স্থানীয় সংবাদ

দৌলতপুরে ভ্রাম্যমান চেকপোষ্টে পুলিশের উপর চড়াও, সরকারি কাজে বাঁধা : ‘ভুয়া’ সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার!

# আসামীর বিরুদ্ধে পুলিশের কাজে বাঁধা দেওয়ার অপরাধে মামলা
# অপরাধ নিয়ন্ত্রনে নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান অব্যহত আছে : পুলিশ

স্টাফ রিপোর্টার : খুলনায় মাদকের অবাধ বিচরণ, সন্ত্রাসীদের আধিপত্য বিস্তারে অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির কারণে ওই গোষ্ঠী মাথাচাড়া দিয়ে ওঠেছে। একের পর এক হত্যাকা-, হত্যা প্রচেষ্টা, কুপিয়ে জখম, চাঁদাবাজিসহ নানামুখি অপরাধমূলক কর্মকা-ের ঘটনায় এক সময়ের শান্তির নগরী হিসাবে পরিচিত খুলনা এখন সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে খুলনার আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাস বিরোধী কার্যক্রমসহ নানামুখী অপরাধ নিয়ন্ত্রণে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কঠোর তৎপরতা চালাচ্ছে। মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে কেএমপি। ওই ধারাবাহিকতায় কেএমপির গুরুত্বপূর্ণ দৌলতপুর থানা এলাকার মানিকতলা সেনপাড়া শাহজাদপুরী ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপ এর সামনে বৃহস্পতিবার ভ্রাম্যমান চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাসী অব্যহত রাখে দৌলতপুর থানা পুলিশ। পুলিশের চোখে ধূলা দেওয়ার চেষ্টা, তাদের উপর চড়াও, মারমুখি ব্যবহার ও সরকারি কাজে বাঁধা প্রদান করেও শেষ রক্ষা হয়নি, নিজেকে সেনাবাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া ভুয়া কর্মকর্তার। ওই প্রতারকের আসল পরিচয় পাওয়া পর পুলিশ আসামীকে গ্রেপ্তার করে। অতঃপর ভূয়া সেনা কর্মকর্তা সাজা প্রতারক, সরকারি দায়িত্বপালনে বাঁধা দেওয়া আসামীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শুক্রবার গ্রেপ্তারকৃত আসামীকে আদালতে সোর্পদ করা হয়, বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদী এসআই মো. জামিরুল ইসলাম। দৌলতপুর থানা পুলিশের ভ্রাম্যমান চেকপোস্টে তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করেন দৌলতপুর থানার কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তা এসআই মোঃ জামিরুল ইসলাম, সঙ্গীয় অফিসার এসআই মোঃ আল ইমরান, এসআই মোহাম্মাদ নাসির উদ্দিন মিয়া, এএসআই মোঃ ইনামুল হোসেন, এএসআই মোঃ সাইদুল ইসলামসহ পুলিশ সদস্যবৃন্দ। পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, দৌলতপুর থানাধীন সেনপাড়া শাহজাদপুরী ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপ এর সামনে বৃহস্পতিবার ভ্রাম্যমান চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি অব্যহত রাখে পুলিশ। ওই সময়ে এক মোটরসাইকেল চালককে তল্লাশীর জন্য গাড়ী থামাতে বললে, তিনি গাড়ী না থামিয়ে নিজেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরিচয়ে ক্ষমতার প্রভাব দেখাতে শুরু করেন। চেকপোষ্টের দায়িত্বরত কর্মকর্তা ওই ব্যক্তিকে সেনাবাহিনীর কোন পদে এবং কোথায় কর্মরত আছেন? জানতে চাইলে তিনি পুলিশের উপর চড়াও, ও মারমুখি হয়ে ওঠেন। অতঃপর পুলিশ কঠোর অবস্থান নিয়ে ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে তিনি ভুয়া সেনা কর্মকর্তা বলে জনসম্মুখে স্বীকার করলে পুলিশ আসামীকে গ্রেপ্তার এবং তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলও আটক করেন। গ্রেপ্তারকৃত আসামী হলেন- দৌলতপুর থানাধীন কার্তিককূল বৌ-বাজার এলাকার বাসিন্দা মো. বাকু মোল্লার ছেলে মোঃ সুজক মোল্লা (৩০)। দৌলতপুর থানার কর্মরত এসআই মো. জামিরুল ইসলাম বাদী হয়ে আসামীর বিরুদ্ধে ভুয়া পরিচয় দিয়ে সরকারি কাজে দায়িত্বপালনের সময় বাঁধা দেওয়া, পুলিশের উপর চড়াও, মারমুখি হওয়ার অপরাধে মামলা দায়ের করেন (মামলা নং- ৭)।
এ বিষয়ে মামলার বাদী এসআই মো. জামিরুল ইসলাম প্রবাহকে জানান, ভ্রাম্যমান চেকপোষ্ট বসিয়ে আমরা তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করছি। ওই সময় মোটরসাইকেল যোগে আসা ব্যক্তিকে দাঁড়াতে বললে তিনি নিজেকে সেনাবাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দেন এবং আমাদের উপর মারমুখি চড়াও হন। তাকে সন্দেহজনক মনে হলে সঙ্গীয় ফোর্সের মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করার একপর্যায়ে নিজেকে ভুয়া সেনা কর্মকতা বলে অকপটে স্বীকার করেন। অতঃপর আসামীকে গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করি। এবিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই তন্ময় কুমার বসু প্রবাহকে জানান, দৌলতপুর থানা পুলিশের ভ্রাম্যমান চেকপোস্টে গ্রেপ্তার হওয়া ভুয়া সেনা কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া ব্যক্তির বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামীকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং মামলার তদন্তের কার্যক্রম চলমান আছে। এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি (তদন্ত) এএফএম জাহিদুল ইসলাম প্রবাহকে জানান, দৌলতপুর মানিকতলা এলাকায় বসানো ভ্রাম্যমান চেকপোস্ট হতে ভুয়া এক সেনা কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিকে আমরা আটক করি। তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা রুজু পূর্বক আদালতে সোর্পদ করা হয় এবং মামলা তদন্ত কার্যক্রমও চলমান আছে। দৌলতপুর থানা এলাকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান অব্যহত আছে এবং গুরুত্বপূর্ন পয়েন্টগুলোতে নিয়মিত ভ্রাম্যমান চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button