভোগান্তি কমবে। মদিনবাদ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তফা শহীদ সরোয়ার বলেন, অফিসের অনেক পদখালী এটি দির্ঘদিনের সমস্যা। প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম গতিশীল রাখতে উপজেলা শিক্ষা অফিসে শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংকট নিরশন করা হলে বিদ্যালয় পরিদর্শন, শিক্ষকদের দাপ্তরিক কাজ এবং শিক্ষাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। উপজেলা শিক্ষা অফিসার তপন কুমার কর্মকার বলেন, জনবল সংকটের কারনে অনেক কাজ করতে বিঘœ সৃষ্টি হয়। বর্তমানে বহিরাগত লোকদের মাধ্যমে অফিসের জরুরি কার্যক্রমগুলো চালানো হচ্ছে। জনবল সংকটের বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষদের জানানো হয়েছে। অচিরেই এই সমস্যার সমাধান করা দরকার।



