সম্পাদকীয়

পলিথিন নিষিদ্ধ আইনের বাস্তবায়ন চাই

রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ব্যাপকহারে ব্যবহার হচ্ছে ক্ষতিকর নিষিদ্ধ পলিথিন। পলিথিনের বহুবিধ ব্যবহারের কারণে মানবদেহে বাসা বাঁধছে ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগ। পলিথিন যে আসলে অবৈধ, সেটি বোঝার কোনো উপায় নেই। বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাতে হাতে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ব্যাগটি। পাইকারি আর খুচরা দোকানগুলো প্রকাশ্যেই, কারখানাগুলোও গোপন না। রাজধানীসহ সারা দেশে নিষিদ্ধ পলিথিন তৈরীর প্রায় এক হাজার দুই শত কারখানা রয়েছে। এগুলোর বেশীর ভাগই পুরান ঢাকা কেন্দ্রিক। পুরান ঢাকার অলি-গলিতে রয়েছে প্রায় তিন শত কারখানা। কেরানীগঞ্জ, জিঞ্জিরা, কামরাঙ্গীরচর, মিরপুর, কারওয়ান বাজার, তেজগাঁও, টঙ্গীতে ছোট-বড় বেশ কিছু কারখানা রয়েছে। যাত্রাবাড়ী থেকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা পর্যন্ত বুড়িগঙ্গার পাড় ঘেঁষে গড়ে উঠেছে শতাধিক কারখানা। ঢাকা ও আশেপাশের এলাকা ছাড়াও চট্রগ্রামসহ জেলা শহরগুলোতে গড়ে উঠেছে শত শত পলিথিন কারখানা। ‘জরুরী রপ্তানি কাজে নিয়োজিত’ লেখা যানবাহনে করে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হচ্ছে নিষিদ্ধ পলিথিন। ঢাকা শহরে একটি পরিবার প্রতিদিন গড়ে পাঁচটি পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করে। সে হিসেবে শুধুমাত্র ঢাকা শহরে প্রতিদিন আড়াই কোটির বেশী পলিথিন ব্যাগ একবার ব্যবহার করে ফেলে দেয়া হয়। এগুলো দ্বারা ড্রেন, নালা-নর্দমা, খাল, ডোবা ইত্যাদি ভরাট হয়ে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে এবং সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার প্রকোপ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এছাড়াও দেশে প্রতিদিন ৩৫ লাখের বেশী টিস্যু ব্যাগ উৎপাদন ও বাজারজাত হচ্ছে। এসব ব্যাগ পলিথিনের হলেও কাপড়ের ব্যাগ হিসেবে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে। শপিং মল, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, কাপড়ের দোকান, জুতার দোকান, ফ্যাশন হাউজ, বিভিন্ন কোম্পানিসহ সারা দেশের বাণিজ্যিক বিতানগুলো টিস্যু ব্যাগ ব্যবহার করছে। নিষিদ্ধ পলিথিন ও টিস্যু ব্যাগ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের ফলে কাগজ, পাট ও কাপড়ের ব্যাগের উৎপাদন ও ব্যবহার নেই বললেই চলে। আইন প্রয়োগে শিথীলতা এবং জনসচেতনতা ধরে রাখার ব্যর্থতার কারণে পলিথিন সমহিমায় আবার তার পূর্বের অবস্থান ফিরে আসে। এমনকি আগের চেয়েও বেশি ব্যবহার হচ্ছে। প্রশাসনের সঠিক তদারকির অভাবে দেশে এখন পলিথিন ও প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার বেড়েই চলেছে। এ ক্ষেত্রে আইনের কার্যকর প্রয়োগ না থাকায় মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য। তাই পলিথিন ও প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। ফলে পলিথিন নিষিদ্ধের আইনের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির পদক্ষেপ নিতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button